রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদশী ইউনিয়নে কলেজছাত্র চৌধুরী ফুয়াদ হাসান রোহান (রোহান) হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিকে হত্যার বিচার দাবিতে উত্তেজিত জনতা তিনটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দাদশী ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের ফিরোজ সরদার বাবু, রিয়াজ সরদার এবং সমেশপুর গ্রামের শরীফ মণ্ডল। শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোর ৪টার দিকে দাদশী ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে রাজবাড়ী সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
শনিবার দুপুরে রাজবাড়ী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানান, গত ৫ অক্টোবর বিকেলে অজ্ঞাত ব্যক্তির ফোন পেয়ে বাড়ি থেকে বের হন রোহান। এরপর তিনি আর ফেরেননি। ৬ অক্টোবর তার পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। ৮ অক্টোবর বিকেলে দাদশী ইউনিয়নের পাকুড়িকান্দা গ্রামের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে বস্তাবন্দী ও পেট কাটা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা করেন।
পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জমিজমা নিয়ে পূর্বশত্রুতা ও পরিকল্পনার বিষয়টি উঠে এসেছে। পুলিশের দাবি, রোহানকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, গামছা, কালো টি-শার্ট ও রোহানের স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে রোহান হত্যার বিচার দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ করেন উত্তেজিত লোকজন। একপর্যায়ে তারা আলাল সরদার, লাল চাঁদ সরদার ও ফিরোজ সরদারের বাড়িতে আগুন দেন।
খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, তিনটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করেছে।

