প্রভাষ চন্দ্র মল্লিক
দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখ্য দায়িত্ব হলো মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রণ ও তত্ত্বাবধান এবং সর্বোপরি আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থে উৎপাদনশীল সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা। কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে দেশকে এগিয়ে নেয়ার পথে গণমানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গত পাঁচ বছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক তার প্রথাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও সরকারের দারিদ্র্য বিমোচনে নানামুখী উদ্যোগগুলোতে সমর্থন যুগিয়ে চলেছে। এ ক্ষেত্রে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসা তথা আর্থিক সেবাভুক্তিকরণ কর্মসূচির ওপর বিশেষ নজর দেয়ার পাশাপাশি কৃষি ও পরিবেশবান্ধব খাতে অর্থায়নের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সমাজের পিছিয়ে পড়া অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসাহ দিতে একটি নতুন ধারণা প্রবর্তন করেছে। এ নতুন ধারণাটি দিন দিন প্রশংসিত হচ্ছে এবং আর্থিক সেবাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো নিজেই উদ্যোগী হয়েছে। যারা আগে ব্যাংক থেকে ঋণ পেতেন না, যেমন- বর্গাচাষি, নারী উদ্যোক্তা, প্রান্তিক কৃষক তাদের হাতে এখন ঋণ যাচ্ছে; গণমানুষের মধ্যে ব্যাংকিং সেবা কার্যক্রম প্রসারিত হচ্ছে।
এ সকল কার্যক্রমের কারণে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সূচকে বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি তথ্যভাণ্ডার বা ‘গ্লোবাল ফিনডেক্স’ শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়।
আর্থিক সেবাভুক্তিকরণ : সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য যথাযথ আর্থিক পণ্য ও সেবাসমূহ পৌঁছে দেওয়াই হচ্ছে আর্থিক সেবাভুক্তিকরণ। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ উপায়ে এবং স্বল্প খরচে আর্থিক সুবিধাসমূহ ডেলিভারি দেয়াই হলো আর্থিক সেবাভুক্তিকরণ। আর্থিক সেবাভুক্তিকরণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে আর্থিক সেবা প্রদান করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা।
কৃষি ঋণ ও আর্থিক সেবাভুক্তিকরণ : বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি। দেশের অধিকাংশ মানুষই কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। তাই কৃষি ও পল্লি খাতের উন্নয়নের মাধ্যমেই দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব। স্থানীয় চাহিদা সৃষ্টির মাধ্যমে বাজার সৃষ্টির ক্ষেত্রেও কৃষির ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে।
বাংলাদেশের কৃষি এখনও ভরণপোষন পর্যায়ে রয়েছে। বেশিরভাগ কৃষকেরই কৃষিতে বিনিয়োগের পর্যাপ্ত সামর্থ্য নেই। সেই বিবেচনায় প্রকৃত কৃষকদের কাছে সময়মতো প্রয়োজনীয় কৃষি ঋণ সরবরাহ করা খুবই জরুরি। এ জন্য প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষিসহ প্রকৃত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরিমাণ কৃষি ঋণ দেয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি বছরের শুরুতে কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা এবং কর্মসূচি ঘোষণা করে তফসিলি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করে আসছে। অতীতে শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহ কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ করত। বর্তমানে সকল তফসিলি ব্যাংক (বেসরকারি ও বিদেশি) কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণ করছে।
এমএফআইসমূহের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ব্যাংক-এমএফআই পার্টনারশিপের মাধ্যমেও কৃষি ও পল্লি খাতে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষি খাতে ব্যাপক ঋণ সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি ঋণ সরবরাহ প্রক্রিয়াতে গুণগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে গ্রামাঞ্চলে ব্যাংক শাখা খোলা, ব্যাপকভাবে no-frill (কৃষকের ১০ টাকার হিসাব) ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, কৃষি ও এসএমই অর্থায়ন, নবায়নযোগ্য শক্তি উৎপাদন খাতে অর্থায়ন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এসকল উদ্যোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা যেমন- কৃষি, এসএমই এবং পরিবেশবান্ধব খাতে বিভিন্ন পুনঃঅর্থায়ন স্কিম, রেয়াতি সুদহারে ঋণ প্রদান, বর্গাচাষিদের জন্য বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম, পার্বত্য অঞ্চলে ৫% সুদহারে ঋণ প্রদান ইত্যাদি সুবিধা প্রদান করে আসছে।
কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা : সরকারের দরিদ্রবান্ধব কৃষি নীতির সাথে সঙ্গতি রেখে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব কৃষি ও পল্লি ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়। উক্ত নীতিমালার উল্লেখযোগ্য বিষয়সমূহ নিম্নরূপ :
√ কৃষি ঋণের প্রধান তিনটি খাতে (যথা-শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) অন্যান্য খাতের চেয়ে ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
√ অঞ্চলভিত্তিক ফসল উৎপাদন পদ্ধতিতে বাস্তবভিত্তিক কৃষি ঋণ বিতরণ করতে হবে।
√ অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর এবং উপেক্ষিত এলাকায় (যেমনঃ চর, হাওর, উপকূলীয় এলাকা ইত্যাদি) কৃষি ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
√ প্রকৃত ক্ষুদ্র, প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষিদের সহজ পদ্ধতিতে একক/গ্রুপ ভিত্তিতে কৃষি ঋণ দিতে হবে।
√ ডাল, তৈলবীজ ও মসলা জাতীয় ফসল এবং ভুট্টা চাষে সরকার প্রদত্ত সুদ ক্ষতির বিপরীতে ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদে ঋণ প্রদান করতে হবে।
√ আত্মকর্মসংস্থানমূলক বা আয়-উৎসারী কর্মকাণ্ডে একক/দলীয় ভিত্তিতে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
√ কৃষি ও পল্লি ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে নারীদেরকে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে।
√ উচ্চমূল্য ফসল খাতে ঋণ প্রদানে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করতে হবে ।
√ চুক্তিবদ্ধ উৎপাদন বা কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ব্যবস্থায় চুক্তিবদ্ধ কৃষক/উদ্যোক্তা পর্যায়ে কৃষি ঋণ দেয়া যাবে।
√ প্রতিবন্ধীদের অনুকূলে ঋণ বিতরণ করতে হবে।
কৃষি ঋণ বিভাগ কর্তৃক গৃহীত কর্মসূচিসমূহ :
কৃষকদের ব্যাংক হিসাব (দশ টাকার অ্যাকাউন্ট) : দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত কার্যক্রমগুলোর অন্যতম হচ্ছে তাঁদের জন্যে নো-ফ্রিল (No-frill) অ্যাকাউন্ট খোলার ব্যবস্থা করা। এ ধরনের সৃজনশীল হিসাব খোলার ব্যবস্থা আগে ছিল না। কৃষকদের জন্যে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন ভর্তুকি সুবিধা ছাড়াও ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ যাতে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা যায় সে লক্ষ্যে দশ টাকা জমা রেখে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্যে বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশনা দিয়েছে।
আর্থিক সেবাভুক্তিমূলক কর্মকাণ্ডের আওতায় একজন কৃষক মাত্র ১০ টাকা জমা করে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক এবং বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহে জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট প্রদর্শনপূর্বক হিসাব খুলতে পারবে।
১০ টাকায় খোলা উক্ত হিসাবের মাধ্যমে কৃষকের অনুকূলে ভর্তুকি জমা ছাড়াও ঋণ প্রদান, সঞ্চয় জমা ও উত্তোলন, রেমিট্যান্স জমা ইত্যাদি ব্যাংকিং কার্যক্রম নিরাপদভাবে এবং দ্রুততার সাথে সম্পাদন করা যাবে। উক্ত হিসাবের মাধ্যমে বৈদেশিক রেমিট্যান্স আদান/প্রদানের জন্য কৃষকদের ক্রমাগত উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে।
১০ টাকায় খোলা হিসাবসমূহের লেনদেন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসব হিসাবের ওপর সুদহার সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের চেয়ে ১-২ শতাংশ বেশি হারে দেয়া এবং এ ধরনের হিসাবে রক্ষিত সঞ্চয়ের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা দেয়ার বিষয়টি ব্যাংক শাখাগুলোকে বিবেচনা করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। উক্ত হিসাবধারী কৃষকদের অনুকূলে ঋণ বিতরণের জন্যে ২০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ১০ টাকায় খোলা কৃষকদের অ্যাকাউন্টের পরিমাণ প্রায় এক কোটি।
