রাজশাহী প্রতিনিধি
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা মাত্র ৪০টি। এর তুলনায় ৪ থেকে ৫ গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকে।
অতিরিক্ত রোগীয় চাপে চিকিৎসা দিতে যেমন হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসক তেমন উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা।
রামেক হাসপাতাল নতুন ভবনটি পূর্ণাঙ্গ চালু হলে রোগীদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে অনেকটা ধকল সামলে উঠা যাবে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। রামেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের বর্তমানে কর্মরত আছেন ১২ জন চিকিৎসক। এদের মধ্যে মাত্র একজন বিভাগীয় প্রধান। সহযোগী অধ্যাপক একজন।
ওই দুই জন ছাড়া অন্য চিকিৎসকদের মধ্যে সহকারী অধ্যাপক দুই জন, রেজিস্ট্রার চিকিৎসক এক জন ও সহকারী রেজিস্ট্রার ৫ জন কর্মরত আছেন।
এছাড়াও অর্থোপেডিক ও সার্জারি বিভাগের সাব ওয়ার্ড হ্যান্ড অ্যান্ড মাইক্রোসার্জারি ও অর্থোপেডিক ও ট্রামাটোলজিতে একজন করে সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন।
অর্থোপেডিক বিভাগে গড়ে রোগী ভর্তি থাকে ১৮০ থেকে ২০০ জন। অনুমোদিত ৪০টি শয্যা ছাড়াও রোগীদের সুবিধার জন্য আরো ৭৫ থেকে ৮০টি বেড সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে সেগুলোর জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ আসে না। এতো শয্যা ছাড়িয়েও রোগীদের ফ্লোরে অবস্থান করতে হয়। অনুমোদিত ৪০টি শয্যার বরাদ্দ ওষুধ রোগীদের মধ্যে বিতরণ করে দেয়া হয়। মাত্র ১২ জন চিকিৎসক দিয়ে এতোগুলো রোগীর শতভাগ চিকিৎসাসেবা দেয়া অসম্ভব প্রায়।
রামেক হাসপাতাল অর্থোপেডিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. বিকে দাম জানান, রামেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের মতো একটি বড় বিভাগ মাত্র একজন অধ্যাপক দিয়ে চলছে। বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে বর্তমান সময়ে এখানে অন্তত ৫ জন অধ্যাপকের প্রয়োজন। এছাড়া সহযোগী অধ্যাপকের সংখ্যাও বর্তমানে মাত্র একজন।
তিনি আরো জানান, একটি ইউনিট চালাতে অধ্যাপকের প্রয়োজন হয়। অধ্যাপকের অনুপস্থিতিতে কোনোভাবে সহযোগী অধ্যাপক কাজ চালিয়ে নিতে পারে। একজন অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে তাকে বিভিন্ন সময় নানা জায়গায় যেতে হয়। ওই সময় ইউনিটের চার্জ নেয়ার মতো লোক পাওয়া যায় না। অর্থোপেডিক বিভাগে অতি শিগগিরই অন্তত ৫ জন অধ্যাপক ও ৫ জনের বেশি সহযোগী অধ্যাপক নিয়োগ দেয়া জরুরি।
রামেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, সম্প্রতি যেমন সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে তেমন রামেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন রোগী এ বিভাগের ভর্তি হয়ে থাকে। তবে বড় কোনো দুর্ঘটনার দিনে এর সংখ্যা ৫০ জনের বেশি হয়। এতো রোগীর অপারেশন করতেও চিকিৎসকদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।
অর্থোপেডিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. বিকে দাম আরো জানান, রামেক হাসপাতালে নতুন ১০ তলা ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে। সেটি সম্পূর্ণ হলে অর্থোপেডিক বিভাগের অনুমোদিত শয্যা সংখ্যাও বাড়বে আর তাতে রোগীদের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব করা সম্ভব হবে।
রামেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দীন জানান, নির্ধারিত আসনের তুলনায় যে চিকিৎসা সংকট আছে তা বলা যাবে না। নির্ধারিত আসনের তুলনায় যে কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি তাতে চিকিৎসকরা রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খায়। বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর যে স্থিতিশীলতা আছে তা দুই হাজারের অধিক। এই দুই হাজার রোগীর চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে অবশ্যই চিকিৎসক বাড়ানো প্রয়োজন।

