ঢাকাSaturday , 20 December 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দখল-দূষণে নাকাল ঢাকা মহানগরী

Link Copied!

ইট-পাথরের মহানগরী ঢাকায় তেমর একটা নেই সবুজের হাতছানি। নেই পানির আধার। বুড়িগঙ্গার পানি খুবই অস্বাস্থ্যকর। পানি আলকাতরার রূপ ধারণ করেছে। বের হচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। ঢাকার চারপাশের নদ-নদীগুলোর অবস্থা একই রকম। কল-কারখানা ও হাসপাতালের বর্জ্য, পলিথিন এই অবস্থার জন্য দায়ী। ঢাকার ১৬টি খাল দখল হওয়ায় পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা নাজুক। ফলে মহানগরীতে বৃষ্টির পানির সরতে না পারায় জলাবদ্ধ সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে যানজট ও জনজটে প্রায়ই নাকাল হতে হয় রাজধানীবাসীকে।

অসহনীয় যানজট, ফুটপাত বেদখল, পার্ক, মাঠ আর দখল-দূষণ রাজধানী ঢাকাবাসীর নিত্যসঙ্গী। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান উন্নতি নেই। ফুটপাত-ফুটওভার ব্রিজ নির্বিঘ্ন চলাচলের উপযোগী হয়নি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। নভেম্বার মাসে ডেঙ্গুয় শতাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটেছে। বর্ষায় মহানগরীর বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতেই কাজীপাড়া থেকে মিরপুর ১০ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোয় হাঁটু বা কোমরপানি জমে যায়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পার্ক-মাঠের প্রবেশাধিকার কিংবা পরিবেশগত ঝুঁকি তো আছেই। রাজধানীবাসী দীর্ঘদিন ধরে যে ধরনের অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত পরিষেবার ভোগান্তিতে ছিল, তা না কমে ক্রমেই গাণিতিক হারে বাড়ছে।

মহানগরীর যত্রতত্র খোঁড়াখুঁড়ির কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগের নিরসন হয়নি। রাজধানীবাসীর অভিযোগ এ ধরনের খোঁড়াখুঁড়ি যেন ঢাকার স্থায়ী ‘উন্নয়ন সংস্কৃতি’তে পরিণত হয়েছে, যেখানে কাজের চেয়ে ভোগান্তিই বেশি। ঢাকা শহরের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ মিরপুর এলাকা বর্তমানে সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের আকর। নিত্য খোঁড়াখুঁড়ির কারণে এলাকার প্রধান ভোগান্তি যানজটকে আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। সংকীর্ণ সড়কগুলো এমনিতেই হকার ও দোকানপাটের দখলে। এর সঙ্গে মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন এলাকাগুলোয় যাত্রী ওঠানামার ভিড় এবং অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে পিক আওয়ারে জট এখন অসহনীয় পর্যায়ে।

জনসংখ্যার তুলনায় নাগরিক পরিষেবার নিম্নমান একটি বড় সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ। অলিগলির রাস্তাগুলো প্রায়ই খানাখন্দে ভরা থাকে। পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নগরবাসীর পিছু ছাড়ছে না। অপর্যাপ্ত ডাস্টবিন ও খোলা জায়গায় আবর্জনা ফেলার কারণে রাজধানীজুড়ে দুর্গন্ধে চলা দায়। আর রাতে রাস্তার আলোর অভাবে পথচারীদের নানা সমস্যা পোহাতে হয়। ফলে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোয় চুরি-ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক অপরাধের কারণে নাগরিক নিরাপত্তা প্রায়ই ঝুঁকিতে পড়ে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এদিকে নজর দেওয়া দরকার।

যদিও একটি বাসযোগ্য নগরীর অন্যতম শর্ত হলো নগরীর সব শ্রেণীর মানুষের জন্য সমানভাবে সেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু বর্তমানে অভিজাত শ্রেণীর জন্য কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি এবং ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি বলেন, ‘একজন নগর পিতার অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, এটা সত্যি। নগরীর সবকিছু ঠিক করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এ বিষয়গুলো বাদ দিলেও এমন কিছু মৌলিক কাজ আছে, ইচ্ছে করলেই যেগুলো যেকোনো মেয়রের পক্ষে করা সম্ভব। বিশেষ করে যেসব পার্ক-মাঠ বেদখল আছে, সেগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত করা। কিন্তু আমরা দেখছি, শহীদ তাজউদ্দীন পার্কসহ বিভিন্ন পার্ক আগের মতোই অভিজাতদের লিজ দেয়া হচ্ছে। সে মাঠগুলোতে সোসাইটির মানুষ ছাড়া আর কেউ ঢুকতে পারে না। পার্কগুলো এখনো সবার জন্য উন্মুক্ত হয়নি। অর্থাৎ সবার জন্য বাসযোগ্য নগর গড়া যায়নি।

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠ-পার্ক উন্মুক্তকরণ হলে সবচেয়ে দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেত, কারণ এটি নাগরিক সুস্বাস্থ্য, সামাজিক মেলামেশা ও নিরাপদ জনপরিসর তৈরির অন্যতম মৌলিক শর্ত। কিন্তু মাঠ ও পার্ক দখলমুক্ত করা ঢাকা সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। মাঠ ও পার্ক ন্যায্য নগর প্রতিশ্রুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলেও বাস্তবে এ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। বরং দখল হওয়া মাঠগুলো এখনো উদ্ধার হয়নি। যেমন উদ্ধার হয়নি দখল হওয়া ১৬টি খাল। ঢাকা মহানগরীকে দখল ও দূষণমুক্ত করে নাগরিকদের বাস উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।