হাসান রেজা : গ্রহীতাদের কাছে কার্যকর ও মানসম্মত তথ্যসেবা পৌঁছে দিতে আধুনিক ও সময়োপযোগী বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কৃষি তথ্য সার্ভিস আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে ৯টি আঞ্চলিক অফিস ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি স্থাপন, প্রশিক্ষণ ও তথ্য সেবা সংক্রান্ত সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করা হবে। যার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও গণমাধ্যমের সহায়তায় কৃষি তথ্য সেবা পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে।
প্রকল্পটি কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) বাস্তবায়ন করছে। মার্চ-২০১৮ থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কার্যক্রম দেশের ৮টি বিভাগের ১২টি জেলায় বাস্তবায়িত হবে এবং জুন-২০২০ মেয়াদে নির্ধারিত কার্যক্রম সমাপ্ত হবে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে কৃষকের দোরগোড়ায় চাহিদা মাফিক সেবা প্রদান করা বিদ্যমান সম্প্রসারণ ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত কঠিন। ব্লক পর্যায়ে অপ্রতুল জনবলের বিপরীতে অধিকসংখ্যক সেবা প্রত্যাশীকে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান একপ্রকার দুঃসাধ্য। সেক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ও গণমাধ্যমের সহায়তায় খুব সহজেই সেবা গ্রহীতাদের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব। গণমাধ্যমের সফল ব্যবহার করে তথ্য বিস্তারের এ কাজটি কৃষি তথ্য সার্ভিস জন্মলগ্ন থেকেই করে আসছে। কিন্তু, ১৯৬১ সালে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত কাজের ব্যাপ্তি ও পরিধি বহুগুণে বাড়লেও সাংগঠনিক সক্ষমতা সেই তুলনায় বৃদ্ধি পায়নি বলে জানান তারা।
সূত্রমতে, সংস্থার সার্বিক কার্যাবলী সদর দপ্তর ও ১১টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের সর্বমোট মাত্র ২৪৩ জন জনবলের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। উল্লেখিত ১১টি কার্যালয়ের মধ্যে শুধুমাত্র ২টি অঞ্চলের নিজস্ব অফিস ভবন রয়েছে। অন্যান্য কার্যালয়গুলোর কার্যক্রম ভাড়া বাসায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে করে মানসম্মত সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না। গৃহীত এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৯টি আঞ্চলিক কার্যালয় ভবন নির্মিত হলে কৃষি তথ্য সেবা কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে। এই প্রকল্পের ৫৫ জন জনবল প্রকল্পের কার্যক্রমকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করাসহ সংস্থার নিয়মিত কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, প্রকল্পের কার্যক্রমের ফলে কৃষি তথ্য সার্ভিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষির আধুনিক তথ্য সহজলভ্য করে কৃষিজীবীদের সচেতনতা সৃষ্টি করে লাগসই প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করবে। প্রকল্পের মাধ্যমে ৯টি আঞ্চলিক অফিস ভবন, ১টি প্রেস ভবস, ১টি কমিউনিটি রেডিও ভবন নির্মিত হবে যা কৃষি তথ্য সার্ভিসের ভৌত অবকাঠামোগত সুবিধা সম্প্রসারণে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, প্রেস শাখার আধুনিকায়নে ৫টি মুদ্রণ ও মুদ্রণ সংশ্লিষ্ট যন্ত্র সংযোজন করা হবে যার ফলে সংস্থার মুদ্রণ শাখার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং অধিকতর মানসম্মত মুদ্রণ সামগ্রী প্রকাশ করা সম্ভব হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ২টি এডিটিং প্যানেল, সদর দপ্তর ও আঞ্চলিক পর্যায়ের জন্য ১৪টি শ্যুটিং ক্যামেরা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্র/যন্ত্রাংশ ক্রয়সহ বিদ্যমান কৃষি রেডিও’র ট্রান্সমিশন/সহায়ক যন্ত্র সংযোজিত হলে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া শাখার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ই-কৃষি সম্প্রসারণের জন্য ৫০টি ফসল/প্রযুক্তিভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া ই-বুক, ১০টি মোবাইল অ্যাপস, ৩টি কনটেন্ট রিপোজিটরি এবং প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ক্রয়ের মাধ্যমে বিদ্যমান কৃষি কল সেন্টারের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারিত আছে। তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য বিস্তারের পরিপূরক শক্তি হিসেবে স্থাপিত বিদ্যমান ৪৯৯টি এআইসিসি (এগ্রিকালচার ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন সেন্টার)’র সক্ষমতা বৃদ্ধি, এআইসিসি সদস্য (কৃষক/কৃষাণী), কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ৬ হাজার ১শ’ ৩০ জনের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ/কর্মশালার আয়োজন, আধুনিক কৃষি তথ্য বিস্তারের লক্ষ্যে প্রায় ৮.১২ লাখ কপি মুদ্রণ সামগ্রী প্রকাশ ও বিতরণ, ১৭টি ভিডিও সামগ্রী নির্মাণ ও প্রচারসহ আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণে উৎসাহিত করতে ও সরকারের কৃষি উন্নয়নের সফলতা তুলে ধরতে বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণামূলক কর্মকা- বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানায় প্রকল্প অফিস।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ড. মো. সাইফুল ইসলাম ‘দৈনিক পাঞ্জেরী’কে বলেন, বর্তমান জনবান্ধব সরকারের সময়ে দেশের কৃষিখাতের প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়েছে। এখন সময় এসেছে উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রাকে টেকসই রূপ দেয়ার। বর্তমান সরকারের রূপকল্প-২০২১ কে বাস্তবায়ন করতে হলে দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনাকে প্রযুক্তি নির্ভর ও ডিজিটালাইজড করার কোনো বিকল্প নেই। সেক্ষেত্রে এই প্রকল্পটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দক্ষ ও কার্যকর তথ্য সেবা প্রদান এবং ই-কৃষির প্রসারে বেশকিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান প্রকল্প পরিচালক।

