ঢাকাWednesday , 28 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএডিসি’র ৫৪ বছর : গণ্ডি ছাড়িয়ে বহুমাত্রিকতায়

Link Copied!

মোঃ শফিকুল ইসলাম লস্কর
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)’র জন্ম এক ঐতিহাসিক দিনে, ১৬ অক্টোবর। জাতিসংঘ ঘোষিত বিশ্ব খাদ্য দিবসও ১৬ অক্টোবর। খাদ্য নিরাপত্তা অর্জন ও রক্ষার্থে বিএডিসি’র কার্যক্রম যেন বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার সাথে একই সূত্রে গাঁথা। উদ্দেশ্য একই শুধু পরিধি ভিন্ন। ১৯৬১ সালের ১৬ অক্টোবর কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির কর্মসূচি মাথায় নিয়ে এ সংস্থাটির যাত্রা শুরু হয়। ১৯৬১ সালে যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিএডিসি’র যাত্রা শুরু ৫৪ বছরে এসে তা এখন বহুমাত্রিকতায় বিস্তৃত। এ সংস্থাটি ফসল উৎপাদনের ৩টি উপকরণ গুণগত মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিতরণ, আধুনিক সেচ সুবিধা প্রদান ও সম্প্রসারণ, মানসম্মত সার আমদানি ও বিতরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি বিএডিসি’কে একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেন এবং এর কার্যক্রম জোরদার করেন। বর্তমান সরকার বিগত আমল থেকে কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকের স্বার্থে বিএডিসি’র কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারিত করেছে এবং করে যাচ্ছে। সংস্থাটির সাংগঠনিক কাঠামো ৫টি উইং এর সমন্বয়ে গঠিত। এগুলো হলো- প্রশাসন, অর্থ, বীজ ও উদ্যান, ক্ষুদ্রসেচ এবং সার ব্যবস্থাপনা উইং। বিএডিসি কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সেবাধর্মী সংস্থা। সংস্থাটির সদর দপ্তর ঢাকা শহর কেন্দ্রীক হলেও এর সকল কার্যক্রম ও পরিধি সমগ্র বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। মাঠ পর্যায়ের অফিসসমূহ উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে আরো প্রত্যন্ত এলাকায় সুবিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে। বিএডিসি’কে শক্তিশালী এবং এর কার্যক্রম যুগোপযোগী ও অধিকতর কার্যকর করার লক্ষ্যে সংস্থার জনবল ৬,৮০০ জন থেকে ১০,১০০ জনে উন্নীত করার বিষয়টি বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বীজ সেক্টরে বিএডিসি’র উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম : ১৯৬২-৬৩ সালে বিএডিসি প্রায় ১৩.৮০ মে. টন বীজ সরবরাহের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে। ক্রমান্বয়ে বীজ সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০১৪-১৫ সালে ১,২৯,২১৫ মে. টন বিভিন্ন ফসলের বীজ কৃষক পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে। ২০১৪-১৫ বর্ষে বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির মাধ্যমে ১,৪২,১৯৪ মে.টন বিভিন্ন ফসলের বীজ উৎপাদন করা হয়েছে যা ২০১৫-১৬ বর্ষে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে। উন্নতমানের বীজ উৎপাদন ও কৃষক পর্যায়ে সরবরাহের লক্ষ্যে বিএডিসি’র রয়েছে ৩৩টি বীজ উৎপাদন খামার, ১৪টি এগ্রোসার্ভিস সেন্টার, ৯টি উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্র, ৭৬টি চুক্তিবদ্ধ চাষী জোন, ৫৮টি বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণ কেন্দ্র, ৮০৫২ জন অনুমোদিত বীজ ডিলারসহ ১০০টি নিজস্ব বীজ বিক্রয় কেন্দ্র। দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্পের মাধ্যমে বিএডিসি ধান, গম, ভূট্টা ইত্যাদি দানা জাতীয় ফসলের বীজসহ আলু, ডাল ও তৈল বীজ, সবজি বীজ, পাট বীজ ও মসলা জাতীয় ফসলের বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে পালন করছে। দানা শস্যের বীজ উৎপাদনের পাশাপাশি ৯টি উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্র ও ১৪টি এগ্রো-সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে উন্নত জাতের শাক-সবজি, ফুল, ফল, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা, গুটি-কলম উৎপাদন ও বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করে আসছে। তাছাড়া SL-8H জাতের সুপার হাইব্রিড বোরো বীজ কৃষক পর্যায়ে বিতরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটকে বিবেচনা করে পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার চর এলাকায় ১০৪৪.