কৃষিবিদ মুহাঃ আজহারুল ইসলাম
স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর জাতীয়ভাবে গণহত্যা দিবস পালন জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের একটি দায়িত্বশীল পদক্ষেপ। জাতীয়ভাবে পালনের জন্য আমার নিম্নলিখিত প্রস্তাবনা এবং স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করছি :
রাত ১১:৫৯ ও ১২:০০টা পর্যন্ত ২ (দুই) মিনিট অন্ধকার বিরাজ করবে। দুই মিনিট হবে দুইশত বছরের পরাধীনতার প্রতীক।
রাত ১২.০১-১২:০৫ মিনিট পর্যন্ত মোবাতি প্রজ্জ্বল, মোবাইলের আলো প্রক্ষেপণ। ৫ মিনিটিব্যাপী আলোক উজ্জ্বলতা আমাদের সংহত মাত্রার প্রকাশ ঘটাবে। এতে ২৫ মার্চের ভাবানুবাদ প্রকাশ পাবে। স্থান হবে-কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ দেশের সকল শহীদ মিনার। ভাষার অধিকারসহ শোষণ বঞ্চনার বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির দ্রোহ, সংগ্রাম এবং অর্জনের স্থান; যেখানে মমতাময়ী মা তার পাশে সন্তানদের নিয়ে ঐক্যের প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
১২:০১ মিনিট থেকে ৫-৭টি দেশাত্মবোধক গান/কবিতা আবৃত্তি হতে পারে। যেমন :
(১) শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি…
(২) মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি…।
(৩) ও আমার ৭ কোটি ফুল, রাইখো গো মালি শক্ত হাতে বাইন্ধা তারে…।
(৪) ভয় কি মরণে থাকিতে সন্তানে, মাতঙ্গি মেতেছে আজ সমর রঙ্গে…।
(৫) আলো আমার আলো ওগো আলোয় ভুবন ভরা…।
(৬) বাঁধ ভেঙে দাও, বাঁধ ভেঙে দাও…।
(৭) বাংলার হিন্দু, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার খ্রিস্টান, বাংলার মুসলমান…।
(৮) চল্ চল্ চল্ ঊর্ধ্বগগনে বাজে মাদল, নিম্নে উতলা ধরণীতল…।
(৯) বাংলার মাটি দুর্জয় ঘাঁটি বুঝে নিক দুর্বৃত্ত…সুকান্ত ভট্টাচার্য।
(১০) স্বাধীনতা তুমি রবি ঠাকুরের অজর কবিতা, অবিনাশী গান…শামসুর রাহমান।
এছাড়া ধর্মীয় শিক্ষালয়গুলোতে এই ৭ (সাত) মিনিটের (অন্ধকার এবং আলোকউজ্জ্বল সময়) জন্য বাঙালি জাতির স্বাধিকার আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারীদের জন্য মাগফেরাত কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা যেতে পারে।
সবশেষ ২ (দুই) মিনিটের জন্য শহীদের রক্ত, মা-বোনের ইজ্জত এবং কোটি মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা সুরক্ষার জন্য শপথ অনুষ্ঠান করা। এটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ঠিক নির্ধারণ করবে। দোয়া/প্রার্থনার বিষয়টি ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় নির্ধারণ করতে পারে। প্রত্যেক স্থানে প্রতিষ্ঠান প্রধান/প্রতিনিধত্বশীল নেতৃত্ব শপথ পাঠ করাবেন।
সকল কর্মসূচি ২৫ (পঁচিশ) মিনিটের মধ্যে শেষ করতে হবে। আনুষ্ঠানিকতা হবে কর্ম দিয়ে, প্রতিজ্ঞা হবে বাস্তবায়নের। বাহুল্যতায় জনসাধারণকে বিরক্ত না করাই শ্রেয়।
সময়ানুবর্তিতার একটি অনুশীলন জাতীয় গণহত্যা দিবসের মাধ্যমেই শুরু হোক।
জয় বাংলা।
লেখক : সভাপতি, বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ, বিএডিসি।

