ঢাকাTuesday , 24 July 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আত্মহত্যা নয়, চাই আত্মপ্রত্যয়

Link Copied!

ইমরান নাজির
কয়েকদিন আগেই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে। গতবারের তুলনায় এবার পাসের হার ও জিপিএ এর সংখ্যাও কমেছে। যাহোক এত কষ্ট করে পরীক্ষা দেবার পর ফলাফল প্রকাশের দিনটা নিশ্চয়ই অত্যন্ত আনন্দ কিংবা প্রবল বেদনার হয়ে থাকে। অল্পবয়সী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্বভাবতই ফলাফল নিয়ে চাপের মধ্যে থাকে, প্রত্যাশিত ফলাফলের ব্যাপারে স্নায়ুবিক উত্তেজনাও অনুভব করে। এবছরও প্রায় বারো লাখ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। দিন দিন এই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধিই পাচ্ছে নিঃসন্দেহে। বর্তমান সরকারের তত্ত্বাবধানে যে আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রের প্রসারতা বৃদ্ধি পাচ্ছে তারও পরিচয় বহন করছে।
বর্তমানে নিঃসন্দেহে আমরা অতীতের তুলনায় অনেক পরিবর্তনের মধ্যদিয়ে যাচ্ছি। পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে। সমাজ যে আগের তুলনায় গতিশীল হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শিক্ষা ক্ষেত্রে আমাদের বর্তমান মা-বাবাদের ভূমিকা আর দশ-বিশ বছর আগের মা-বাবাদের তুলনায় অনেক বেশিই বলা চলে। এখন শুধু সন্তানই পড়ে না বরং মা-বাবাকেও পড়তে হচ্ছে। দিন-রাত পরিশ্রম করে হলেও পিতা-মাতা তার সন্তানের পড়াশুনার বেলায় সর্বোচ্চটাই দিতে চেষ্টা করেন। তাই পরীক্ষার রেজাল্টের বেলায় মা-বাবারা ছেলেমেয়েদের নিয়ে বড় কিছু প্রত্যাশা করবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার সে সম্মিলন থাকতে হয় সেই বোধটার বড় অভাব এই গতিশীল সমাজের মা-বাবাদের মধ্যে। বাবা-মায়েরা আজকাল সতেরো কিংবা আঠারো বছর বয়সী একটা ছেলেমেয়ের কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করেন। বাবার ইচ্ছে ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হবে, আর মায়ের ইচ্ছে ডাক্তার। এই নিয়ে বাবা-মায়ের মধ্যেই তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। কিন্তু কখনো ছেলে কিংবা মেয়েকে ডেকে বাবা-মা জিজ্ঞেস করেন না যে সে কি হতে চায়। এমনকি আগেই বলে দেয়া হয় যে এ প্লাস নামক মহামূল্যবান বস্তু যদি নিয়ে ঘরে ফিরতে না পারো তাহলে বাসায় সন্তানদের জায়গা হবে না। শুধু যে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক আর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির ক্ষেত্রেই বাবা-মায়ের এই কড়াকড়ি তা কিন্তু নয়। প্লে কিংবা নার্সারিতে পড়া একটা বাচ্চাকে তার মা-বাবা শিক্ষা দিচ্ছে যে ক্লাসে ফাস্ট হতে হবে।
উন্নত বিশ্ব থেকেও আমাদের শেখার কিছু বিষয় আছে কিন্তু সেটা আমরা শিখছি না। ছেলেমেয়েদের মানসিক চাপে রেখে ভবিষ্যত্ রূপরেখা নিজেরাই অংকন করে দিচ্ছি। যার ফলশ্রুতিতে দেখা যায় অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে, অনেকে আবার মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। শুধু যে অকৃতকার্যরাই এই পথ বেছে নিচ্ছে তেমন কিন্তু নয়। বিশেষত শহরে দেখা যায় যে কেউ সামান্য একটুর জন্য এ-প্লাস পেল না কিন্তু এই ক্ষুদ্র অপূর্ণতা নিয়ে তার বাড়ি ফেরার সাহস নেই। কেননা তার পিতা-মাতা আগেই বলে দিয়েছে যে এ-প্লাস ছাড়া এ বাড়িতে তার জন্য বিন্দুমাত্র স্থান নেই। আর আজকালকার ছেলেমেয়েরা একটু বেশিই জেদি প্রকৃতির হয়ে থাকে তাই হয়ত বাবা-মায়ের এসব কথা সহ্য করতে পারে না। ফলে একসময় নিজেদেরকে পৃথিবীর ব্যর্থদের আসনে চিহ্নিত করে, নিজেকে অপরাধী ভাবতে শুরু করে। ফলশ্রুতিতে একসময় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। এজন্য প্রতিবছর রেজাল্টের পর আত্মহত্যার মিছিল নামে। অনেকেই মাদকের করাল গ্রাসে জড়িয়ে পড়ে। জাতি বঞ্চিত হয় তার তরুণ মেধাবী সন্তানদের হারিয়ে।
আমাদের ভাববার সময় এসেছে। এখনি সচেতন হতে হবে। মা-বাবাদের এমন অশুভ বুদ্ধির চর্চা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পারিবারিক বন্ধন জোরালো করা গেলেই আজকালকার ছেলেমেয়েরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। পরীক্ষায় একটু কম নম্বর পেলেই যে জীবনে ভালো কিছু করা যায় না এমন ভ্রান্ত মতবাদ ভাঙতে শিক্ষক ও মিডিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য। মা-বাবাদেরও বুঝতে হবে যে, ছেলেমেয়ের ভবিষ্যত্ এমন সামান্য একটা রেজাল্টের উপর ছেড়ে দিয়ে নয় বরং তাদের খুশিমতো, কল্পনামতো তাদের ভুবন গড়তে দিতে হবে। আর সন্তানের কল্পনা বাস্তবায়নে সচেতন মা-বাবাকে পাশে থেকে সন্তানকে দিতে হবে অপার উত্সাহ। ভর্ত্সনার বাণী নয় বরং সাফল্যে প্রশংসায় উদ্ভাসিত করতে হবে কোমলমতি মনগুলোকে যা দেশ ও জাতির জন্য অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে। প্রতিযোগিতার মানসিকতা ভালো কিন্তু সেটা যেন প্রতিহিংসার মানসিকতায় পরিণত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে আগাতে হবে মা-বাবাদের।

লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়