ঢাকাSaturday , 2 November 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সেন্টমার্টিন রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে

Link Copied!

বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমাটিন হচ্ছে প্রাকৃতিক এক লীলাভূমি। এর জীববৈচিত্র্য আমাদের তথা বিশ্বের মূল্যবান সম্পদ। এ প্রবাল দ্বীপকে সংরক্ষণ করতে বিভিন্ন সময় পদক্ষেপ নেওয়া হলেও প্রভাবশালীরা সেটিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন। ফলে সেন্টমার্টিনের মতো একটি দ্বীপে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে হুমকি দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি আইএমইডির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে- সেন্টমার্টিনে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলেও এর বাস্তব অগ্রগতি নেই। প্রকল্প নেওয়া হলেও নজরদারির অভাবে কচ্ছপ ও অন্যান্য প্রাণী নিধন চলছে। এ ছাড়া ধারণক্ষমতার ৪ গুণের বেশি পর্যটক ভ্রমণ করায় সাম্প্রতিক পরিবেশ খারাপ হচ্ছে। অন্যদিকে প্রভাবশালী হোটেল ব্যবসায়ীদের কারণে স্থানীয়দের আয় কমে যাওয়ায় তারা দ্বীপের বিভিন্ন প্রজাতি নিধন করছে। যেখানে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বেঁচে থাকার জন্য জীববৈচিত্র্য প্রয়োজন, সেখানে জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাচ্ছে। মানুষের কিছু কর্মকান্ডের জন্য বিশ্বব্যাপী জীববৈচিত্র্য হ্রাস পাচ্ছে। যা প্রকৃতির জন্য হুমকিস্বরূপ। এর ফলে মানুষের চরম ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল বেশ কিছুকাল আগে থেকেই এ আশঙ্কা করেছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিবেশগত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সেটির এমন অবস্থা যে, প্রকল্পের বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা দেখা গেছে। আবার অন্য প্রকল্পের মাধ্যমে সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্যের অগ্রগতির অবস্থা কমে গেছে অনেক। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণবিষয়ক কর্মকান্ডে বেছে বেছে বড় কিছু প্রাণী ও উদ্ভিদকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রকৃতপক্ষে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন একটি হলিস্টিক বা সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি। আর তা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই করা প্রয়োজন। সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা খুবই দরকার। শুধু সরকারি উদ্যোগই নয়, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেরও এই জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। আমরা মনে করি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য সরকার ও বিভিন্ন এনজিওর পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেরও এগিয়ে আসা উচিত। দেশের সমুদ্রসীমা ও ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনাময় পরিক্ষেত্রে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ অন্যতম আলোচ্য বিষয়। প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন নিয়ে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার রাজনৈতিক বক্তৃতাবাজি করলেও এর রক্ষণাবেক্ষণ, দূষণ প্রতিরোধ ও উন্নয়নে তেমন কিছুই করেনি। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেন্ট মার্টিনের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছে সরকার। গত ২২ অক্টোবর ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশ ও নিরাপত্তার নাজুক অবস্থার চিত্র বেরিয়ে আসে। সে প্রেক্ষাপটে দ্বীপটিতে পর্যটন নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নভেম্বরে পর্যটকদের সেন্টমার্টিনে রাত্রিযাপন বন্ধ রাখাসহ আগামী ৪মাস পর্যটক সংখ্যা দিনে ২ হাজারে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেন্টমার্টিন যেতে পর্যটকদের রেজিস্ট্রেশন করা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেককে বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা গেছে। দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপটি বছরের পর বছর ধরে ভয়াবহ ভাঙ্গন ও দূষণের শিকার হলেও সে দিকে সরকারের কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না। বিগত সরকার শুধু সেন্ট মার্টিন দ্বীপ নিয়ে অহেতুক রাজনৈতিক প্রপাগান্ডায় লিপ্ত ছিল। সেন্ট মার্টিন ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের গোপন সমঝোতার দাবি করেছিলো শেখ হাসিনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছিল। এক রিপোর্টে জানা যায়, গত কয়েক বছরে সামুদ্রিক ভাঙনের কবলে সেন্টমার্টিন দ্বীপের অর্ধেকের বেশি সমুদ্রে বিলীন হয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাবৃদ্ধির সাথে সাথে সামুদ্রিক ঢেউয়ের অবিরাম আঘাতের মুখে সেন্টমার্টিন এখন প্রবাল পাথরের উপর দাড়িয়ে থাকলেও চারপাশের ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে না পারলে দ্বীপটির অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিগত সরকার সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পর্যটন থেকে বছরে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও দ্বীপের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি উপেক্ষা করেছে। অথচ দ্বীপটি নিয়ে মনগড়া কনস্পিরেসি থিউরি বানিয়ে রাজনৈতিক বয়ান হাজির করেছে। সেন্টমার্টিনে অনিয়ন্ত্রিত পর্যটকদের যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ, রাত্রিযাপন ও এবং প্লাস্টিক দূষণ রোধের অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগ এই প্রেক্ষাপটে খুবই ইতিবাচক। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা প্রবাল দ্বীপের ভাঙ্গন রোধে কার্যকর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ত্বরিৎ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শুধুমাত্র পর্যটনের আয় বৃদ্ধি করতে সেন্ট মার্টিনে অপরিকল্পিত অবকাঠামো ও দালানকোঠা নির্মাণের কারণে ভাঙনের সাথে সাথে অতিরিক্ত চাপে দ্বীপটি নিচের দিকে দেবে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অতীতের অবহেলা ও ভুলের কারণে বর্তমান দূষণ ও ভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে। এ বিষয়ে আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকলেও তা রক্ষিত করা হয়নি। সেন্টমার্টিন নিয়ে আন্তর্জাতিক ওশান সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৪৫ সালের মধ্যে দ্বীপটি পুরোপুরি প্রবালশূন্য হতে পারে। দ্বীপটিতে প্রবাল ছাড়াও বিশ্বজুড়ে বিলুপ্তপ্রায় জলপাই রঙের কাছিম, ৪ প্রজাতির ডলফিন, বিপন্ন প্রজাতির পাখিসহ নানা ধরনের বন্য প্রাণীর বাস। দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশবাদীরা বলছেন, দ্বীপটি পর্যটকদের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রমের কারণে মারাত্মক ধ্বংসের মুখে রয়েছে। দেশের একমাত্র ওই প্রবাল দ্বীপের জীববৈচিত্র্য এবং বনভূমি মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে। ফলে সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত সাময়িক নিষিদ্ধ করা উচিত। দ্বীপের পর্যটন সংক্রান্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, নির্ধারিত নৌযানের অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধ ও পরিবেশবান্ধব অবস্থা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে। স্থানীয় যুবকদের ট্যুরিস্ট গাইড হিসাবে প্রশিক্ষিত করে টেকসই পরিবেশবান্ধব পর্যটন নিশ্চিত করতে হবে। সমুদ্রে শৈবাল ও কোরাল পুনর্জন্ম নির্বিঘ্ন রাখতে পর্যটকবাহী জাহাজ তীর থেকে ২০০ মিটার দূরে জেটিতে নোঙর নিশ্চিত করার নতুন এ নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