৩৬ একরের একটি নতুন বীজ বর্ধন খামার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের উপযোগী ফসলের বীজ পরিবর্ধনপূর্বক কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। বিএডিসি’র মাধ্যমে ২৯,০০০ মে. টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ২২টি আলুবীজ হিমাগার নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া আলুবীজ বিভাগের মাধ্যমে প্রতিটি ২,০০০ মে.টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ৩টি হিমাগার  পঞ্চগড়, উল্লাপাড়া ও মুন্সীগঞ্জে নির্মাণাধীন রয়েছে। এছাড়া আইডিবি’র অর্থায়নে মধুপুর, মিরপুর, দত্তনগর ও পাকুন্দিয়াতে প্রতিটি ২,০০০ মে.টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন হিমাগার নির্মাণাধীন রয়েছে এবং দশমিনা খামার স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে বরিশাল জেলায় ১টি ২,০০০ মে.টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন হিমাগার নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। নির্মাণাধীন হিমাগারগুলোর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে বিএডিসি’র ৩০টি হিমাগারের মোট ধারণক্ষমতা হবে ৪৫,৭০০ মে.টন। আধুনিক বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রযুক্তি প্রচলনের জন্য মধুপুর, চুয়াডাঙ্গা ও ঠাকুরগাঁও এ তিনটি অটো সীড প্রসেসিং প্লান্ট স্থাপন করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে; ফলে বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রমসমূহ দ্রুত সম্পন্ন ও বীজের গুণগতমান বজায় রাখা সহজতর হচ্ছে। বিএডিসিতে বর্তমানে ৪টি টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি রয়েছে। টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে প্লান্টলেট উৎপাদন করে তা থেকে মিনি টিউবার, ব্রিডার ও ভিত্তি বীজ উৎপাদন করে দেশে বীজ আলুর আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে। তাছাড়া নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলায় ১০০ একরের একটি ডাল ও তৈল ভিত্তি বীজ উৎপাদন খামার ও ১০০ মে.টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ডিহিউমিডিফাইড বীজ সংরক্ষণাগার স্থাপন করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বীজ উৎপাদনের পাশাপাশি একটি এগ্রো ইকোলজিক্যাল মডেল খামার স্থাপিত হবে যা বিরূপ জলবায়ুকে মোকাবেলা করে জীব বৈচিত্র্য রক্ষা করবে।
ক্ষুদ্রসেচ উইং-এর উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম : ১৯৬১-৬২ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর এলাকায় ১৫৫৫টি এলএলপি ক্ষেত্রায়ণের মাধ্যমে বিএডিসি’র ক্ষুদ্রসেচ উইং এর কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২৯,৯২৮ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আনা হয়। বিএডিসি’র ক্ষুদ্রসেচ উইংয়ের বিভিন্ন প্রকল্প/কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২০১৪-১৫ সালে ২৩,৩৪৭ হেক্টর কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। সূচনালগ্ন হতে বিএডিসি হাওর-বাওর, খাল-বিল, নদ-নদীর ভূপরিস্থ পানি শক্তিচালিত পাম্পের সাহায্যে সেচ/কৃষি কাজে ব্যবহার শুরু করে। বিএডিসি ১৯৬৭-৬৮ সাল হতে গভীর নলকূপ ও ১৯৭২-৭৩ সাল হতে অগভীর নলকূপের সাহায্যে ভূগর্ভস্থ পানি দ্বারা সেচ সুবিধা প্রদান করে আসছে। বিএডিসি’র মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে ভূপরিস্থ পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের জন্য খাল-নালা পুনঃখনন/সংস্কার, পাহাড়ী ছড়ায় ঝিরিবাঁধ ও সেচ অবকাঠামো নির্মাণ করে বিভিন্ন ক্ষমতার শক্তিচালিত সেচ পাম্প স্থাপন, সেচযন্ত্র বিদ্যুতায়ন, সেচের পানির অপচয় রোধ করার জন্য ভূপরিস্থ ও ভূগর্ভস্থ (বারিড পাইপ) সেচনালা নির্মাণ কার্যক্রম সম্পাদনের বিভিন্ন কর্মসূচি/প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ভূপরিস্থ পানির সাহায্যে ২২% এবং ভূগর্ভস্থ পানির সাহায্যে ৭৮% সেচ প্রদান করা হয়। এছাড়া আশুগঞ্জ-পলাশ এগ্রো ইরিগেশন প্রকল্পের মাধ্যমে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবহৃত পানি ঠান্ডা করে বিএডিসি’র নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে সেচকাজে ব্যবহার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী জেলায় সেচ সুবিধা দেয়া হচ্ছে। প্রবাহমান নদীতে রাবার ড্যাম প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চ প্রযুক্তির বাঁধ নির্মাণ করে সেচ সুবিধা, পাহাড়ি এলাকায় যে সকল অঞ্চলে ঝর্ণা বা ছড়া রয়েছে সে সকল অঞ্চলের ছড়ায় ঝিরি বাঁধ নির্মাণ, ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ১১টি উপজেলায় সর্বমোট ১১টি সৌর বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প স্থাপন করে সেচ প্রদান, ৪৫০টি আর্টেসিয়ান নলকূপ স্থাপন, বিভিন্ন উপজেলায় ২০১টি অটো ওয়াটার টেবিল রেকর্ডার স্থাপন করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভূগর্ভস্থ পানির লেভেল মনিটর করা হচ্ছে। দেশের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এর অবস্থা ইত্যাদি ডিজিটাল পদ্ধতিতে জানার জন্য গ্রাউন্ড ওয়াটার জোনিং ম্যাপ তৈরি এবং এটি সময়ে সময়ে আপডেট করার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ভূগর্ভ হয়ে দক্ষিণের সাগর হতে লবণ পানির অনুপ্রবেশ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ ও তা বিশ্লেষণ করে সমস্যার প্রকৃতি ও সম্ভাব্য সমাধান নির্ণয় করা হচ্ছে। বরগুনা, পিরোজপুর ও পটুয়াখালী জেলায় মিঠা পানির সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য ১৩৮টি ডাগ (DUG) ওয়েল/পাতকুয়া স্থাপন করা হয়েছে। পানিতে বিদ্যমান আর্সেনিক ও অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদানের প্রভাব থেকে শস্য, গবাদিপশু ও জনগণকে নিরাপদ রাখতে ঢাকা, যশোর, বগুড়া, বরিশাল, কুমিলা ও সিলেট জেলায় ৬টি আধুনিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। এতে নিয়মিত পানির গুণাগুণ পরীক্ষাকরণ এবং প্রচার করা হচ্ছে।
সার ব্যবস্থাপনা উইং-এর উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম : সার ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএডিসি’র মাধ্যমে  বিপণন কার্যক্রমের সূচনা ঘটে ষাটের দশকে। ১৯৬০-৬১ সাল থেকে বিএডিসি কৃষকদের নিকট সার বিক্রি, ব্যবহারে উদ্বুদ্ধকরণ এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের কাজ  শুরু করে। ১৯৬২-৬৩ সালে ৫০,০০০ মে. টন সার কৃষক পর্যায়ে বিতরণ করা হয়। বিএডিসি কর্তৃক তখন থেকে সারাদেশে থানাভিত্তিক সার বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে সার বিপণন কার্যক্রম চালু করা হয়। ১৯৮৯-৯০ সালে সারা বাংলাদেশে সার ব্যবহারের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১৫ লক্ষ মে. টনে। সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে ১৯৯২ সাল থেকে সার আমদানি ও বিপণন কার্যক্রম বেসরকারি খাতে হস্তান্তর করা হয়। বেসরকারি খাতের মাধ্যমে নন-ইউরিয়া সারের মজুদ ও বিপণন কাজে ব্যর্থতার কারণে ২০০৬-০৭ অর্থবছরে পুনরায় বেসরকারি খাতের পাশাপাশি বিএডিসিকে সীমিত আকারে টিএসপি ও এমওপি সার আমদানি ও বিপণনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে, টিএসপি ও এমওপি সারের আমদানি ও বিপণনের  কাজে সফলতার কারণে ২০১০-১১ অর্থবছরে বিএডিসিকে ডিএপি  সার আমদানি ও বিপণনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বিএডিসি মূলত রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় নন-ইউরিয়া সার আমদানি করে থাকে। বর্তমানে টিএসপি ও ডিএপি সার মরক্কো ও তিউনিশিয়া হতে এবং বেলারুশ, রাশিয়া ও কানাডা হতে এমওপি সার আমদানি করছে। বিএডিসি’র নিকট বেসরকারি খাতের পাশাপাশি নন-ইউরিয়া সার আমদানি ও বিপণনের দায়িত্ব প্রদানের পর ২০০৬-০৭ সাল হতে দেশে কোন সার সংকটের সৃষ্টি হয়নি। বিএডিসি ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৯.