ঢাকাSunday , 11 October 2020
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দেশে প্রথম হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম: নির্মাণে বিএডিসি

Link Copied!

মো. জিয়াউল হক
পানি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। জীবনের উৎস পানি। পৃথিবীর দুই ভাগ (২৯%) স্থল, বাকি পাঁচ ভাগ (৭১%) জল। পৃথিবীতে মোট পানিসম্পদ এর পরিমাণ প্রায় ১,৪০০ মিলিয়ন কিউবিক কিলোমিটার (এমসিকেএম)। বাংলাদেশে ভূ-পরিস্থ মোট পানি সম্পদের পরিমাণ ১,৩৫০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার (বিসিএম)। এ ভূ-পরিস্থ পানি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নদ-নদী, খাল-নালা, বিলে অবস্থান করে অর্থাৎ বর্ষা মৌসুম (জুন-সেপ্টেম্বর) এবং পরবর্তী সময়ে সাগর মহাসাগরে পতিত হয়। তাই আমাদের দেশে ভূ-পরিস্থ পানি সারাবছর কৃষি ও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হয় না (সূত্র: বাংলাপিডিয়া)। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের খাদ্যের স্বয়ম্ভরতা অর্জনে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)’র অবদান অপরিসীম। বিএডিসি কৃষির মৌলিক উপকরণ-৩টি যথা: উন্নত বীজ, সার ও সেচ নিয়ে কাজ করে থাকে। তন্মধ্যে সেচ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। বিএডিসি’র ক্ষুদ্রসেচ উইং দেশব্যাপি প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার করে সেচ সুবিধা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রচলিত ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির ভারসাম্য রক্ষা করে ভূ-পরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ভূ-পরিস্থ পানির ব্যবহার ২৬.৬২% হতে ৩০% এ উন্নিত করার লক্ষ্যে হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম নির্মাণপূর্বক জলাধার সৃষ্টি করে সেচ কার্যক্রমে অবদান রাখছে।

ড্যাম নির্মাণের ইতিহাস সুপ্রাচীন। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২৯০০ অব্দে মিশরের কোশেইশে নীলনদের উপর ৪৯ ফুট (প্রায় ১৫ মিটার) উঁচু সুরকি পাথরে নির্মিত ড্যাম সদৃশ কাঠামোর চিহ্ন আবিষ্কৃত হয়েছে। এছাড়াও খ্রিস্টপূর্ব ২৭০০ অব্দে কায়রোর সাদ-আল-কাফারায় মৃত্তিকার বাঁধের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এশিয়ার প্রথম ড্যাম চীনের পাঁকৌ নদীতে নির্মাণ করা হয়। খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতকের পর সেচ কাজে বড় জলাধার বা জলাশয় সৃষ্টির নিমিত্ত ড্যাম নির্মিত হয়। ভারতবর্ষে ও প্রাচীন বাংলায়ও সে সময় থেকে ড্যাম নির্মাণ কর্মকান্ডের সাথে পরিচিত ছিল। সাম্প্রতিককালে দেশে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে বেশ কিছুসংখ্যক রাবারে তৈরি ড্যাম নির্মিত হয়েছে। সাধারণত নদ-নদী, খাল-নালা প্রবাহের আড়াআড়ি নির্মিত এপার ওপার বিস্তৃত অবকাঠামোকে প্রাকার বা বাঁধ (Dam) বলে। শুষ্ক মৌসুমে নির্দিষ্ট উচ্চতা ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নদ-নদী, খাল-নালায় পানি ধরে রাখার নিমিত্ত নির্মিত অবকাঠামো যা স্রোতের গতিরোধ করে বাঁধের উজানে জলাধার সৃষ্টি করা হয়। এ বাঁধ জলাধারের উঁচু সীমা হ্রাস বা বৃদ্ধিকরণ জলবিদ্যুৎ উৎপাদন, প্রাকৃতিক পানির সহজপ্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ অথবা নদ-নদী, খাল-নালায় পানি বৃদ্ধি করে সেচ, নৌ চলাচল, পরিবহণ এবং পর্যটন ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখে। বাঁধ সাধারণত দুই প্রকার-

১. মাটির তৈরি বাঁধ (Earth Dam);

২. কংক্রিট বা রাবার বাঁধ (Concrete or Rubber Dam)

এখন আর মাটির বাঁধ তৈরি করা হয় না। বতর্মানে আধুনিক ও টেকসই প্রযুক্তি হলো রাবার ড্যাম। বাঁধের সব শেষ সংস্করণ হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম।

