ঢাকাSunday , 30 November 2014
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হলুদের হাতছানি

Link Copied!

Jhenaidahঝিনাইদহ প্রতিনিধি : দেশের ঋতু পরিক্রমায় হেমন্ত ও শীত ঋতুতে আমাদের দেশের মাঠে মাঠে সরিষা চাষ হয়। মাঠে সরিষা ফুলের অপূর্ব হলুদ শোভার চোখ জুড়ানো দৃশ্য পথচারীদের আকৃষ্ট করে। দক্ষিণাঞ্চলের আট জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মাঠের পর মাঠ সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধ প্রকৃতির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেয়।
চলতি মৌসুমে খুলনা বিভাগের যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও কুষ্টিয়ার জেলায় লক্ষ্যমাত্রার থেকে বেশি সরিষা চাষ হয়েছে। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকরা তেলের চাহিদা মিটিয়ে অর্থনৈতিকভাব লাভবান হবে বলে জানিয়েছে যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিস।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিসের উপ-পরিচালক আহমদ হোসেন ইকবল জানান, গত কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলে সরিষা চাষ বেড়েছে। এবার খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ৬৫ হাজার ৭শ’ ৭২ হেক্টর সর্ষে চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হলেও চাষ হয়েছে ৬৭ হাজার ১শ ৫০ হেক্টর জমিতে। সর্ষের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৮ হাজার ৯শ’ ২৬ টন। কারণ হিসাবে তিনি জানান, আমন ধান কাটার পর মাঠ ফাকা হয়ে যাওয়ায় একটি তাগিদ থেকেই সরিষা চাষ করে কৃষকরা। সরিষা তুলে আবার বোরো ধান আবাদ করা যায়। এ ছাড়া মাত্র ৭০ থেকে ৮০ দিনেই সরিষা চাষ হয়। আবার বাজারে তেলের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা মেটানোর জন্যই কৃষকরা সরিষা চাষে ঝুকছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে যশোর জেলায় লক্ষমাত্রা ছিল ১৬ হাজার ৮শ ৮৪ হেক্টর চাষ হয়েছে ১৬ হাজার ৯শ ৬৭ হেক্টর, ঝিনাইদহে ৯ হাজার ৯শ ৭৪ চাষ হয়েছে ৯ হাজার ৯শ ৭০ হেক্টর, মাগুরায় ১২ হাজার ১শ ৮২ চাষ হয়েছে ১২ হাজার ৮০ হেক্টর, নড়াইলে ৫ হাজার ৭শ ৪৪ চাষ হয়েছে ৫ হাজার ৬শ ৪০ হেক্টর, খুলনায় ৪শ ২৮ চাষ হয়েছে ৪শ ১০ হেক্টর, বাগেরহাটে ৭শ ৪৬ চাষ হয়েছে ৬শ ৯৫ হেক্টর, সাতক্ষীরায় ৭ হাজার ৪শ ৭৩ চাষ হয়ছে ৭ হাজার ১শ ৬৫ হেক্টর, কুষ্টিয়ায় ৪ হাজার ৪শ ৭০ চাষ হয়েছে ৫ হাজার ৩শ ৮৫ হেক্টর, চুয়াডাঙ্গায় ৩ হাজার ২শ ৮৭ চাষ হয়েছে ৩ হাজার ১শ ৭০ হেক্টর এবং মেহেরপুরে ৪ হাজার ১শ ৯৯ চাষ হয়েছে ৬ হাজার ১শ ৯০ হেক্টর।
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মহেশ্বরচাঁদা গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দীন জানান, সরিষা উঠার পর ওই জমিতে বোরো চাষ করা যাবে। বোরো কাটার পর পাট বা আউশ ধান চাষ করা যাবে। একই জমিতে বছরে ৩টি ফসল ফলবে। যে কারণে কৃষকদের সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গোসাইডাঙ্গা গ্রামের সেকেন্দার আলী সরদার জানান, আমি এবছর ২ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। তিনি আরো জানান, সরিষা চাষে খরচ কম সময়ও লাগে কম এছাড়া সরিষা তুলে সহজেই ধান চাষ করা যায়।
মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার বাগুয়ান গ্রামের চাষি দবির উদ্দীন জানান, তেলের দাম বেশি হওয়ায় কৃষক ফের সরিষা চাষে ঝুঁকছে। গত বছর দাম ভাল পাওয়ায় এবার ২ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি।
সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলার বাদঘাটা গ্রামের বরকত আলী জানান, এবছর আমি আড়াই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। তিনি জানান, বছরে আমার ১২ থেকে ১৩ মণ সরিষা উৎপাদন করি। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাকিটা বিক্রি করবো।