দ্বীপের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে বলা হয়, দ্বীপে পরিবেশসম্মত সেকেন্ডারি ডাম্পিং স্টেশন স্থাপন করা হবে। সম্পূর্ণ দ্বীপ সার্বক্ষণিক পরিষ্কারপরিচ্ছন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্থানীয়দের নিয়ে সেচ্ছাসেবক দল গঠন করা হবে। দ্বীপের সব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় নিজ নিজ বর্জ্য সেকেন্ডারি ডাম্পিং স্টেশনে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্জ্য পরিবেশসম্মত ব্যাগে ভর্তি করে বাড়ির সামনে রাখতে হবে। দ্বীপে ও সমুদ্রবক্ষে বর্জ্য ও পয়ঃবর্জ্য অনুমতি ছাড়া নিঃসরণ করা যাবে না। নৌযান বা জাহাজ বর্জ্য নিঃসরণ করলে রুট পারমিট বাতিলসহ জাহাজ চলাচল বন্ধ করা হবে। দ্বীপে চলাচলকারী সব জলযান এবং পলিথিন ও প্লাস্টিক পাত্রে খাবার, চিপস এবং প্লাস্টিক বোতলে পানি ও পানীয়, পলিথিন প্লাস্টিকজাত মাল্টি-লেয়ার মোড়কসহ পণ্য, পলিথিন ব্যাগ, সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিকজাত সব পণ্য, সিগারেট ফিল্টার ও কটন বার্ডস উৎপাদন, সংরক্ষণ, মজুদ, পরিবহন, ক্রয়, বিক্রয় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সৈকত এলাকায় কেয়াবন ও ঝোপঝাড় ধ্বংস, অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন, নৌকার নোঙর ফেলে প্রবাল ধ্বংস, প্রবাল ও শৈবালযুক্ত পাথরের উপর হাঁটাচলা, জ্বালানির জন্য কেয়াবন, প্যারাবন ও গাছপালা কাটা এবং জোয়ারভাটা অঞ্চল ও দ্বীপের অভ্যন্তর, সৈকত ও সমুদ্র এলাকা থেকে পাথর উত্তোলন করা যাবে না। সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারা মাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস, সামুদ্রিক শৈবাল এবং কেয়া ফল সংগ্রহ ও ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে না। জাহাজ থেকে পাখিকে চিপস বা অন্য কোন খাবার পরিবেশন করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের কঠোর হতে হবে।
যেখানে বঙ্গোপসাগরে নতুন জেগে ওঠা ভূমি দেশের জন্য নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে, সেখানে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনের ধ্বংসের চিত্র বড় দুশ্চিন্তা ও আশঙ্কার বিষয়। চলমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও সমুদ্র সম্পদ নিয়ে বিপুল সম্ভাবনার সাথে সাথে বিরূপ আশঙ্কারও যথেষ্ট কারণ রয়েছে। সাগরে চীন-মার্কিন দ্বন্দ্বের পাশাপাশি সেন্টমার্টিন নিয়ে মিয়ানমারের দৃষ্টি লক্ষ্য করা গেছে। অনেক আগেই সরকারিভাবে সেন্টমার্টিন দ্বীপকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে গণ্য করা হলেও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্টদের অনীহা ও দায়িত্বহীনতার কারণে ত্রিমুখী সংকটের সম্মুখীন হয়েছে সেন্টমার্টিন। দ্বীপটির ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের কারণেই এ নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনীতিতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের আলোচনা টেনে এনেছিলেন। এসব কারণে সেন্টমার্টিন নিয়ে দেশের মানুষের আগ্রহ ও কৌতুহল অনেক বেশি। অন্তর্বর্তী সরকার এবং আগামি নির্বাচিত সরকার সেন্টমার্টিনের ভাঙন রোধ ও পরিবেশ দূষণ রোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে, এটাই সকলের প্রত্যাশা। কোনো গুজব ও অপপ্রচার কাম্য নয়। সেন্টমার্টিনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে মানুষ জানতে চায়। দেশের অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদ একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের ভাঙ্গন রোধ, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত নিরাপত্তার প্রয়োজনে টাস্কফোর্স ও বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করার উদ্যোগ নিতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পর্যটন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরিবেশগত সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। সেন্টমার্টিন সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা ও অস্বচ্ছতা দূর করতে সরকারকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। সেই সাথে সমুদ্র সম্পদ বা ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।