বিজ্ঞানের অগ্রগতিকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবী এগিয়ে চলেছে। বিশ্ব যখন এগিয়ে চলছে তখন আমরা কেন পিছিয়ে থাকব। আমাদেরও আধুনিকতার যুগে প্রবেশে বিজ্ঞানের সর্বশেষ অগ্রগতি ও সব সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের শিশু ও তরুণ প্রজন্মকে যুগোপযোগী বিজ্ঞান ভিত্তিক আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে।
দুঃখজনক হলেও সত্য, চব্বিশের আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীরা অনেকটা বই বিমুখ হয়ে পড়েছে। অটো পাস পেয়ে অনেকে বইমুখী হতে চাচ্ছে না। তাদের মধ্যে নেতা নেতা ভাব কাজ করছে। অনেকে আন্দোলন করছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে। নিজের এবং নিজেদের শিক্ষা ও শিক্ষার মান নিয়ে কারো যেন মাথা ব্যথা নেই।
ছাত্র নং অধ্যয়নঃ তপঃ। ইদানীং এ বিষয়টি খুব কমই চোখে পড়ছে। পড়ার চেয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে তরুণ শিক্ষার্থীরা বেশি ব্যস্ত। অধ্যবসায় বিষয়টি নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সিলেবাস থেকে হারিয়ে গেছে যেন। অধ্যবসায় মূলত কোনো কাজে বারবার চেষ্টার পর সফলতা লাভ। জীবনের এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সফলতা অর্জন করা যায় না। অথচ সেটার ঘাটতি প্রবল।
ধৈর্য ও অক্লান্ত পরিশ্রম এবং দৃঢ় মনোবল ধারণ করে নিজের কাজে আত্মনিয়োগ করার নামই অধ্যবসায়। অধ্যবসায় একটা মানুষকে, একটা জাতিকে সহজে উন্নত ও সমৃদ্ধির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। অধ্যবসায়ের প্রয়োজনীয়তা মানব জীবনে তথা জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। একটা কথা আছেÑ পারিব না এ কথাটি বলিও না আর, একবার না পারিলে দেখো শতবার। এটাই মূলত অধ্যবসায়ের মূল মন্ত্র। যেখান থেকে আমরা যোজন যোজন দূরে।
উন্নত বিশ্ব আধুনিক বিজ্ঞানকে পুঁজি করে তর তর করে এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের বদলে রোবট দিয় কাজ করাচ্ছে। শত শত মানুষের কষ্টসাধ্য কাজ কয়েকটা রোবট সহজে ও কম সময়ে করে ফেলছে। এমনকি রোবট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে মানুষের অপারেশন পর্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করছে, সেখানে আমরা কতটুকু পারছি। আমরা না পারলেও আমাদের তরুণ প্রজন্ম যেন আধুনিকতার শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না থাকে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।
নতন প্রজন্ম বিজ্ঞান ভিত্তিক সর্বাধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ গড়ার নেতৃত্ব না দিলে আমরা যে পিছিয়ে পড়ব। তখন উন্নত বিশ্ব আমাদের গুরুত্ব দেবে না। এ বিষয়ে যত দ্রুত আমরা যুগোপযোগী কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব- ততই মঙ্গল। শিক্ষায় আমরা অনেক পিছিয়ে। অনেক বিষয়ে কমিশন হলেও শিক্ষা কমিশন কিন্তু হয়নি। শিক্ষা এভাবে অবহেলা করা ঠিক নয়। আমরা সময়ের চাহিদা পূরণে এখনো ক্লালোত্তীর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে দায়িত্বশীলরা।

