ফয়েজুল কবির সজিব
বাংলাভাষা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী ভাষা। বর্তমান বিশ্বে যতগুলো ভাষা ব্যবহার হয় তার মধ্যে বাংলা ভাষা সপ্তম অবস্থানে রয়েছে। প্রায় চব্বিশ কোটি মানুষের মুখের ভাষা এই বাংলা। অথচ এই ভাষার সম্মান আমাদের কাছে খুব বেশি নয়। বাংলা বাক্যের মাঝে আমরা অন্য ভাষার শব্দ জুড়ে দেই। এখন টাইম হবে না, পরে কলব্যাক করব, লাইফটা কেমন অগোছালো হয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি। এভাবেই প্রতিনিয়ত প্রতিমুহূর্তে আমরা বাংলাভাষার অসম্মান করে যাচ্ছি।
বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত আমাদের ত্যাগ স্বীকার ছিল এই ভাষাকে রক্ষার জন্যে। অথচ আমরা সেটার সম্মান দিতে ব্যর্থ হচ্ছি। এতো লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষের রক্তের মূল্য আমাদের কাছে নেই বললেই চলে। যাদের সাহসী ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ নিজ ভাষায় কথা বলতে পারছি, স্বাধীন দেশে বসবাস করতে পারছি তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমরা হারিয়ে ফেলেছি।
ইংরেজি ভাষায় পান্ডিত্য অর্জন করা ব্যতীত আমাদের যেন উপায়ন্তর নেই। বাংলা নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলবে। আপনি যত পাশ্চাত্য সংস্কৃতিকে বুকে ধারণ করতে পারবেন আপনি ততই মর্যাদাশীল হয়ে উঠবেন বর্তমান বাংলাদেশে।
বাংলাভাষাকে আড় চোখে দেখা মানুষের অভাব নেই। বাংলা অনেক কঠিন, ইংরেজি অনেক সহজ এসব কথা শুনে-শুনেই বড় হয়েছি। এইটুকু নিশ্চিতভাবে বলা যায়, বাংলায় কথা বলে যে তৃপ্তি পাওয়া যায় সেটা পৃথিবীর অন্য কোনো ভাষায় কথা বলে তৃপ্তি মেটানো সম্ভব হবে না।
অনেক পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বর্তমান বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা দেওয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশতেই বাংলাভাষা বিষয়ক কোনো বিভাগ চালু নেই। অথচ এটাই সর্বপ্রথম চালু করার কথা ছিল। বাংলা নিয়ে গবেষণা করা মানুষের সংখ্যাটা খুব বড় নয়, একদম নগণ্য। চাকরি বা অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক স্থানে বাংলাভাষার কদর নেই, আছে ইংরেজি ভাষার প্রতি কঠিন মনোযোগ। একজন সমালোচক বলেছিলেন, বর্তমানে ইংরেজি আর কম্পিউটার জানা না থাকলে ভবিষ্যত্ অন্ধকার। কথাটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত সেটা সে হয়ত ভালো জানেন।
বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে সবার আগে বাংলা, তারপর আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃত ইংরেজি ভাষা। যদি একই সঙ্গে বাংলা ও ইংরেজি নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা হয় তাহলে বাংলাই আগে প্রাধান্য পাবে। আমরা সংবিধানকে তো অবমাননা করছি তার সঙ্গে ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া মানুষগুলোকেও। ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করা অতীব জরুরি। সঙ্গে এই ভাষাকে পৃথিবীর অনন্য চূড়ায় স্থান আমাদেরকেই দিতে হবে।
লেখক : শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

