ঢাকাSunday , 15 July 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এই মৃত্যুর মিছিল থামবে কবে?

Link Copied!

মারজুকা রায়না,
প্রতিদিন ঘর থেকে বের হলেই আবার সুস্থ অবস্থায় বাড়িতে ফিরে আসতে পারবো কিনা তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আর নিশ্চয়তা থাকবেই বা কি করে? প্রতিদিন যেহারে দুর্ঘটনা ঘটছে তা তো কল্পনাকেও হার মানিয়ে দিচ্ছে। কোনোভাবেই যেন নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এই অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনা। প্রতিনিয়ত অপ্রত্যাশিতভাবে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে, কেড়ে নিচ্ছে শত শত মানুষের জীবন, বিনষ্ট করে দিচ্ছে হাজারো মানুষের স্বপ্ন। যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে কত যে মানুষের হাত, পাসহ বিভিন্ন অঙ্গহানি হচ্ছে তার কোনো হিসাব নেই।
প্রতিদিন সকাল থেকে রাতঅব্দি সর্বস্তরের কর্মজীবী মানুষের ব্যস্ততার কোনো শেষ নেই। তাড়াহুড়ো করে কর্মক্ষেত্রে যায়, কাজ শেষ করে বাসাবাড়িতে ফিরতেও চায় দ্রুত। সময় বাঁচাতে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে রাস্তাঘাট পারাপারের সময় অসাবধানতাবশত ঘটে দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনায় শুধু একটি জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে না, শেষ হয়ে যায় একটি পরিবারও। সংবাদপত্রে যে খবরটি প্রায় প্রতিদিনই অনিবার্য থাকে তা হলো সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দেশের অনেক সম্পদ নষ্ট হলেও কর্তৃপক্ষ বরাবরই নীরব। মাঝে মাঝে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কিছু ভালো উদ্যোগ নিলেও সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। প্রতিবছর ঈদে ঘরে ফেরাকে কেন্দ্র করে অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। এবারও এর কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। কর্মকর্তাদের কাছে সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হলো যানবাহনের বেপরোয়া গতি। প্রায় ৯১% দুর্ঘটনা ঘটে চালকের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে। শুধু বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটে তা নয়। সড়ক দুর্ঘটনার অন্য কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম কারণ—চালকের অদক্ষতা, হেলপার দিয়ে গাড়ি চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, ওভার টেকিং করা, গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জেব্রা ক্রসিং না থাকা ও না মানা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালান, গাড়ি চালানো অবস্থায় চালকের মোবাইল ফোনে কথা বলা, রাস্তার নির্মাণ ত্রুটি, ফুটপাত দখল, যাত্রীদের অসতর্কতা, ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী পরিবহণ, অতিরিক্ত মালামাল বহন করা ও রাস্তাঘাটে নিয়ম না মেনে ওভারটেক করার তীব্র মানসিকতা। ঈদ ও পূজার মতো প্রধান প্রধান উত্সবগুলোতে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়, যা শুধু বেদনাদায়কই নয়, অনাকাঙ্ক্ষিতও বটে। যেকোনো মূল্যে এই দুর্ঘটনা থামাতে হবে। দুর্ঘটনার পরিমাণ কমিয়ে নিয়ে আসতে হবে শূন্যের কোঠায়। দুর্ঘটনা বন্ধে প্রয়োজনে সবকিছুই করতে হবে। অপরাধী চালকদেরকে যেমন কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে হবে, তেমনি পথচারীদের মাঝেও বৃদ্ধি করতে হবে সচেতনতা। বড় অপরাধ করে আইনের মারপ্যাঁচে কেউ যেন লঘু শাস্তি ভোগ করে পার না পেয়ে যায় সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে আইনের ধারায় পরিবর্তন আনতে হবে, তবুও অপরাধীকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া উচিত হবে না। তবেই মহামারির মতো অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা এই সড়ক দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করি।
জাতিসংঘ ২০১১-২০২১ সাল পর্যন্ত দশককে ‘সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস দশক’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ সময়ের মধ্যে পৃথিবীতে সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করে—এ সংক্রান্ত নথিতে বাংলাদেশও সই করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সরকার সড়কের বাঁক সোজাকরণ ও সড়ক সম্প্রসারণে কিছু কাজ করলেও যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ কিংবা চালকদের বেপরোয়া মনোভাব রুখতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে। দুর্ঘটনা কিভাবে কমিয়ে আনা যায় সে বিষয়ে সরকারকেই নিতে হবে বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ। চালকদের লাইসেন্স দেবার ক্ষেত্রে অবশ্যই যোগ্যতার যথাযথ পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই যেন হেলপার কিংবা অদক্ষ কাউকে লাইসেন্স না দেওয়া হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে। আর কারো প্রিয় মানুষের যেন এভাবে মৃত্যু না হয় সেই প্রার্থনাই করি। আশাকরি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকরী উদ্যোগ নিবেন।

লেখক:শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়