সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি : তীব্র গরম আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে যখন অতিষ্ট সাধারণ মানুষের জীবন। ঠিক তখনি মনে পড়ে যায় শিণ্পী আকবরের জনপ্রিয় সেই গানটি- তোমার হাতপাখার বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে আসে।
আধুনিক যুগের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সেবা গ্রহণের সাধ্য নিম্ন আয়ের মানুষের হয়ে ওঠে না। অনেকে সাধ্য থাকলেও বিদ্যুৎ ভোগান্তির ফাঁদে পড়ে আধুনিক শীতল যন্ত্র ব্যবহার করেও কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না। তাই বাঙালীর ঐতিহ্যের আদলে গড়া হাতপাখার বাতাসেই স্বস্তি খুঁজে বেড়াচ্ছেন সুনামগঞ্জ শহরের বাসিন্দারা।
বাঁশ, বেত, তালপাতা আর কাপড় দিয়ে তৈরি নানা আকারের হাতপাখা বিক্রি হচ্ছে শহরের বিভিন্ন এলাকায়। মধ্যবাজার, পশ্চিম বাজার ও ডিএস রোডের কয়েকটি দোকানসহ নতুন কোর্ট পয়েন্ট, মোক্তারপাড়া পয়েন্ট এবং নতুন বাস স্টেশন এলাকায় ঘুরে ঘুরে হাতপাখা বিক্রি করেন ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা।
সোমবার শহরের ডিএসরোড সংলগ্ন পুরাতন কোর্ট এলাকার একটি হাতপাখা বিক্রেতার দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতারা পছন্দ অনুযায়ী পাখা বাছাই করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাখার গায়ে কারিগরদের হাতের বুননে ফুটিয়ে তোলা ফুল পাতা ও পাখির নকশা ক্রেতাদের নজর কাড়ছে।
এসব পাখা বিক্রি হচ্ছে সর্বনিম্ন ২০ টাকা থেকে শুরু করে ৪০ টাকায়। সবচেয়ে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে কাপড় দিয়ে তৈরি পাখা। এসব পাখায় বিভিন্ন ধরনের রঙিন ছবি প্রিন্টের কাজ করে ফুটিয়ে তুলেছেন কারিগররা। অন্যান্য পাখাগুলোতে একের পর এক রঙিন কাঠি সাজিয়ে নকশা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে কারুকাজ যাইহোক ভালো এবং টেকসই হাতপাখা বাছাই করে বিক্রেতার সঙ্গে দর দাম হাকিয়ে ক্রয় করতে দেখা গেছে ক্রেতাদের।
মারুফ আহমদ নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘গরমটা এই বছর অতিরিক্ত মনে হয়। এর মাঝে আবার একটু পর পরই বিদ্যুৎ চলে যায়। ঘরে ফ্যান আছে কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে মনে হয় আযাবের মধ্যে আছি। এজন্য হাতপাখা কিনলাম।’
আরেক ক্রেতা রুয়েল আহমদ বলেন, ‘আমার টিনের ঘর এমনিতেই দুপুরের রোদে গরম হয়ে থাকে। যদি বিদ্যুৎ চলে যায় ঘরে থাকার কোনো উপায় থাকে না। আমরা তো বাইরে ঘুরতে পারি কিন্তু মেয়েদের কষ্ট হয়। ঘরের মানুষের জন্য চারটা পাখা কিনেছি। আগে দাম কম ছিল। এখন একটু বেশি মনে হয়।’
ডিএস রোডের এক হাতপাখা বিক্রেতা প্রদ্দুন্ময় বণিক বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন এলাকা থেকে হাতপাখা সংগ্রহ করি। পাখার নকশার ওপর দাম ঠিক করে বিক্রি করি। গরমে মানুষ হাতপাখা কিনতে আসে। আমরা এ বছর দুই থেকে তিন হাজার পিস হাতপাখা সংগ্রহ করেছি। আশা করছি সবগুলা বিক্রি করতে পারবো।’

