বাগেরহাটের শরণখোলা প্রেসক্লাবের সংবাদ কর্মীরা ২দিন ব্যাপী সুন্দরবনের ও প্রাণ-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণে গিয়ে কটকাও কচিখালী সহ বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের প্লাস্টিকের বর্জ্য ও পলিথিন অপসারণের কার্যক্রম চালিয়েছেন। গত ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা ও কচিখালী ইকো ট্যুরিজম এলাকার বিভিন্ন সি বিচ পর্যবেক্ষণ করেন। শরণখোলার প্রেস ক্লাবের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের একটি সংবাদকর্মী দল ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে শরণখোলা রেঞ্জ অফিস থেকে অনুমতি পত্র (পাস) নিয়ে আলী বান্দা ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র হয়ে কটকা পর্যটন কেন্দ্রে পৌঁছায়। বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী সুন্দরবনের অপরূপ লীলাভূমি কটকায় দেখা মেলে পালে পালে হরিণের বিচরণ। ওইসব এলাকায় সামুদ্রিক জোয়ারে ভেসে আসা প্লাস্টিক বর্জ্য সুন্দরবনের বিভিন্ন জায়গায় আটকে যায়। তিনমাস বন্ধ থাকার পর উন্মুক্ত হয় সুন্দরবনের দার। এর তিন সপ্তাহ পর শরণখোলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা সুন্দরবনের পর্যবেক্ষণে গিয়ে প্লাস্টিক বর্জ্য দেখে অপসরণের উদ্যোগ নেয়। শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিকরা চারটি দলে ভাগ হয়ে এ প্লাস্টিক বর্জ্য অপসরণের কার্যক্রম শুরু করেন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) শরণখোলা রেঞ্জের কচিখালী ও ডিমের চরে সাংবাদিকরা একইভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রম পরিচালনা করেন। শরণখোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ মোহাম্মদ আলী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক আঃ মালেক রেজা বলেন, সুন্দরবন পর্যবেক্ষণে এসে সুন্দরবন সুরক্ষায় প্লাস্টিক বর্জ্য ও পলিথিন অপসরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় । তারা আরো বলেন, সমাজ সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরা সাংবাদিকরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি করতে পেরে নিজেদেরকে ধন্য মনে করছি। আমরা সকল পর্যটকদের আহ্বান জানাই তারাও যেন এ ধরনের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। তাহলে অনেকেই এটাকে অনুকরণ করবে বলে আমরা মনে করি। পূর্ব সুন্দরবনের বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী ও শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, শরণখোলা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণের এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। বন বিভাগের পাশাপাশি তাদের মতো সকল পর্যটক এ উদ্যোগ গ্রহণ করলে সুন্দরবনের সুন্দর পরিবেশ বজায় থাকবে। সুন্দরবন সুরক্ষায় সাংবাদিকদের লেখনীর মাধ্যমে অগ্রণী ভূমিকা রাখার জন্য আহ্বান জানান।

