ঢাকাSaturday , 15 September 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৬ জেলায় উৎপাদিত হবে ৭৭ হাজার টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য

Link Copied!

ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনঃখনন বিষয়ে কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন বিএডিসি’র সদস্য পরিচালক (ক্ষুদ্রসেচ) মো. আব্দুল জলিল

হাসান রেজা : ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৬ জেলা ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, টাংগাইল, জামালপুর এবং শেরপুরের ১৫ হাজার ৪শ’ ৯৮ হেক্টর জমিতে ভূ-উপরিস্থ পানি নির্ভর সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতি বছর ৭৭ হাজার ৪শ’ ৯০ মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদনের লক্ষ্যে নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ঢাকা বিভাগের টাংগাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলায় ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন প্রকল্প। সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পের গৃহীত কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে প্রকল্পভুক্ত এলাকায় ভূ-উপরিস্থ পানি নির্ভর সেচ সুবিধা সম্প্রসারিত হবে। ফলে অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদনের পাশাপাশি এ অঞ্চলে আশানুরূপ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দারিদ্র্য বিমোচনসহ আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।
সূত্র জানায়, ১ শ’ ৩৯ কোটি ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে জানুয়ারি-২০১৮ থেকে জুন-২০২২ মেয়াদে এ প্রকল্পটি টাংগাইল জেলার ১২টি উপজেলা, কিশোরগঞ্জের ১৩টি, ময়মনসিংহের ৯টি, নেত্রকোনার ১০টি, জামালপুরের ৭টি এবং শেরপুরের ৫টি উপজেলাসহ মোট ৫৬টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চলমান প্রকল্পটি পূর্বে সমাপ্ত বৃহত্তর ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন ফলপ্রসূ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। জানা গেছে, এর আগে ২০০৫-২০০৮ মেয়াদে বৃহত্তর ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের ১ম পর্যায় এবং ২০০৯-২০১৪ মেয়াদে প্রকল্পের ২য় পর্যায় সমাপ্ত হয়। প্রকল্পের ১ম ও ২য় পর্যায়ের সকল কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সফলভাবে বাস্তবানের মাধ্যমে ৬ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারিত হওয়ায় প্রতি বছর প্রায় ২৩ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদিত হচ্ছে; যার বাজার মূল্য প্রায় ৬৪ কোটি টাকা। প্রকল্প এলাকায় কৃষকদের চাহিদা থাকায় ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতার উপর ভিত্তি করে সমাপ্ত প্রকল্প দু’টির অবকাঠামোগত সুবিধাদি ব্যবহারের মাধ্যমে চলমান প্রকল্পের উদ্যোগে অতিরিক্ত চাষযোগ্য জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি সমাপ্ত প্রকল্পের অবকাঠামোগত সুবিধাদির সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, মনিটরিং ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রাখাও সম্ভব হবে বর্তমান প্রকল্পের মাধ্যমে।

প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় স্থাপিত গভীর নলকূপ

সূত্র জানায়, প্রকল্প এলাকার ৬টি জেলায় ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ধলেশ্বরী, সোমেশ্বরী, কংস, নেতাই, সুতিয়া, ধনু, ধলাই, ভোগাই, চেল্লাখালীসহ বিভিন্ন নদীতে প্রচুর পরিমাণ পানি থাকে, যা সেচ কাজে খুবই উপযোগী। এছাড়া, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলা দু’টি হাওরসমৃদ্ধ। হাওরে প্রচুর পরিমাণ পানি থাকে যা সেচ কাজে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া বিএডিসি’র রাবার ড্যাম প্রকল্পের আওতায় শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীতে এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় মেনং ছড়ায় দু’টি রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে প্রচুর পরিমাণ পানি মজুদ থাকে; এ পানি দিয়ে প্রকল্পভুক্ত এলাকার চাষযোগ্য জমি সেচের আওতায় আনা সম্ভব।
তথ্যমতে, প্রকল্প এলাকার অধিকাংশ জনগণ দরিদ্র। চলমান প্রকল্পের মাধ্যমে খাল পুনঃখনন, অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেচ অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক কৃষি ও সেচ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ১৫ হাজার ৪শ’ ৯৮ হেক্টর জমিতে ভূ-উপরিস্থ পানি নির্ভর সেচ সুবিধা সম্প্রসারিত হবে এবং প্রকল্প শেষে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৭৭ হাজার ৪শ’ ৯০ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে করে খাদ্য আমদানির পরিমাণ হ্রাস পাবে। প্রকল্প এলাকার কৃষকগণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দক্ষতা অর্জন করবেন এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারবেন। ফলে তাদের দারিদ্র বিমোচনসহ আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।
প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম : প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে সৌরশক্তিচালিত এলএলপি, বৈদ্যুতিক মটর ও পাম্প স্থাপন; বারিড পাইপ লাইন নির্মাণ, বারিড পাইপ লাইন বর্ধিতকরণ, এলএলপি ও সোলার পাম্প স্কীমে ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণের জন্য ইউপিভিসি পাইপ ক্রয়, ২৫০ কিলোমিটার খাল/নালা পুনঃখনন, পানি নির্গমন ব্যবস্থা নির্মাণ, সৌর শক্তিচালিত ডাগওয়েল খনন (পাতকূয়া), ড্রীপ ইরিগেশন (পানি বিতরণ ব্যবস্থাসহ), ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা বর্ধিতকরণ, এলএলপি’র জন্য পাম্প হাউজ নির্মাণ, বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, সেচ যন্ত্রের ম্যানেজার/অপারেটর/ফিল্ডসম্যান, কৃষক প্রশিক্ষণ এবং খালের পাড়ে বৃক্ষরোপনসহ নানা কার্যক্রম।
জুন-২০১৮ পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি : প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১টি রেস্ট হাউজ মেরামত/সংস্কার, ১টি আঞ্চলিক গুদাম আংশিক মেরামত, বিএডিসি’র চালুকৃত ৬টি গনকূর পাম্প ঘর ও পাম্পবেস মেরামত করা হয়েছে। এছাড়া, ৫-কিউসেক এলএলপি পাম্পের বারিড পাইপ লাইন নির্মাণের জন্য ৮ হাজার মিটার ইউপিভিসি পাইপ ক্রয়, ২-কিউসেক ফোর্সমোড নলকূপের ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা বর্ধিতকরণের জন্য ১১ হাজার মিটার ইউপিভিসি পাইপ ক্রয়, ২-কিউসেক বিদ্যুৎচালিত এলএলপি’র ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণের জন্য ১০ হাজার ৫শ’ মিটার ইউপিভিসি পাইপ ক্রয়, ১-কিউসেক সোলার ভূ-গর্ভস্থ সেচনালা নির্মাণের জন্য ১২ হাজার মিটার ইউপিভিসি পাইপ ক্রয়, কম্পিউটার, ফটোকপিয়ার এবং আসবাবপত্র ক্রয় করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মুহাম্মদ বদরুল আলম দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, জাতীয় কৃষিনীতি এবং জাতীয় পানি নীতি অনুযায়ী ভূ-উপরিস্থ পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে প্রকল্পের মাধ্যমে সেচ এলাকা সম্প্রসারণ, আধুনিক সেচ প্রযুক্তি ব্যবহার, সেচ দক্ষতা বৃদ্ধি, সেচ খরচ হ্রাস, সেচ ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান আছে। ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রকল্পভুক্ত এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।