
আন্তর্জাতিক যুব দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার এমপি; পাশে মঞ্চে উপবিষ্ট (বাঁ দিক হতে) যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিম, যুব ও ক্রীড়া সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি এবং ঢাবি’র অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন
নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রতি বছর ১২ আগস্ট জাতিসংঘের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক যুব দিবস পালিত হয়ে থাকে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়েছে। এ বছর আন্তর্জাতিক যুব দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘যুব নেতৃত্বে টেকসই উন্নয়ন’।
দিবসটি পালন উপলক্ষে গতকাল শনিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলস্থ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার এমপি এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি এবং যুব ও ক্রীড়া সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (বাস্তবায়ন)’র স্বাগত বক্তব্যে শুরু হওয়া আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) যুগ্ম সচিব শিশির কুমার রায়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মাশুক মিয়া, যুগ্ম সচিব মঞ্জুরুল কাদের, উপ-সচিব নুমেরী জামান, যুব সংগঠনের প্রতিনিধি ডালিয়া আক্তার, রীতা রাণী সাহা ও সেলিনা আক্তার।
ড. বীরেন শিকদার বলেন, যুব সমাজ দেশের মূলশক্তি; বাংলাদেশের সকল মহান অর্জনে সর্বোচ্চ ভূমিকা যুবদের। বাংলাদেশের জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ যুব, এই বিশাল জনশক্তিকে সম্পদে পরিণত করতে পারলে খুব সহজেই উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত মহাসড়কে পৌঁছানো সম্ভব। তিনি বলেন, আমরা এমডিজি (মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল) অর্জন করেছি, নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি; এখন সময় যুব সমাজের অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ২০৪০ সালের মধ্যে এসডিজি (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল) অর্জনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার। এ সময় তিনি বলেন, কিছু বিপথগামী যুবক প্ররোচণায় পড়ে ভুল বুঝে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েছে-এদেরকে ফিরিয়ে আনতে হবে; এসব যুবকের মানসিক শূণ্যতা ও অস্থিরতা সৃষ্টির কারণ খুঁজে বের করার পরামর্শ দেন তিনি। যুবদেরকে যথাযথ প্রশিক্ষণের আওতায় এনে তাদের কর্মে সম্পৃক্ত করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মো. জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে হলে যুব সমাজকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। এসডিজি অর্জনের সকল বিষয়েই যুবরা সম্পৃক্ত; কাজেই যুব সমাজকে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে। আন্তর্জাতিক যুব দিবস বড় পরিসরে পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেহেতু দেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে তাই যুবদের বয়স ৩৫ বছর থেকে কিছুটা বৃদ্ধির চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে।
কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ বলেন, যুবদের সামনে আগানোর পথ প্রশস্ত করে দিতে হবে। সঠিক ও সময়োপযোগী যুবনীতি প্রণয়নে যুবদের কথা, ব্যথা-বেদনা, আশা-আকাঙ্ক্ষা, চাওয়া-পাওয়ার কথা আমাদের শুনতে হবে; সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থান অথবা আত্মকর্মের ব্যবস্থা করতে হবে। জঙ্গী তৎপরতা থামাতে যুবদের সচেতন করতে হবে, তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত প্রসারিত করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আনোয়ারুল করিম বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে যুব সমাজকে কর্মে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ লক্ষ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তথ্য ও প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে যুবসমাজ টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

