ঢাকাThursday , 17 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তরুণরাই একদিন বানাবে উন্নত দেশ

Link Copied!

জাহাঙ্গীর আলম বকুল
রাষ্ট্রের চারটি অপরিহার্য উপাদানের মধ্যে জনসমষ্টি প্রধান। নির্দিষ্ট ভূখণ্ড থাকলেও, সেই ভূখণ্ডে যদি জনসংখ্যা না থাকে, তাহলে রাষ্ট্র গঠন করা যাবে না। জনগণের জন্যই রাষ্ট্র গঠন। জনসংখ্যা থাকলেই নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার এবং সার্বভৌমত্বের বিষয়গুলো আসবে। এই জনসংখ্যা কখনো হতে পারে রাষ্ট্রের সম্পদ, কখনো আবার বোঝা।
পৃথিবীতে এমন বহু জনগোষ্ঠী আছে, যাদের রাষ্ট্র নেই। আবার অনেক জনগোষ্ঠী আছে, যাদের রাষ্ট্র আছে, কিন্তু সেই রাষ্ট্রে বসবাস করার অবস্থা নেই। জীবন বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয় এবং খাদ্যের সন্ধানে উদ্বাস্তু হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছে। অনেক জনগোষ্ঠী নিজস্ব রাষ্ট্রের জন্য বছরের পর বছর সশস্ত্র যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। সেই দিক দিয়ে আমরা ১৬ কোটি বাংলাদেশি সৌভাগ্যবান। আমাদের নির্দিষ্ট ভূখণ্ড আছে, নিজেরাই নিজেদের সরকার গঠন করি। সেই সরকার সারভৌম ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। জনগণের সেবাই নিয়োজিত থাকে। আমাদের নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে শরণার্থী শিবিরে যেতে হয় না। আমাদের সম্পদ অর্জন এবং সেই সম্পদ ভোগ করার অধিকার আছে। সেই অধিকার দিয়ে গেছেন- পূর্বপুরুষেরা। তারাই এ জাতির সর্বকালের সেরা সন্তান।
বাংলাদেশের আয়তন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার। (সম্প্রতি মিয়ানমার এবং ভারত থেকে সমুদ্রসীমা পাওয়ার ফলে তা ২ লাখ ৪৬ লাখ ০৩৭ বর্গকিলোমিটার)। সেই অনুপাতে বিশাল জনগোষ্ঠী ধারণ করেছে দেশটি। প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করে সহস্রাধিক লোক। বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ রাশিয়ায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস করে নয় জন। আর দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ কানাডায় চার জন। সহজের অনুমেয় মানুষের ভারে কতটা ন্যুব্জ আমাদের স্বদেশ। ১৬ কোটি লোকের দেশে মাত্র ২ কোটি ১ লাখ ৯৪ হাজার একরে চাষাবাদ করা যায়। এই স্বল্প জমিতে ফসল উৎপাদন করে খাদ্যের যোগান দিচ্ছেন এ দেশের কৃষকরা।
দেশের জনসংখ্যার এখন ১৫ থেকে ৬০ বছর বয়সিই বেশি। যারা কর্মক্ষম। যাদের কাজে লাগানো গেলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে। ছোট একটি দেশ, যেভাবে এবং কারণেই হোক, বিশাল এক জনগোষ্ঠী ধারণ করেছে দেশটি। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে যদি জনসম্পদে পরিণত করা যায়, তবে তারা বোঝা না হয়ে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্যাপক জনশক্তি থাকার কারণে বিশ্বের সবচেয়ে সস্তায় শ্রম কেনা যায় এ দেশে। বিশ্বের নামি-দামি পোশাক কোম্পানি এ দেশের সস্তার শ্রমিকদের দিয়ে পোশাক তৈরি করিয়ে নিয়ে যায়। এ খাতে এখন ৪৪ লাখ শ্রমিক কর্মরত। যাদের অধিকাংশই নারী। এ খাতের সঙ্গে রুটি-রুজি জড়িয়ে আছে- কয়েক কোটি মানুষের। যদিও বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে এ খাতের আরো বিস্তৃতি ঘটানো কঠিন। কিন্তু যে খাতের বিস্তৃতির সীমা নেই, সেই খাতে যদি জনশক্তিকে দক্ষ করা যায়- তাহলে অপার সম্ভাবনা ধরা দেবে।
আমাদের রাষ্ট্রের ভূখণ্ডের বাইরে আরেকটি দেশের সৃষ্টি করেছে এ দেশের পরিশ্রমী মানুষেরা। তাদের সেই দেশ ছড়িয়ে আছে পৃথিবী জুড়ে। ১৬০টি দেশে। বিশ্বে এখন স্বাধীন দেশের সংখ্যা প্রায় দুই শত। যার মধ্যে ১৬০টিতে প্রায় ৯০ লাথ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োজিত রয়েছে। যারা বিশ্বব্যাপী মন্দার মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিযুক্ত সৌদি আরবে। ২৬ লাখেরও বেশি। তৃতীয় অবস্থানে থাকা মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যাও এর কাছাকাছি। আরো ১৫ লাখ শ্রমিকের দেশটিতে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশির সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার ১৬ ভাগের ১ ভাগ। অনেক দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এখন স্থির, অনেক দেশে কমছে। বহুদেশে শ্রমশক্তির চাহিদা রয়েছে, চেষ্টা করলে সেই সব দেশে কর্মী পাঠিয়ে ১ ভাগকে ২ ভাগে নেওয়া যেতে পারে। বিশ্বে এমন বহুদেশ আছে- যেখানে হাজার হাজার কিলোমিটার ভূমি আছে, লোক নেই। সেখানে উৎপাদন করতে হলে শ্রমিকের দরকার হবে। মিয়ানমার এবং আফ্রিকার কয়েকটি দেশে জমি লিজ করে সেখানে বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়ে চাষ করার বিষয়ে আলোচনা শুনেছিলাম। তেমনটি যদি করা যায়- তাহলে দেশের শ্রমশক্তির বড় অংশকে এভাবে বিদেশে বিনিয়োগ করা যাবে। জানি না সেই আলোচনা আর এগিয়েছে কি না? বিদেশে ভূমি লিজ নেওয়া যদি আমাদের পক্ষে সম্ভব নাও হয়, তবে নতুন নতুন শ্রম বাজার খুঁজে রেব করতে হবে। কঠোর পরিশ্রমী, উদ্যোগী হিসেবে বিশ্বে বাংলাদেশি শ্রমিকের সুনাম আছে। অনেক দেশে তাদের চাহিদাও আছে। আমরা যদি দক্ষ-কর্মী, সেই সব দেশে পাঠাতে পারি- তাহলে দেশে জনসংখ্যার চাপ যেমন কিছুটা কমবে, তেমনি দেশে আসবে বৈদেশিক মুদ্রা।
আরেকটি শিল্প, বিশাল সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে আমাদের বিশাল জনগোষ্ঠীর সামনে। দেশের জনসংখ্যার বড় অংশ তরুণ এবং তারা শিক্ষিত, তাদের যদি তথ্য-প্রযুক্তি খাতে দক্ষ করা যায়, এই খাত হতে পারে অর্থনীতির উন্নয়নের অন্যতম খাত। ইতোমধ্যে দেশের শীর্ষ ১৫টি রপ্তানি খাতের একটিতে স্থান করে নিয়েছে সফটওয়্যার শিল্প। আউটসোর্সিং করে দেশের তরুণরা আয় করছে ৪-৫ কোটি ডলার। প্রযুক্তির উন্নয়নে বিশ্ব যখন হাতে মুঠোয় চলে এসেছে- দেশের তরুণদের যদি এখাতে দক্ষ করা যায়, দেশে বসে বিদেশের কাজ করতে পারবে তারা। বিশ্বের বিশাল মার্কেট হাতে মুঠোয় চলে আসবে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার সার্ভিসসমূহের বাজার ১২০০ কোটি টাকার মতো। এই শিল্পের জন্য আমরা এখনো পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০ হাজার তথ্যপ্রযুক্তিবিদ তৈরি করতে পেরেছি। তারা দেশের ১১০০ কোম্পানিতে কাজ করছে। ২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সফটওয়্যার রপ্তানি করে এক বিলিয়ন ডলার আয় করার টার্গেট নিয়েছে। সফটওয়্যার খাতটি আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষতা অর্জন করেছে। এখাতে নতুন উদ্যোক্তা যেমন যোগ হয়েছে, তেমনি বিদেশিদের আস্থাও বেড়েছে। সফটওয়্যার রপ্তানির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। এটা আমাদের জন্য অনেক ভালো সংবাদ। অফুরান্ত সম্ভাবনার এই খাতে আমাদের তরুণদের পদচারণা শুরু হয়েছে, ধীরে ধীরে অবস্থান শক্ত হচ্ছে। কমছে বেকার।
যে জনগোষ্ঠীর ভারে ন্যুব্জ দেশটি, সেই জনগোষ্ঠীর তরুণরাই প্রিয়জনের সঙ্গ ছেড়ে বিদেশে হাড়-ভাঙ্গা পরিশ্রম করে, দেশের পোশাক খাতে অমানবিক পরিবেশে উদয়-অস্ত খেটে, নিজের উদ্যোগ আর প্রচেষ্টায় প্রযুক্তিবিদ হয়ে- দেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। সর্বজয়ী এই তরুণদের যদি সঠিক পথের দিশা দেওয়া যায়, তাহলে দেশকে উন্নত দেশ বানিয়ে দেবে।

(লেখক : সংবাদকর্মী)