
জঙ্গিবাদ বিরোধী যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার
নিজস্ব প্রতিবেদক : যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার বলেছেন, সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা নাতিশীতোষ্ণ বাংলাদেশের আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠা মানুষেরা কখনও উগ্রবাদী হতে পারে না। ষড়যন্ত্রকারীদের প্ররোচণায় কেউ যদি বিপথে যায়ও তাহলে দেশের যুব সমাজই তাদের রুখে দেবে। রাজধানীর পল্টনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় এবং যুব ও ক্রীড়া সচিব কাজী আখতারউদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাসসহ উপস্থিত ছিলেন যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও আত্মকর্মে নিয়োজিত যুব এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।
ড. বীরেন শিকদার বলেন, জাতীয় নির্বাচনে একটি মহল না গিয়ে যে ভুল করেছে তার মাশুল দিতে তারা দেশে ‘আইএস বা জঙ্গি’ প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। তারাই সরকারের চলমান উন্নয়নের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে জঙ্গিদের মদদ দিচ্ছে। তিনি বলেন, ইসলামে জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। মদিনা সনদেও সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। যুবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে দেশের প্রতিটি বিভাগে জঙ্গিবাদ বিরোধী যুব সমাবেশ করা হবে বলে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুব কমিউনিটি রেডিও স্থাপনের বিষয়ে কাজ চলছে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মিনি স্টেডিয়াম করা হবে। ইতোমধ্যে ১৩১ মিনি স্টেডিয়ামের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আরিফ খান জয় বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তিরা একটি নতুন রূপে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করছে। তাই আমাদের যুব সমাজকে এ শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জঙ্গিবাদের সঙ্গে যারা জড়িয়ে গেছেন, তারা আলোর পথে ফিরে আসবেন বলে আশা করেন যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, সবার নিজের জীবনের ইতিহাস নিজেকেই তৈরি করতে হবে। কারণ নিজেকে চিনতে পারলে তা কখনোই কাউকে জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত করবে না।
কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ বলেন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ রুখতে হলে নিজেকে রক্ষা করতে হবে। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় যুব সমাজের চিন্তা ধারার আলোকে সুনির্দিষ্টি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
আনোয়ারুল করিম বলেন, জঙ্গিবাদের উৎসমূলে আমাদের আঘাত করতে হবে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ রুখতে পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিকসহ বিভিন্ন খাতে নজদারি বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। এ সময় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে জঙ্গিবাদ বিরোধী মডিউল অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দেন তিনি।

