ঢাকাSaturday , 15 July 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএডিসিতে বীজ ফসলের গ্রো-আউট টেস্ট কার্যক্রম

Link Copied!

ড. মো. শাফায়েত হোসেন
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্যে স্বয়ম্ভরতা অর্জনে উন্নতমানের বীজ একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক উপাদান। উৎপাদিত বিভিন্ন ফসলের বীজের মান নিয়ন্ত্রণ, অবনতিরোধ ও উত্তরোত্তর গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতি মৌসুমে নিয়মিত গ্রো-আউট টেস্ট কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি বীজমান নিয়ন্ত্রণ ও বীজের জাত বিশুদ্ধতা পরীক্ষা পদ্ধতি। গ্রো-আউট টেস্টের উদ্দেশ্য হলো উৎপাদিত বীজের জাত বিশুদ্ধতা মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষা করা; উৎপাদিত বীজে বিজাত বা অফ-টাইপের উপস্থিতি যাচাই ও সংমিশ্রণের পরিমাণ নির্ণয় করা; কোন উৎসের বীজে বিজাত ও অফ-টাইপের উপস্থিতি গ্রহণযোগ্য মাত্রার অধিক কিনা তা চিহ্নিত করা; বীজে বিজাত ও অফ-টাইপের উপস্থিতির কারণ নির্ণয় ও প্রতিকার করা; মাঠ দিবসের মাধ্যমে বীজ উৎপাদকগণকে সরেজমিন স্ব স্ব বীজের মান প্রদর্শন করা; পরীক্ষাগারের পাশাপাশি সরেজমিন বাহ্যিক সাদৃশ্যপূর্ণ বীজের বিশুদ্ধতা সঠিকভাবে নির্ণয় ও সচেতন করা এবং গ্রো-আউট টেস্টের ফলাফলের ভিত্তিতে কারিগরি ও প্রশাসনিক প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
বাস্তবায়ন কৌশল : ধান ও গমবীজের গুণগতমান নিয়ন্ত্রণ এবং আরও উন্নত করার জন্য পরীক্ষাগারে বীজের বিশুদ্ধতা পরীক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন মৌসুমে নিয়মিতভাবে গ্রো-আউট টেস্ট এর মাঠদিবস কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। ধান ও গমবীজের মধ্যে এমন কিছু জাত রয়েছে যার আকার, রং ও বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যাবলী এতই সাদৃশ্যপূর্ণ যে পরীক্ষাগারে বীজের বিশুদ্ধতা পরীক্ষাকালে বিজাত বা অফ-টাইপ সঠিকভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয় না। তাই জাতের বিশুদ্ধতা সঠিকভাবে নির্ণয় ও উত্তরোত্তর বীজের গুণগতমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সংস্থার মধুপুর, টেবুনিয়া, গোকুলনগর, কুশাডাঙ্গা, ইটাখোলা, নীলফামারী এবং ডোমার ভিত্তি বীজআলু উৎপাদন খামারে আমন ও বোরো ধানবীজ এবং বারাদি, ঠাকুরগাঁও ও টেবুনিয়া বীজ উৎপাদন খামারে গমবীজের গ্রো-আউট টেস্ট কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। এছাড়াও দিনাজপুরের নশিপুর পাটবীজ উৎপাদন খামারে পাটবীজের গ্রো-আউট টেস্ট কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
বীজের নমুনা সংগ্রহ ও প্রেরণ : যুগ্মপরিচালক (বীজ পরীক্ষাগার) আমন ধান, বোরো ধান ও গমবীজের নমুনা বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র বা বীজ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করে গজানোর হার পরীক্ষার পর উৎসভিত্তিক ও জাতওয়ারি কোড নম্বর দিয়ে গ্রো-আউট টেস্টের জন্য নির্ধারিত প্রত্যেক খামারে প্রেরণের লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হয়। গ্রো-আউট টেস্ট বাস্তবায়নকারী প্রত্যেক খামারে ধানের জন্য ২০০টি ও গমের জন্য ১৫০টি বীজের নমুনা প্রয়োজন হয়। ধানের ক্ষেত্রে ১৫০ গ্রাম এবং গমের ক্ষেত্রে ১০০ গ্রাম করে বীজের নমুনা নাম, জাত ও শ্রেণি উল্লেখপূর্বক পৃথক কোড নম্বর দিয়ে পলিথিন ব্যাগে সিলগালা করে পাঠাতে হয়। আমন ধানবীজ ২৫ মে, বোরো ধানবীজ ২৫ নভেম্বর এবং গমবীজ ৩১ অক্টোবরের মধ্যে বীজ পরীক্ষাগার থেকে গ্রো-আউট টেস্ট কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী খামারে পৌঁছাতে হয় বিধায় মৌসুমের আগেই বীজ পরীক্ষাগার কর্তৃক সকল খামার ও বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হয়। তাছাড়া নমুনা প্রেরণের সময় সংশ্লিষ্ট খামারের নিকটবর্তী কন্ট্রাক্ট গ্রোয়ার্স (ক.গ্রো.) জোন, বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ (বীপ্র) কেন্দ্র ও খামারের বীজ অবশ্যই প্রেরণ নিশ্চিত করতে হয়। উল্লেখ্য, যুগ্মপরিচালক (বীজ পরীক্ষাগার) প্রতিনিধি প্রেরণপূর্বক বীজ সংগ্রহকালীন ট্রাক থেকে, বিপণন মৌসুমে বিক্রয় কেন্দ্র থেকে এবং বিভিন্ন খামারে সংরক্ষিত ভিত্তি বীজের মজুদ থেকেও নমুনা সংগ্রহ করতে পারেন। যুগ্মপরিচালক (বীজ পরীক্ষাগার) সকল নমুনার তথ্যাদি সংরক্ষণ এবং মৌসুম শেষে নির্দিষ্ট ছক মোতাবেক ফলাফলের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রণয়ন করেন; এ ক্ষেত্রে বীজ নমুনার কোড নম্বর অবশ্যই গোপন রাখতে হয়। তবে মাঠ দিবসে কোড নম্বরটি উন্মুক্ত করে প্লটওয়ারী বীজের উৎপাদনকারী খামার/ক.গ্রো. জোন এবং বীপ্রকেন্দ্র/বীজ উৎপাদন (বীউ) কেন্দ্রের কর্মকর্তাগণকে অবহিত করা হয় যাতে প্রত্যেকে স্ব স্ব বীজের জাতের বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যাবলী দেখতে পারেন।