অতি দরিদ্রদের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট : অতি দরিদ্রদের সঞ্চয় মনোভাবকে উৎসাহিত করা এবং তাদের আর্থিক সেবাভুক্তির আওতায় আনার জন্য ১০/৫০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সকল তফসিলি ব্যাংককে পরামর্শ প্রদান করেছে। মার্চ, ২০১৫ মাসের হিসাব অনুযায়ী অতি দরিদ্রদের জন্য সর্বমোট ৩১৩১০৪ টি হিসাব খোলা হয়।
বর্গাচাষিদের জন্য কম সুদে ঋণ প্রদান : বাংলাদেশের গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর এক বিরাট অংশ বর্গাচাষি। দরিদ্র এ জনগোষ্ঠীর অনেকেরই নিজস্ব কোনো চাষযোগ্য জমি নেই। ২০০৫ সালে পরিচালিত কৃষি নমুনা জরিপের তথ্য থেকে দেখা যায়, দেশের এক কোটি ৫০ লাখ কৃষক পরিবারের মধ্যে ৭০ লাখ বর্গাচাষি। তারা মোট চাষকৃত জমির ৫৫ শতাংশ চাষ করেন (তথ্য সূত্র: কৃষিশুমারি-২০০৮) দেশের প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় জামানত ছাড়া ঋণ দেওয়া হয় না। তাছাড়া প্রত্যন্ত জনপদে ব্যাংকগুলোর শাখা না থাকায় কৃষকদের এ বিরাট অংশ বর্গাচাষিরা দীর্ঘকাল ধরেই ব্যাংক ঋণের অধিকার থেকে বঞ্চিত ও উপেক্ষিত।
ব্যাংকে তাদের কোনো সঞ্চয়ী হিসাবও নেই। অপরদিকে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো (এমএফআই) কর্তৃক নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় বর্গাচাষিরা ক্ষুদ্রঋণ থেকেও বঞ্চিত। ফসল চাষের মৌসুমে পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে চাষাবাদে প্রয়োজনীয় উপকরণসহ উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করতেও তারা ব্যর্থ হন। সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ থেকে বঞ্চিত হয়ে সমাজের অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস যেমন গ্রাম্য সুদখোর, মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হন। এ সকল অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে গৃহীত ঋণ সময়মতো পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে সর্বশেষ সম্বল হালের বলদ, বসতভিটা পর্যন্ত হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। অথচ বর্গাচাষিদের দোরগোড়ায় সময়মতো সহজে ও স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ পৌঁছানো সম্ভব হলে একদিকে তারা যেমন উপকৃত হবেন, অন্যদিকে কৃষি খাতে সময়মতো অর্থের সরবরাহ পৌঁছানোর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়া সম্ভব হবে। সর্বোপরি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে আর্থিক সেবার আওতায় আনা যাবে।
দেশের ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ব্যাংক ঋণ সুবিধাবঞ্চিত বর্গাচাষিদের দোরগোড়ায় স্বল্প সুদে, সহজশর্তে ও বিনা জামানতে কৃষি ঋণ পৌঁছে দিতে ব্যাংকের উদ্যোগে গত ২০০৯ সালে বর্গাচাষিদের জন্যে প্রথমবারের মতো ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্যে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাককে দায়িত্ব দেয়া হয়। বর্তমান এ তহবিল বৃদ্ধি করে ৬০০ কোটি টাকা করা হয়েছে।
কর্মসূচির শুরু থেকে ৩০ জুন, ২০১৫ পর্যন্ত ব্র্যাকের মাধ্যমে দেশের ৪৮টি জেলার ২৫০টি উপজেলায় ব্যাংক ঋণের আওতার বাইরে থাকা ১০.০৫ লাখ বর্গাচাষিকে শস্য ও ফসল ঋণ বাবদ প্রায় ১৮২২.৬৫ কোটি টাকা কৃষি ঋণ প্রদান করা হয়েছে।
৪% রেয়াতি সুদে ঋণ প্রদান : দেশে ডাল (মুগ, মসুর, খেসারি, ছোলা, মটর, মাষকলাই ও অড়হর), তৈলবীজ (সরিষা, তিল, তিসি, চিনাবাদাম, সূর্যমুখী ও সয়াবিন), মসলা জাতীয় ফসল (পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ, হলুদ ও জিরা) এবং ভুট্টার প্রচুর চাহিদা থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন সে অনুযায়ী যথেষ্ট নয় বলে আমদানিনির্ভর এসব পণ্য আমদানি বাবদ প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। অথচ সারাদেশে বিশেষ করে বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রয়েছে এসব ফসল চাষের বিপুল সম্ভাবনা।
লেখক : মহাব্যবস্থাপক, কৃষি ঋণ বিভাগ, প্রধান কার্যালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক

