ঢাকাSaturday , 29 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বাংলাদেশ থেকে আলু রপ্তানি

Link Copied!

ড. মো. শাফায়েত হোসেন
আলু এখন আমাদের দেশে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় একটি ফসল। স্বল্পমেয়াদী এ ফসলটির উৎপাদন আয় অন্যান্য ফসলের চেয়ে কয়েকগুন বেশি। সাম্প্রতিক কয়েক বছরের আলু আবাদের অবস্থা তথা আলুর ফলন ও উৎপাদন এলাকা পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, আনুপাতিকহারে উভয়টিই উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী দেশে ৪০ লক্ষ টন আলুর চাহিদার বিপরীতে গড়ে প্রায় ৮০ লক্ষ টন আলু উৎপাদিত হচ্ছে, অবশ্যই এটা শুভ লক্ষণ কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে আমাদের দরিদ্র আলুচাষীরা এর সুফল তেমন একটা পাচ্ছে না, পাচ্ছে কোল্ড স্টোর মালিক, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীগণ। উৎপাদন মৌসুমে আলুর ন্যায্য মূল্য না পাওয়া কিংবা ন্যায্য মূল্যের আশায় বিকল্প হিসেবে কোল্ড স্টোরে সংরক্ষণ করতে না পেরে আলুচাষীরা অনেক সময় তা পানির দরে বিক্রি করে দেয় ফলে অনিশ্চিত লাভের কারণে অনেক আলুচাষী সম্ভাবনাময় এ ফসলটির চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। পত্রিকায় দেখা গেছে, হিমাগারের সামনে আলু বহনকারী ট্রাকের দীর্ঘ লাইন এবং এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির হিমাগার মালিকদের অসাধু রমরমা ব্যবসা। বর্তমান সরকার একটি কৃষিবান্ধব সরকার তাই সরকারের উচিৎ আলু চাষীদের তথা দেশের বৃহত্তর স্বার্থে উদ্বৃত্ত আলু বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা গ্রহণ করা। তা ছাড়া আলুর নানাবিধ ব্যবহার ও শিল্পে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে আলু রপ্তানি : ১৯৯৮ সালে এটিডিপি (এগ্রোবেজড্ টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম) এর একটি মার্কেটিং মিশন বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ফ্রেশ আলু রপ্তানির সম্ভাব্যতা যাচাই করে এবং ১৯৯৯ সালে এটিডিপি-এর উদ্যোগে প্রথম ১২৬ টন আলু উল্লিখিত দেশে রপ্তানি করা হয়। ২০০৫, ২০০৬ সালে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আলু রপ্তানি করা হয়। ২০০৭ সালে রপ্তানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৮ হাজার টনে। ২০১১ সালে বাংলাদেশ থেকে ৭টি প্রাইভেট কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার টন আলু রপ্তানি করা হয়েছে (বাসস, ঢাকা)। সাম্প্রতিককালে থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়াতেও বাংলাদেশ থেকে আলু আমদানি শুরু করেছে। শুধুমাত্র মালয়েশিয়ায় আলুর চাহিদা রয়েছে ১০ লক্ষ টন, সিঙ্গাপুর ও শ্রীলঙ্কায় প্রতিটিতে চাহিদা রয়েছে ৩ লক্ষ টন করে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (EPB) হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ২০১৪-১৫ সালে ২৭২ কোটি টাকার আলু বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে যার মধ্যে শুধু মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করা হয়েছে ১০৪ কোটি টাকার আলু এবং রাশিয়ায় ৭২ কোটি টাকার আলু। বিএডিসি’র অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. শেখ আব্দুল কাদের এর নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ পটেটো এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন’। যা বিদেশে আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে।
আলু সংরক্ষণের অবস্থা : গত দুই বছরে আলুর উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৮৫ লক্ষ টনে পৌঁছেছে। উৎপাদিত এ আলুর সর্বোচ্চ ২২-২৫ লক্ষ টন ৩২৫টি হিমাগারে সংরক্ষণ করা যায়। প্রতি মাসে ৩.৫ লক্ষ টন আলুর ব্যবহার হিসেব করলে বছরে প্রায় ৪০ লক্ষ টন আলুর প্রয়োজন হয়। বাকী ৩০-৪০ লক্ষ টন চাষীর ঘরেই থেকে যায়।
রপ্তানিযোগ্য আলুর বৈশিষ্ট্য : আমাদের দেশে উৎপাদিত সব জাতের এবং সব আকারের আলুই আমদানিকারক দেশের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং শ্রীলঙ্কায় গ্রানুলা জাতের আলুর কদর বেশি। সাম্প্রতিককালে মালয়েশিয়ায় ডায়ামন্ট ও কার্ডিনাল জাতের আলু রপ্তানি করা হয়েছে। ১০০ গ্রাম থেকে ১৫০ গ্রাম ওজন এবং ৪০-৬০মি.মি আকারের উজ্জ্বল রং ও ভাসাভাসা চোখ (shallow eyed tuber) ও অধিক সুপ্তকাল (Longer dormancy) বিশিষ্ট মসৃণ ত্বকের আলু রপ্তানির জন্য বেশি উপযোগী। আলু রপ্তানির সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ মাস কারণ আমদানিকারকগণ হিমাগারে সংরক্ষিত আলুর চেয়ে ফ্রেশ আলু বেশি পছন্দ করে। আলু সংগ্রহের পর হতে কিছুদিনের মধ্যে আলুর আকারের মধ্যে কিছু অস্বাভাবিক অবস্থা (deformations) দেখা যায়। বিশেষ করে হিমায়িত আলু নির্দিষ্ট তাপমাত্রার নিচে রাখলে রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে মিষ্টতা (Sweetness) বৃদ্ধি পায় ও অন্যান্য গুণগতমানের অবনতি ঘটে। সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, সংগ্রহের সাথে সাথে (Harvest Period) আলু যাতে করে বিদেশে রপ্তানি করা যায় এ ব্যাপারে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে কিন্তু কি উদ্যোগ নিয়েছে সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি।
রপ্তানিযোগ্য আলুর আবাদ : আগাম রপ্তানির জন্য এমনভাবে আলু রোপন করা দরকার যাতে করে ফেব্রুয়ারির ১ম সপ্তাহ হতে আলু সংগ্রহ করা যায়। নভেম্বরের ১ম সপ্তাহ হতে শুরু করে শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত কয়েক ধাপে রোপণ করলে ফেব্রুয়ারির ১ম সপ্তাহ হতে সংগ্র শুরু করে মার্চের ২য় সপ্তাহ পর্যন্ত আলু উঠানো যায়। এরূপ রোপণের ফলে দীর্ঘ সময় কাঁচা আলু সংরক্ষণ না করেও ফ্রেশ অবস্থায় রপ্তানি করা যায়।
আলু রপ্তানি বৃদ্ধিতে করণীয় :
* আলু রপ্তানির জন্য নির্দিষ্ট চুক্তিবদ্ধ চাষী জোন (Contract growing zone) গঠন করা।
* রপ্তানি ও প্রক্রিয়াজাত উপযোগী আলুর জাত ছাড়করণ ও কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয় করা।
* কাঁচা আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে ইনসেনটিভ বোনাস বাড়িয়ে ১০-৩০% করা।
* রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (Export Promotion Bureau), হরটেক্স ফাউন্ডেশন (Hortex Foundation) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC) কে কাঁচা আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা প্রদান।
* নতুন নতুন কোম্পানি যাতে আলু রপ্তানিতে উদ্যোগী হয় এ জন্য সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণ করা।

লেখক : উপব্যবস্থাপক (বীপ্রস), বিএডিসি, ঢাকা