দিনাজপুরের নশিপুরস্থ বিএডিসি’র পাট বীজ খামারে পাটবীজ ফসলের গ্রো আউট টেস্টের একটি মুহূর্ত

সরেজমিন বাস্তবায়ন পদ্ধতি : উপপরিচালক (খামার)/সিনিয়র সহকারী পরিচালক (খামার), মধুপুর, টেবুনিয়া, কুশাডাঙ্গা, গোকুলনগর, ইটাখোলা, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী এবং ডোমার ভিত্তি বীজআলু উৎপাদন খামার নিজস্ব তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষভাবে নিজ নিজ খামারে গ্রো আউট টেস্ট কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন। বীজ পরীক্ষাগার থেকে প্রেরিত নমুনা সংখ্যার সাথে সামঞ্জস্য রেখে ধানবীজের গ্রো-আউট টেস্ট ৪,০৫০ বর্গমিটার (১ একর) জমিতে এবং গমবীজের গ্রো-আউট টেস্ট ২,০২৫ বর্গমিটার (০.৫০ একর) জমিতে সম্পাদন করতে হয়। গ্রো-আউট প্লটে ২০ সে.মি.ঢ১৫ সে.মি. দূরত্বে ১টি জাতভেদে ২৫-৩৫ দিন বয়সের ১টি করে ধানের চারা রোপন করতে হয়। গমবীজ ১৫ সে.মি. দূরত্বে লাইন করে ১০ সে.মি. পর পর ১টি করে বীজ বপন করতে হয় এবং কোন গর্তে একাধিক চারা হলেও তুলে না ফেলে তা রেখে দিতে হবে। প্রত্যেক প্লটে ধানের ক্ষেত্রে ১,০০০টি ও গমের ক্ষেত্রে ২,০০০টি চারা থাকতে হয়। বপন/রোপনের পর কোন চারা যাতে নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে এবং কোন কারণে যদি চারা নষ্ট হয় তবে বপন বা রোপনের ৭-১০ দিনের মধ্যে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট লটের চারা দ্বারা গ্যাপ ফিলিং করা যাবে। ফসলের জমিতে সকল প্রকার আন্তঃপরিচর্যা যথারীতি সম্পন্ন করতে হয়। তবে কিছুতেই রগিং বা বিজাত তুলে ফেলা যাবে না। পরিদর্শনকালে অফ-টাইপ/বিজাত দেখা গেলে অফ-টাইপ/বিজাতের গাছের গোড়ায় বাঁশের কাঠি পুঁতে ট্যাগকার্ড টাঙ্গিয়ে তথ্যাদি লিখে রাখতে হবে। জাতভিত্তিক প্লটসমূহ পাশাপাশি তৈরি এবং সাইনবোর্ড লাগাতে হবে। প্রতিটি খামারে একই মাপের প্লট সাইজ থাকতে হবে। ফসলের জীবনকাল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক খন্ড করে বীজ বপন করতে হবে যাতে একই সঙ্গে সকল জাত পরিপক্ক অবস্থায় আসে এবং যথাসময়ে মাঠ দিবস কার্যক্রম সম্পাদন করা যায়। উপপরিচালক (খামার)/সিনিয়র সহকারী পরিচালক (খামার)/উপপরিচালক (টিসি) ডোমার সার্বক্ষণিকভাবে গ্রো-আউট টেস্টের যাবতীয় কার্যাদি সম্পাদন করেন। তবে মৌসুমে কমপক্ষে ৩ (তিন) বার যথা: অঙ্গজ বৃদ্ধি, ফুল আসার সময় এবং ফসল পাকার সময় খামারের অনুকুলে পরিদর্শনকারী কর্মকর্তাগণ সরেজমিনে গ্রো-আউট টেস্টের প্লট পরিদর্শন করে বিজাত/অফ-টাইপের তথ্যাদি লিপিবদ্ধ করবেন। খামার প্রধান সংশ্লিষ্ট তদারককারী কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে মাঠ পরিদর্শনের তারিখ ও সময় উল্লেখপূর্বক সংশ্লিষ্ট পরিদর্শনকারী কর্মকর্তাদের পত্রযোগে পরিদর্শনে অংশগ্রহণ করার বিষয় নিশ্চিত করবেন, তবে যুগ্মপরিচালক (বীজ পরীক্ষাগার) অথবা তার প্রতিনিধিকে পরিদর্শনে অবশ্যই অংশগ্রহণ করতে হবে।
