ঢাকাThursday , 11 September 2014
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্কুলে পড়া সেখানেই খাবার

Link Copied!

education
রাজশাহী প্রতিনিধি

জেলার তানোর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে ২শ শিশু নিয়ে গড়ে উঠেছে স্কুলটি। দূর থেকে দেখে মনে হয় কচিকাঁচাদের হাট। এখানে পড়াশুনার পাশাপাশা খাওয়া, বিশ্রাম ও সামাজিক শিক্ষার ব্যবস্থা আছে।
সকাল থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিশুরা স্কুলে থাকে। সেখানে শিশুদের স্কুলমুখি হওয়া ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড শেখানো হয়। পাশাপাশি শিশুদের শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট স্পন্সরশিপ প্রোগ্রাম বিডি (সিডিএসপি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান। গ্রামীণ শিশুদের উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি চালু করা হয়েছে। গ্রামের শিশুদের শিক্ষামুখি করতে ও ঝরে পড়া রোধ করাই এ প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য। উপজেলার পঁচন্দর ইউনিয়নের মোহনপুর সিডিএসপির একটি প্রতিষ্ঠান আছে। মোট ১১ জন স্টাফ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে ৫ জন শিক্ষক, ৩ জন আয়া ও ২ জন বাবুর্চী আছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুই শ্রেণীর শিশু আছে। এদের মধ্যে এক শ্রেণী হচ্ছে যেসব শিশু এখনো স্কুলে যাওয়ার বয়স হয়নি তারা ও অন্যরা হলো যেসব শিশু আসেপাশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে তারা।
এখানে শিশুদের শিক্ষার মান উন্নয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড শেখানো হয়। দুপুরে প্রতিটি শিশুকে দেয়া হয় পুষ্টিকর খাবার। শুধু তাই না, লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুদের বিনোদনের জন্য বিস্তর ব্যবস্থা। পাঁচ শিক্ষকের মধ্যে একজন সংগীতশিল্পী ও আরেকজন নৃত্যশিল্পী। সপ্তায় দুই দিন এখানে ভর্তি হওয়া শিশুদের সংগীত ও নৃত্য শেখানো হয়।
সিডিএসপি মোহনপুর শাখার ম্যানেজার গনেষ মার্ডি জানান, যেসব শিশুরা এখনো স্কুলে যাওয়া শুরু করেনি তাদের সকাল ৯টায় প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাদের অক্ষরজ্ঞানসহ বিভিন্ন সাধারণ জ্ঞানের শিক্ষা দেয়া হয়। প্রতিষ্ঠানে শিশুদের খেলাধূলার ব্যবস্থা আছে। শুধু তাই না, খুব ছোট শিশু হলে তাদের খেলার জন্য বিভিন্ন খেলনাও রাখা আছে। সকাল থেকেই শিশুরা এ প্রতিষ্ঠানে হেসে খেলে তাদের শিক্ষা গ্রহণ করে।
এছাড়াও আশেপাশের ব্রাক স্কুল ও প্রাইমারিতে পড়ুয়া প্রথম শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টায় এখানে আসে। এরপরে দুপুর ১টায় শিশুদের দুপুরের খাবার পরিবেশন করা হয়। দুপুরের খাবারের পরে বিশ্রামের ব্যবস্থা আছে। এরপরে শুরু হয় লেখাপড়া। সকালে শিশুরা স্কুল থেকে যে পড়া শিখে এসেছে তাদের সেগুলো পড়ানো হয়।
গনেষ মার্ডি আরো জানান, প্রতিষ্ঠানে যে কয়েকজন শিক্ষার্থী আছে তাদের প্রত্যেকের আলাদা ফাইলে তথ্য সংগ্রহ করা আছে। শুধু খাওয়া ও শিক্ষাই না এখানে ভর্তি থাকা শিশুদের তেল, সাবান, শ্যাম্পু থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব কিছুই সরবরাহ করা হয়। প্রতিটি শিশুর জন্ম তারিখ লিপিবদ্ধ করা থাকে। যার যেদিন জন্ম সেইদিন তাদের জন্মদিন পালন করা হয় ও বিভিন্ন ধরনের উপহার দেয়া হয়।
উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের মোহনপুর ছাড়াও বাঁধাইড় ইউপির মিশন পাড়া, কলমা ইউপির ভিরস্তইল ও চান্দুরিড়া ইউপির বাবুলডাঙ্গা গ্রামের সিডিএসপির চারটি প্রতিষ্ঠান চালু আছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে ৮শ শিশু এ সেবা পাচ্ছে।
ব্রাক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী হাসিনা হাসদা ও রাসেল সরেন সিডিএসপি মোহনপুর শাখার ভর্তি হয়েছে। তারা দুই জন জানায়, সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ব্রাক স্কুলে লেখাপড়া করে তারা। এরপরে সিডিএসপির প্রতিষ্ঠানে চলে আসে। সেখানে দুপুরে খাবার খাওয়ার পরে কিছুক্ষণ বিশ্রামের পরে লেখাপড়া করতে হয়। সবাই খুব যত্নের সঙ্গে লেখাপড়া করায়।
ব্রাক স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী বিজলী ও আলভা হেম্ব্রম জানায়, এখানে খেলাধূলার করি আর লেখাপড়া করি। তাদের বাড়ি যেতে ভালো লাগে না। রাতে থাকার ব্যবস্থা থাকলে তারা সেখানেই থেকে যেতো বলে জানায়।
সিডিএসপি মোহনপুর শাখার ম্যানেজার গনেষ মার্ডি আরো জানান, তানোর থানায় ৪টি প্রতিষ্ঠান পরীক্ষামূলক চালু করা হয়েছে। ২০১৩ সালের জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করা হয়। তিনি দাবি করেন প্রতিষ্ঠানগুলো চালুর এক বছরের মাথায় আশেপাশের গ্রামগুলোতে ঝড়ে পড়া শিশু খুঁজে পাওয়া যাবে না।