৫২ লক্ষ মে. টন সার আমদানি এবং ৮.৯৯ লক্ষ মে. টন সার সরবরাহ করেছে। আমদানিকৃত নন-ইউরিয়া সার দেশের কৃষক পর্যায়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সংস্থার বাফার গুদামের সার কৃষকদের সার সংকটের হাত থেকে রক্ষা করছে। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ২৮টি সার গুদামের সংস্কার/মেরামত এবং ২টি প্রি ফেব্রিকেটেড স্টিল গুদাম নির্মাণ করা হয়েছে। সরকার বিএডিসি’র বর্তমান গুদামসমূহের উন্নতকরণ এবং সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্য ০৮-১০-২০১৩ তারিখে একনেক-এ একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। ‘বিএডিসি’র বিদ্যমান সার গুদামসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ, পুনর্বাসন ও সার ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে গুদাম মেরামতের পাশাপাশি ৫০,০০০ হাজার মে.টন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্টীল ফেব্রিকেটেট গুদাম নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। এই কার্যক্রম শেষে সরকারিভাবে সারের মজুদ সংক্রান্ত সমস্যাদি অনেকাংশেই সমাধান হয়ে যাবে। এই প্রকল্পে আধুনিক গুদাম ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের কার্যক্রম ডিজিটালাইজড হচ্ছে।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি : নানামুখী কার্যক্রমের সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিএডিসি রাষ্ট্রীয় পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করে। এর মধ্যে উলেখযোগ্য কয়েকটি হলো: ২০১২ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪১৭-এ স্বর্ণপদক; জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা-২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ (পরপর তিন বছর): প্রথম পুরস্কার; বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে খাদ্য মেলা-২০১৫: প্রথম পুরস্কার; কৃষি প্রযুক্তি মেলা-২০১৩: প্রথম পুরস্কার; জাতীয় বীজ মেলা-২০১২: প্রথম পুরস্কার; বীজ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ জাতীয় বীজ সম্মেলন  মেলা-২০০৮: প্রথম পুরস্কার; বিশ্ব খাদ্য দিবস-২০০৬: প্রথম পুরস্কার; The Reflector Award-২০১৩।
বর্তমানে বিএডিসি’র কাজের পরিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। একটি বহুমুখী কার্যক্রম সম্বলিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে কৃষি উপকরণ ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাকে। বিশ্বায়নের এই যুগে কৃষিতে যুক্ত হচ্ছে নিত্য নতুন প্রযুক্তি এবং নতুন নতুন ধ্যান ধারণা। এই নতুন নতুন ধ্যান ধারণা এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিএডিসি বীজ, সেচ ও সার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনেছে। দেশের জনগণ এবং কৃষকের কাছে এ সংস্থাটি একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। প্রতিটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা বিধান, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার যে পরিকল্পনা বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার গ্রহণ করেছে সেই মহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিএডিসি’র উপর সরকার কর্তৃক অর্পিত দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন এর আন্তরিক ও সচেষ্ট প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

লেখক : চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)