মাঠ দিবসে কারা অংশগ্রহণ করবেন : তদারককারী যুগ্মপরিচালক (বীপ্র) গ্রো-আউট টেস্ট কার্যক্রম সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্যাদি খামার থেকে সংগ্রহপূর্বক মহাব্যবস্থাপক (বীজ)-এর সাথে যোগাযোগ করে ফসল কাটার পূর্বে সকল খামারের জন্য মাঠ দিবসের তারিখ নির্ধারণপূর্বক কর্মসূচি বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করেন। মাঠ দিবসে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলসমূহের বীজ উৎপাদন ও বিতরণের সাথে জড়িত কর্মকর্তাসহ সদর দপ্তরের বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণের সাথে জড়িত কর্মকর্তাদেরও উক্ত মাঠ দিবসে অংশগ্রহণের নিমিত্ত আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রতিটি মাঠ দিবসে স্থানীয় বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়।
কর্মসূচি বাস্তবায়নের অর্থায়ন ও রিপোর্টিং : গ্রো-আউট টেস্ট কর্মসূচি সরেজমিন বাস্তবায়নের যাবতীয় ব্যয়ভার সংশ্লিষ্ট খামারের বাজেট থেকে এবং মাঠ দিবস কর্মসূচি বাস্তবায়নের ব্যয়ভার সংশ্লিষ্ট তদারককারী বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের বাজেট থেকে নির্বাহ করা হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগ এজন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দসহ ব্যয় নির্বাহের অনুমোদন প্রদান করে। মাঠ পরিদর্শন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠানের পর গ্রো-আউট টেস্ট কর্মসূচি বাস্তবায়নকারী উপপরিচালক (খামার)/উপপরিচালক (টিসি)/সিনিয়র সহকারী পরিচালক (খামার) প্রয়োজনীয় তথ্যাদি লিপিবদ্ধ করে তদারককারী ও পরিদর্শনকারী কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন যুগ্মপরিচালক (বীজ পরীক্ষাগার)-এর নিকট প্রেরণ করেন। যুগ্মপরিচালক (বীজ পরীক্ষাগার) প্রতিবেদন প্রণয়ন করে মহাব্যবস্থাপক (বীজ) ও বীজ শাখার সকল সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানগণের দপ্তরে প্রেরণ করেন। তাছাড়া, তিনি প্রেরিতব্য প্রতিবেদনটি মূল্যায়ন করে যে সকল খামার/ক.গ্রো./বীউ কেন্দ্র/বীপ্র কেন্দ্রের বীজে গ্রহণযোগ্য মাত্রার অতিরিক্ত বিজাত/অফ-টাইপ পাওয়া গেলে, তার সার সংক্ষেপ উল্লেখপূর্বক প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহাব্যবস্থাপক (বীজ) বরাবর পৃথক পত্র প্রেরণ করে অনুলিপি সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানগণকে প্রেরণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানগণ মহাব্যবস্থাপক (বীজ)-এর সাথে আলোচনাক্রমে প্রতিকারমূলক কারিগরি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বিজাত/অফ-টাইপের উপস্থিতির জন্য কেবল উৎপাদনকারী নয়, বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তাগণও দায়ী থাকেন।

লেখক : উপব্যবস্থাপক (বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ বিভাগ), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), প্রধান কার্যালয়, ঢাকা।