প্রতি বছর ৮২ হাজার টন খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়বে
দেশের উত্তরাঞ্চলে ভূ-গর্ভের পানি ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের আওতাধীন বৃহত্তর বগুড়া ও দিনাজপুর জেলা ক্ষুদ্রসেচ উন্নয়ন প্রকল্প। প্রকল্পের আওতায় খাল ও নালা পুনঃখনন এবং অন্যান্য সেচ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে প্রায় ১৮ হাজার ৩৪৩ হেক্টর জমিতে সেচের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। ফলে এ অঞ্চলে প্রতি বছর প্রায় ৮২ হাজার ৫৪৪ মেট্রিক টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, গৃহীতব্য বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে প্রকল্পভুক্ত এলাকায় ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা ও ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে এবং ভূ-গর্ভস্থ পানির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত হবে। এতে করে অতিরিক্ত খাদ্যশস্য উৎপাদনের পাশাপাশি এ অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে যা দারিদ্র্য বিমোচন, আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।
২০১৭ থেকে ২০২১ মেয়াদী এ প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ৬ জেলার ৪৭টি উপজেলা যথা বগুড়া জেলার বগুড়া সদর উপজেলা, সোনাতলা, সারিয়াকান্দি, শেরপুর, ধুনট, গাবতলী, শাহজাহানপুর, নন্দীগ্রাম, কাহালু, দুপচাঁচিয়া, আদমদিঘি ও শিবগঞ্জ উপজেলা; জয়পুরহাট জেলার জয়পুরহাট সদর, কালাই, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর, পাঁচবিবি উপজেলা; গাইবান্ধা জেলার গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ, পলাশবাড়ী, গোবিন্দগঞ্জ এবং সাদুল্যাপুর উপজেলা; দিনাজপুর জেলার দিনাজপুর সদর, পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, ঘোড়াঘাট, খানসামা, হাকিমপুর, বিরল, বীরগঞ্জ, চিরিরবন্দর, কাহারোল, বোঁচাগঞ্জ এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা; ঠাকুরগাঁও জেলার ঠাকুরগাঁও সদর, বালিয়াডাঙ্গী, পীরগঞ্জ, হরিপুর এবং রানিশংকৈল উপজেলা; পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া, আটোয়ারী, বোদা এবং দেবীগঞ্জ উপজেলায় প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে।
সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় ২৫০ কিলোমিটার খাল বা নালা পুনঃখনন, ১৮৫টি পানি সংরক্ষণ অবকাঠামো (হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার) নির্মাণ, ১০ সেট বিদ্যুৎচালিত ৫ কিউসেক এলএলপি (লো-লিফট পাম্প), ২৫ সেট ২ কিউসেক এলএলপি, ৫০ সেট ১ কিউসেক এলএলপি স্থাপন এবং ১০ সেট সৌরচালিত ০.৫ কিউসেক এলএলপি স্থাপন করা হবে। এছাড়া, প্রকল্পের মাধ্যমে ১২১ কিলোমিটার ভূ-গর্ভস্থ সেচ নালা নির্মাণ, ১০ হাজার মিটার হোস পাইপ সরবরাহ, ২৫ হাজার বৃক্ষরোপণ, ৮৫টি বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ এবং ৪৫০ জন কৃষক প্রশিক্ষণসহ সেচ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বন্যা, খরা ও নদীভাঙনসহ বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রকল্পভুক্ত উপজেলাগুলোর কৃষি কার্যক্রম পশ্চাৎপদ অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় সেচের অভাবে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। প্রকল্প এলাকার মধ্য দিয়ে করতোয়া, বাঙালী, যমুনা, তিস্তা, আত্রাই পুনর্ভবাসহ বিভিন্ন নদী প্রবাহিত। এসব নদীর সঙ্গে সংযোগ খালসহ অন্য খালগুলো পুনঃখনন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে নদী বা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে সেচকাজে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় খাল-নালা খনন, পুনঃখনন ও সেচ অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে এই অঞ্চলের ভূ-পরিস্থ পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী এস. এম. শহীদুল আলম ‘দৈনিক পাঞ্জেরী’কে বলেন, প্রকল্প এলাকায় মোট ৯ লাখ ৯৮ হাজার হেক্টর আবাদযোগ্য জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৯ লাখ হেক্টর জমি ইতোমধ্যে সেচের আওতায় এসেছে এবং প্রায় ৯৮ হাজার হেক্টর জমি এখনও সেচ কার্যক্রমের বাইরে রয়েছে। প্রকল্পের সেচ কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে প্রকল্প এলাকার ১৮ হাজার ৩৪৩ হেক্টর জমি সেচের আওতায় আসবে, প্রকল্পের কৃষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ফলে সেচ দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের মধ্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে বলে মন্তব্য করেন প্রকল্প পরিচালক।