বাংলাদেশের সর্বপ্রথম হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যামের ধারনা ও এ আধুনিক প্রযুক্তির প্রকল্প প্রণয়ন করেন তৎকালিন রাবার ড্যামের প্রকল্প পরিচালক জনাব মো. হাফিজ উল্লাহ চৌধুরী (পরবর্তীতে প্রধান প্রকৌশলী, ক্ষুদ্র সেচ)। তিনি ২০১২ সালে রাবার ড্যাম প্রকল্পের প্রশিক্ষণে চীন ভ্রমণ করেন এবং চীনা প্রতিষ্ঠান Beijing IWHR Corporation (BIC) কর্তৃক নির্মিত আধুনিক প্রযুক্তির হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে দেশে এসে সংস্থার তৎকালিন চেয়ারম্যান ড. এস.এম. নাজমুল ইসলাম ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়দ্বয় এবং মাননীয় কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী স্যারের সাথে আলোচনা করে প্রকল্প প্রণয়ন করেন। প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়ায় ডিসেম্বর/২০১৫ মাসের একনেক সভায় আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যামের ওপর তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের জন্য জনাব মো. হাফিজ উল্লাহ চৌধুরীকে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। একনেক সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা উক্ত হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যামের কার্যক্রমের ভিডিও অবলোকন এবং প্রকল্প অনুমোদন করেন; যা বর্তমান কৃষিমন্ত্রী জনাব ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, এমপি, কৃষি সচিব জনাব মো. নাসিরুজ্জামান এবং বিএডিসি’র চেয়ারম্যান জনাব মো. সায়েদুল ইসলাম মহোদয়গণের দিক নির্দেশনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম (Hydraulic Elevator Dam): যে সকল ড্যামের পৃথক পৃথক প্রতিটি নির্গমন পথ/দরজা/প্রবেশ দ্বার (Gate Panel) হাইড্রোলিক পাম্পের মাধ্যমে উঠা-নামা করানো হয় তাকে হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম বলে। হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম সমসাইজের MS Plate এর প্যানেল দ্বারা তৈরি হয়। রাবার ড্যামের সর্বশেষ সংস্করণ হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম। এ ড্যাম নির্মাণের ফলে সৃষ্ট জলাধার হতে গ্র্যাভিটি ফ্লো’র মাধ্যমে ভূ-পরিস্থ পানির সাহায্যে সেচ ও লবণ পানির অনুপ্রবেশ রোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যামের নির্গমন পথসমূহ Hinge Joint এর মাধ্যমে ড্যামের ভিত্তি (Foundation) বা পার্শ্বস্থ অবলম্বন (Abutment) এর সাথে সংযুক্ত করা হয়ে থাকে। তাই Hinge Joint সংযুক্তির উপর ভিত্তি করে হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যামকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

১. Foundation Hinge Joint হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম;

২. Abutment Hinge Joint হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম।

ব্যবহারবিধি অনুযায়ী Foundation Hinge Joint হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম শুধু এক দিকে পানি আটকাতে পারে। আর Abutment Hinge Joint হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম প্রয়োজনে উজান ও ভাটির দিকের পানি আটকানো যায়।

হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যামের সুবিধাসমূহ:

১) পরিচালনা, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খুব সহজ;

২) সুইচ-এর মাধ্যমে কম সময়ে উঠা-নামা করানো যায়;

৩) কপাট সমন্বয়ে গঠিত বলে প্রয়োজনে আংশিক ড্যাম উঠানো ও নামানো যায়;

৪) প্রয়োজনে উজান-ভাটি উভয়মুখী ব্যবহার করা যায়;

৫) দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় জোয়ার-ভাটা এলাকায় কৃষি কাজের জন্য উপযোগী;

৬) প্রাকৃতিক দুর্ঘটনা যেমন-অতিবৃষ্টি, বন্যা হতে উঠতি ফসল ও জানমাল রক্ষা করা যায়।

