ঢাকাSunday , 15 March 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিশুকে কম বয়সে আইসক্রিম-চকলেট দেওয়ার প্রভাব থাকে সারাজীবন

Link Copied!

শিশু একটু বড় হলেই অনেক সময় মা-বাবা মজা করে আইসক্রিম, চকলেট বা মিষ্টি খাবারের সামান্য স্বাদ দেন। মনে ভাবেন – এতে কী আর হবে!

কিন্তু পুষ্টিবিদ ও শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনের প্রথম বছরগুলোতে শিশুর খাবারের অভ্যাস গড়ে ওঠে। এই সময় অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি খাবারের সঙ্গে পরিচয় হলে ভবিষ্যতে শিশুর খাদ্য পছন্দেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

কেন ছোট বয়সে চিনি কম রাখা গুরুত্বপূর্ণ
শিশুর মস্তিষ্ক জন্মের পর দ্রুত বিকাশ লাভ করে। এই সময় যে ধরনের স্বাদের সঙ্গে সে পরিচিত হয়, সেটাই তার খাদ্যাভ্যাসের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, খুব ছোট বয়সে অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার খেলে পরে কম মিষ্টি খাবার, যেমন সবজি – শিশুর কাছে কম আকর্ষণীয় মনে হতে পারে।
আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস সুপারিশ করেছে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের খাবারে অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলা উচিত।

খাবারের পছন্দ কীভাবে তৈরি হয়
শিশুরা জন্মগতভাবে মিষ্টি স্বাদের প্রতি আকৃষ্ট থাকে। কিন্তু খাবারের বৈচিত্র্য যত বেশি হবে, ততই তারা নতুন স্বাদ গ্রহণে অভ্যস্ত হয়।
গবেষণা বলছে, জীবনের প্রথম দুই বছরে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা গেলে তা দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ ওজন এবং ভালো খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

কোন খাবারগুলোতে লুকিয়ে থাকে চিনি
অনেক সময় আমরা শুধু চকলেট বা মিষ্টিকে চিনি ভাবি। কিন্তু বাস্তবে আরও অনেক খাবারে অতিরিক্ত চিনি যোগ করা হয়। যেমন –

>> মিষ্টি দই
>> প্যাকেটজাত সিরিয়াল
>> ফ্লেভারড দুধ
>> জুস বা কেনা মিষ্টি পানীয়
>> প্রসেসড বেবি স্ন্যাকস

এসব খাবারে থাকা চিনি শিশুর প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবারের জায়গা দখল করতে পারে।

শিশুকে কী ধরনের খাবার দেবেন
বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রথম দিকে শিশুকে প্রকৃত খাবারের স্বাদ চেনানোই ভালো। যেমন – ফল, সবজি, ডাল ও শস্য ও ঘরে তৈরি খাবার।

এসব খাবার শিশুকে বিভিন্ন স্বাদ চিনতে সাহায্য করে এবং খাবারের প্রতি স্বাস্থ্যকর আগ্রহ তৈরি করে।

আনন্দ নষ্ট করার দরকার নেই
এর মানে এই নয় যে শিশুর খাবারের আনন্দ কেড়ে নিতে হবে। বরং লক্ষ্য হওয়া উচিত – স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস তৈরি করা। মাঝে মাঝে ফলের স্বাভাবিক মিষ্টি স্বাদই শিশুর জন্য যথেষ্ট আনন্দদায়ক হতে পারে।

শিশুর খাবারের অভ্যাস গড়ে ওঠে খুব ছোট বয়স থেকেই। আজকের ছোট সিদ্ধান্ত – যেমন অতিরিক্ত চিনি না দেওয়া – ভবিষ্যতে তার সুস্থ জীবনযাত্রার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

শিশুর প্লেটে যত বেশি প্রকৃত খাবার থাকবে, তার ভবিষ্যৎ খাদ্যাভ্যাস ততই স্বাস্থ্যকর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।