ঢাকাSaturday , 10 October 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, ঘুষ লেনদেন নিয়ে তোলপাড়

Link Copied!

সারাদেশে নতুন সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশের পর অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় জনপ্রতিনিধিদের সুপারিশ উপেক্ষা এবং ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন রাজনৈতিক নেতাদের একাংশ। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই পাওয়া যায়নি।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে গত ৯ অক্টোবর বিভিন্ন জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় সার ডিলার নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। তালিকা প্রকাশের পর কয়েকটি এলাকায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু অভিযোগ করেছেন, ঈশ্বরগঞ্জের সরিষা ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে অনৈতিক লেনদেনের চেষ্টা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তবে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, নীতিমালা অনুসরণ করেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ পাওয়া জিয়াউর রহমান ভূঁইয়াও ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পদুমশহর ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগ ঘিরেও অভিযোগ উঠেছে। জেলা বিএনপির সদস্য সাইদুর রহমান রয়েলের দাবি, ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার জন্য শামীম নামের এক ব্যক্তি ২৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, উপজেলা ও জেলা থেকে পাঠানো তালিকায় তাঁর ভাইয়ের নাম প্রথমে থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় অন্য ব্যক্তির নাম এসেছে।
ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নে নিয়োগ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সালাম সরকার। তাঁর অভিযোগ, নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তির গুদামের ঠিকানায় বাস্তবে গুদাম নেই। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সার ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ডিলারশিপ পাইয়ে দিতে স্থানীয়ভাবে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দর উঠেছে। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও লবিংয়ের কারণে যোগ্য নির্দলীয় আবেদনকারীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
প্রতিবেদনটিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান জুয়েল এবং সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার যুগ্ম সচিব কামরুল হাসানের বিরুদ্ধেও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে ডিলারদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। তাঁদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সারাদেশে ৪ হাজার ৯৩১টি প্রস্তাবিত ডিলারশিপের বিপরীতে ৪৬ হাজার ৯৫৫টি আবেদন জমা পড়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।