লাইফস্টাইল ডেস্ক : মানুষের ব্যক্তিত্ব তার পরম অলংকার। তা নিজে থেকেই গঠন করতে হয়। আমাদের ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে আমাদের আচার আচরণ এবং কথাবার্তায়। আমরা আমাদের কথাবার্তার মাধ্যমে আরেক জনের কাছে নিজেকে যেভাবে তুলে ধরি আমাদের নিজেদের সম্পর্কে তাদের ধারণাও সেরূপ হয়।
সমালোচনা সুন্দর ব্যক্তিত্বের একটি বিপরীত দিক। এটি একটি মানুষের সম্পর্কে অপর মানুষের মনে নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি করে। তাই আমাদের সবার উচিত সমালোচনা এড়িয়ে চলা। এই সমালোচনা থেকে নিজেকে বিরত রাখার জন্য নিচের অভ্যাসগুলো আয়ত্ব করতে পারেন।
ইতিবাচক কথা বলুন : আপনার মুখ থেকে নেতিবাচক কথা দূর করে ফেলুন। কেউ যদি আপনার সামনে কোনো ভুল করে তাহলে তাকে বকা না দিয়ে ভালো করে বুঝিয়ে বলুন। আর বাচ্চা যদি কোনো কাজে ভুল করে তাহলে তাকে পুনরায় ওই কাজটি করার জন্য উৎসাহ প্রদান করুন। যেকোনো কাজের খারাপ দিক আগে বলার চেয়ে ভালো দিকগুলো আগে তুলে ধরুন।
নিজেকে উপস্থাপনা : আপনি নিজেকে আরেকজন মানুষের কাছে যেভাবে দেখতে চান, তাকে ঠিক সেভাবে গ্রহণ করুন। কারো কাছ থেকে ভালো কিছু পেতে হলে তাকে ভালো কিছু দিতে হয়। আপনি যখন আপনার সামনের মানুষটির সঙ্গে ভালোভাবে কথা বলবেন, তার প্রতি সদয় হবেন, সেও আপনার প্রতি সেরূপ ব্যবহার করবে।
অযথা সন্দেহ ত্যাগ করুন : একজন মানুষের পক্ষে আরেকজন মানুষের কাজের উদ্দেশ্য সব সময় জানা সম্ভব নয়। তাই অযথা কাউকে সন্দেহ করা বন্ধ করুন। বিশেষ করে আপনার সব থেকে কাছের মানুষকে। তা না হলে সম্পর্কের ভিত নড়ে যাবে।
নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন না : মেয়েদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার ব্যাপারটা বেশি লক্ষ্য করা যায়। আবার ছেলেদের মধ্যে যে খুব কম তাও নয়। নিজের ভেতর থেকে নিরাপত্তাহীনতার ব্যাপারটা ঝেড়ে ফেলুন। নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন। নিজের আত্মবিশ্বাসকে আরো দৃঢ় করে তুলুন।
মানুষকে ক্ষমা করুন, ভুলকে নয় : একটি প্রবাদ বাক্য আছে যে, পাপীকে নয় পাপকে ঘৃণা কর। ঠিক তেমন কেউ যদি আপনার সঙ্গে অন্যায় করে তবে তাকে তার ভুল শুধরে নেওয়ার সুযোগ দিন। তার ভুলকে ধিক্কার জানান কিন্তু যে মানুষটি ভুল করেছেন তাকে নয়।
নিজের চিন্তা ভাবনাকে প্রাধান্য দিন : প্রত্যেকটা মানুষেরই কিছু ব্যক্তিগত চিন্তা ভাবনা থাকে। নিজেকে সাজানো বা পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য তৈরি করার জন্য। নিজের সেই চিন্তা ভাবনাকে প্রাধান্য দিন। নিজের মনের কথা শুনুন। নিজের জন্য সময় বের করুন। নিজেকে নিয়ে কিছু করুন। নিজের মানসিক শান্তির জন্য কিছু করুন।
নিজের ভুল স্বীকার করুন : নিজের ভুল স্বীকার করে নিলে কেউ কারো কাছে ছোট হয়ে যায় না। বরং নতুন কিছু শেখা যায়। মানুষ মাত্রই ভুল করে। তাই বলে সেই ভুল নিয়ে গোড়ামি করে বসে থাকা ঠিক নয়। নিজের ভুল স্বীকার করার পাশাপাশি ভুলগুলোকে শুধরে নিন।
মনোসংযোগের পরিচর্চা করুন : প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে একবার হলেও চিন্তা করুন সারাদিন কী কী ভুল করেছেন। এবং চেষ্টা করবেন আগামিকাল সেই ভুলগুলো না করার। যে কোনো বিষয়ে যেন মনোযোগ বাড়াতে পারেন সেই জন্য প্রতিদিন মনোসংযোগের চর্চা করুন।
সমবেদনা : একজন মানুষের মধ্যে সমবেদনা থাকাটা খুব দরকার। অন্য কারো দুঃখে যদি খারাপ না লাগে তাহলে বুঝবেন আপনি খুব কঠিন হয়ে গেছেন। যা আপনার বাস্তব জীবনে খুব খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্দিষ্ট ভবিষ্যত পরিকল্পনা : নিজের লক্ষ্য বা ভবিষ্যত পরিকল্পনাকে নির্দিষ্ট করে তুলুন। তাহলে সামনের পথ যতই কঠিন হোক না কেন তা পার করতে পারবেন।

