ঢাকাThursday , 5 October 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুখী বাংলার দুঃখী কন্যা : দুঃখজয়ের জয়গাথা

Link Copied!

কৃষিবিদ মুহা. আজহারুল ইসলাম
‘পরাধীন দেশে, আমার জন্মদিন আর মৃত্যুদিনই কি?’ আক্ষেপ করে বলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একাত্তরের সতেরই মার্চ। হাজার বছরের গ্লানি কাটিয়ে তাঁর জীবনত্যাগী নেতৃত্বে বাংলাদেশ সে বছরই স্বাধীনতা পায়। পরাধীনতার শোষণ, জুলুুম কাটিয়ে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম দেশের শৌর্য-বীর্যের প্রতীক বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়ায়। কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা, উচ্ছ্বাস, আহ্লাদের কেন্দ্র হয় দেশ, সুখী বাংলাদেশ।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর ছিল জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন। জন্ম যদি সুখের হয়, উৎসবের হয় তবে ২৮তম জন্মবার্ষিকী কি তাঁর সুখের ছিল? কেউ কি পাশে ছিল কেক কাটার, বেলুন ওড়ানোর, মোমবাতিতে ফুঁ দেওয়ার কিংবা উইশ করার। কেবলমাত্র স্বামী, সন্তান, আর ছোট বোন রেহানা ত্রস্ত হরিনীর মতো – অনিশ্চিত পথে যাত্রা; জীবন রক্ষা করে আগামীর স্বপ্ন বোনা। ‘আমার সকল দুখের প্রদীপ জ্বেলে করবো নিবেদন’-এ ব্রত নিয়ে কেবলমাত্র স্রষ্টার কৃপা প্রত্যাশা।
অপ্রাপ্তির নেশায় মুষ্টিমেয় লোভীর করালগ্রাসে বন্দী দেশটাকে উদ্ধারে আসলেন আপনি। এপথও কি কুসুমাস্তীর্ণ? ১৯ বার আপনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ২১ আগস্ট প্রকাশ্য দিবালোকে গ্রেনেড হামলা হয়েছে। ২৪ জন সহকর্মীর মৃত্যু আর অসংখ্য কর্মীর ক্ষতবিক্ষত দেহ। ক্ষমতাসীন সরকার বলেছে, আপনার ভ্যানিটি ব্যাগেই ছিল গ্রেনেড। সম্প্রীতির দেশ গড়তে আপনি কপালে প্রতিকী চন্দন নিলে বলা হয়, দেশটাকে হিন্দুস্থান বানাচ্ছেন। দেশের সম্পদ গ্যাস দেওয়ার বিনিময়ে আপনাকে ক্ষমতায় থাকার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যন করলে বাপের মতো একরোখা খেতাব জুটে। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির বিরোধিতা করলে, ন্যায়ের কথা বললে মুরতাদ পদবী জোটে। এ সুখী বাংলা চায়, দাস্য সুখে লাস্য মুখের একদল মানুষ নামের কীট।
বঙ্গবন্ধু পরিষদের আলোচনায় বয়োজ্যেষ্ঠরা প্রায়শ একটি কথা বলেন, আমরা যারা বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করতাম তারা অধিকাংশ তার প্রতি অনুগত ছিলাম। নেতার নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিতাম, বাধাগ্রস্ত হলে তাঁর পরামর্শ নিতাম। সর্বোচ্চ লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য কোন ব্যক্তি স্বার্থের দোহাই দিয়ে আপোস করতাম না। কিন্তু আজকাল ত্যাগী নেতার সংখ্যা খুবই কম। আজকাল চাটুকারিতা, দুর্নীতিপরায়ণতা, স্বার্থপরতার জন্য আন্তঃকলহ এবং আনুগত্যহীনতার প্রাধান্য চলছে। ‘তোমায় পূজার ছলে যেন ভুলেই থাকি’- এমন প্রবঞ্চনায় সংগঠনের মৌলিক কাঠামোগত শক্তি দিনদিন ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চলছে অবিরত ।
বঙ্গবন্ধুর সময় ২২ পরিবারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম ছিল। আজ ২২ লাখ পরিবার হয়েছে। বাঘ সরিয়ে কুমীরের ঘরে বসবাস। প্রতিরাতে নবজাতক ছানাগুলো হারিয়ে যায়। স্বপ্নগুলো ধূসর হয় আগামী যৌবনের অভাবে।
১৯৭৫ সালের আগস্টের পর সুখী বাংলায় সুখের পায়রারা পেখম মেলে। সামরিক উর্দি আর বেসামরিক লেবাস ’৯৫ পর্যন্ত খামচে ধরে ক্ষত বিক্ষত করে। ’৯৬-এ দুঃখী কন্যার হাত ধরে ফিরে আসে গণতন্ত্র, শান্তির বাতাস বয় অশান্ত পাহাড়ে। জল-স্থল-ছিটমহলসহ সব সমস্যার সমাধানের পথে যাত্রা শুরু হয়। যুদ্ধপরাধীদের সাজা কার্যকরের মাধ্যমে সুখী বাংলা আবার প্রাণ ফিরে পায়। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের নিরাপরাধ মানুষদের হত্যার বিচার কলঙ্কমুক্ত করে সুখি দেশকে।
বার্মিজ আর্মি আর বাংলার জিয়ার আর্মি যৌথ প্রযোজনায় ১৯৭৮ সালে রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিবর্তনের যে খেলা শুরু করেছিল-তা সময়ে সময়ে স্তিমিত হলেও এবার বার্মিজ আর্মি অন্তরাল থেকে অপকর্ম শুরু করেছে। মানবতার অপমান করেছে নিরীহ মানুষদের সাথে। নোবেল বিজয়ী অং সাং সুচি’র শান্তিপদক পরিহাস হয়ে দাঁড়ায়। আমাদের দুঃখি কন্যা। আপনার জন্মদিনে আমাদের কামনা – আপনি হোন পদবিহীন, পদবীবিহীন। বিশ্ব মানবতার মাতৃরূপ ফল্গুধারা আপনার কাছ থেকে ছড়িয়ে পড়–ক সবার মাঝে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দিয়ে গেছেন অবিনশ্বর জয়গাথা-
‘দুঃখের যজ্ঞ অনল-জলনে,
জন্মে যে প্রেম,
দীপ্ত সে হেম,
নিত্য সে নিঃসংশয়,
গৌরব তার অক্ষয়।
অশ্রু-উৎস-জল স্নানে তাপস জ্যোতির্ময়
আপনারে আহুতিদানে হল সে মৃত্যুঞ্জয়।
গৌরব তার অক্ষয়।’

(লেখক : সভাপতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বিএডিসি)