বিএডিসি জুলাই/২০১৬-জুন/২০১৯ অর্থবছর পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার ভরাশংখ খালে দেশের সর্বপ্রথম হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম এবং জুলাই/২০১৯-জুন/২০ অর্থবছর পর্যন্ত কক্সবাজার জেলার চকোরিয়া উপজেলার হারবাং ছড়ায় ২য় হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। পার্শ্বস্থ অবলম্বন Hinge Joint হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যামটি আনোয়ারা উপজেলার বরুমছড়া ও বারখাইন ইউনিয়নের ভরাশংখ খালের বরুমছড়ায় নির্মাণ করা হয়। কর্ণফুলী নদীর শাখা শিকলবাহা খাল হতে ভরাশংখ খালটি উৎপত্তি এবং পরবর্তীতে সাংগু নদীর সাথে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। শিকলবাহা খাল হতে ড্যাম পর্যন্ত খালটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ কিলোমিটার (কি.মি.) তন্মধ্যে ড্যামের উজানে খালের ক্যাচম্যান্ট এরিয়া ১৫ কি.মি.। উক্ত ৫ (পাঁচ) ভেন্ট বিশিষ্ট ড্যামটির দৈর্ঘ্য ৩৮ মিটার এবং উচ্চতা ৪ মিটার। শুষ্ক মৌসুমে ভরাশংখ খালটিতে সাগরের লবণ পানির অনুপ্রবেশ রোধ এবং উজানের মিঠা পানি আটকে সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য স্থানীয় চাষিদের চাহিদার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্যামের সকল সরঞ্জামাদি টার্নকি ভিত্তিতে চীনা প্রতিষ্ঠান Beijing IWHR Corporation (BIC) বাস্তবায়ন করেছে এবং বাংলাদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ড্যামটির ভিত্তি ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। আনোয়ারায় হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম চালুর ফলে দু’টি ইউনিয়নের প্রায় ১২০০ হেক্টর জমিতে ভূপরিস্থ পানির সাহায্যে সেচ সুবিধা প্রদান করা সম্ভব হচ্চে। এই ড্যামটি চালুতে একদিকে মিঠা পানির সেচ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে, অপরদিকে সাগরের লোনা পানি অনুপ্রবেশ রোধ করা সম্ভব হয়েছে; অর্থাৎ উজান ও ভাটির পানি আটকানো যায়। কক্সবাজার জেলার চকোরিয়া উপজেলার হারবাং ছড়া ইউনিয়নের হারবাং নামক স্থানে স্থাপিত হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যামটি ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ড্যামের সকল সরঞ্জামাদি টার্নকি ভিত্তিতে চীনা প্রতিষ্ঠান BIC বাস্তবায়ন করেছে এবং বাংলাদেশী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ড্যামটির ভিত্তি ও অন্যান্য আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে। চকোরিয়ার ড্যামটি Foundation Hinge Joint হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যাম এবং যা শুধুমাত্র একদিকের পানি আটকানো কাজে ব্যবহৃত হবে। বান্দরবান পাহাড় হতে হারবাং ছড়া উৎপত্তি হয়ে মাতামহুরী নদীতে পতিত হয়েছে। হারবাং ছড়ার দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ কি.মি. তন্মেধ্যে ড্যামের ছড়ার ক্যাচম্যন্ট এরিয়া ২০ কি.মি.। উক্ত ৪ (চার) ভেন্ট বিশিষ্ট ড্যামটির দৈর্ঘ্য ২৮ মিটার এবং উচ্চতা ৪ মিটার। ড্যামটি দ্বারা হারবাং ছড়ায় উজান থেকে আগত প্রবহমান পানি সংরক্ষণ করে ৮৫০ হেক্টর জমিতে ভূ-পরিস্থ পানির সেচ প্রদান করা সম্ভব হবে। উভয় ড্যামের মাধ্যমে বর্ণিত এলাকার ফসল বিন্যাসের পরিবর্তন, নিবিড়তা, উৎপাদন বৃদ্ধি ও সার্বিকভাবে কৃষকের আত্মঃকর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যামের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্থানীয় কৃষক/জনগণের চাহিদা মোতাবেক সম্ভ্যবতা যাচাইপূর্বক আরও অনেক আনুষাঙ্গিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। তন্মধ্যে ড্যাম সংলগ্ন ব্রীজ নির্মাণ, যার মাধ্যমে কৃষিজ যন্ত্রপাতি ও উৎপাদিত ফসল সহজে বাজারজাতকরণে কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিতসহ জনসাধারণ, অন্যান্য পণ্য ও মালামাল পরিবহণ করা হয়। সেচ অবকাঠামো হিসেবে পানি পরিবহণ, সংরক্ষণ ও জলাধার সৃষ্টির জন্য সেচ খাল পুনঃখনন/সংস্কার, বারিড পাইপ, পানি নিয়ন্ত্রণে স্লুইচগেইট, রেগুলেটর, পানি সংরক্ষণ কাঠামো, কালভার্ট, এক্যুইডাক্ট নির্মাণ করা হয়। এছাড়াও নদী বা খালটিকে সংরক্ষণের জন্য তীর সংরক্ষণ বাঁধ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ কাজ করা হয়। অপরদিকে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য ড্যাম সাইট ও নদী বা খালের তীরে ব্যাপক বৃক্ষ রোপণের ফলে পরিবেশের কোন ক্ষতির সম্ভবনা থাকে না। এতে ড্যাম সাইট বিনোদন/পযর্টন কেন্দ্রে পরিণত হয়। ড্যামসমূহ সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সুবিধাভোগীদের সমন্বয়ে একটি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি-পাবসস (Water Management Cooperative Association-WMCA) গঠিত হয়। বর্ণিত সমিতি ড্যামটি সেচের বিতরণ, পরিবহণ, সেচ ব্যবস্থাপনা, ড্যাম পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণের কাজ করে থাকে। এছাড়াও প্রতিবছর নির্বাচিত কমিটি সেচচার্জ আদায় এবং ড্যামের পানিতে সামগ্রিকভাবে মাছ ও হাঁস চাষ অথবা স্থানীয়ভাবে লীজ প্রদান করে সমিতির আয় বৃদ্ধি করে থাকে। এ দু’টি হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যামের সফলতার ওপর ভিত্তি করে আগামীতে বড় পরিসরে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। ফলে কৃষি ক্ষেত্রে খাদ্য, অন্যান্য ফসল ও জানমাল রক্ষার্থে বড় অবদান রাখবে এবং কৃষিতে বিপ্লব ঘটবে।

‘হাইড্রোলিক এলিভেটর ড্যামের পানিতে, সোনা ফলবে কৃষিতে’

লেখক : প্রধান প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), কৃষি ভবন, ঢাকা।