
রাজধানীর গাবতলীতে বিএডিসি’র বীজভবনে সেন্ট্রাল টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আসলামুল হক, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ এবং বিএডিসি’র চেয়ারম্যান মো. নাসিরুজ্জামান এ সময় উপস্থিত ছিলেন
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএডিসি’র টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরির অনন্য অর্জন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)’র আওতাধীন জীব প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিবীজ উন্নয়ন, বর্ধিতকরণ, মান নিরূপণ ও প্রযুক্তি বিস্তার প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মিত টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি ২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখ প্লান্টলেট উৎপাদন করেছে। যা এই ল্যাবরেটরিটির অনন্য অর্জন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল রোববার (১৫ জুলাই) বিএডিসি’র গাবতলী মিরপুর খামারস্থ বীজ ভবনে এই ল্যাবরেটরির উদ্বোধন করেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি।
সূত্র জানায়, মানসম্পন্ন বীজআলু উৎপাদন ও সরবরাহ করায় বিএডিসি গত ৩ বছর যাবৎ বীজআলু আমদানি শূন্যের কোটায় পৌঁছে দিয়েছে। বিএডিসি’র এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৩টি টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। এই ল্যাবরেটরিতে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে প্লান্টলেট এবং তা থেকে মিনি টিউবার, ব্রিডার, ভিত্তি ও প্রত্যায়িত মানের বীজআলু উৎপাদন করে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় বিএডিসি বীজআলু আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে বিদেশ থেকে বিএডিসি বেসিক বীজআলু আমদানি করত। এতে কেজিপ্রতি খরচ পড়ত ১৬০ টাকা। বর্তমানে বিএডিসি উক্ত বেসিক বীজের চেয়ে উন্নতমানের ব্রিডার/প্রি-ফাউন্ডেশন বীজআলু টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন করছে যার উৎপাদন খরচ কেজিপ্রতি মাত্র ৮০ টাকা। বাংলাদেশে প্রায় ৫ লাখ হেক্টর জমিতে ১ কোটি মেট্রিক টনের অধিক খাবার আলু উৎপাদিত হচ্ছে। দেশে প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন বীজআলুর চাহিদা রয়েছে। বিএডিসি চাহিদার প্রায় ৬% বীজআলু চাষিদের মাঝে সরবরাহ করছে। কৃষক বিএডিসি’র সরবরাকৃত বীজ পরবর্তী তিন উৎপাদন মৌসুমে পুনরায় বীজ হিসেবে বর্ধন ও ব্যবহার করে থাকেন।
বীজআলু উৎপাদনে বৃদ্ধির হার ১০ গুণ বিবেচনা করলে দেখা যায়, বিএডিসি প্রতি বছর চাহিদার ৬০ ভাগ মানসম্পন্ন বীজ প্রতিস্থাপন করছে। বর্তমানে বিএডিসি’র ৩০টি হিমাগারে ৪৫,৭০০ মেট্রিক টন ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। এর মধ্যে মিরপুর হিমাগারে ২,০০০ মেট্রিক টন বীজআলু সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। আগামী ২০২০-২১ সাল নাগাদ ৬০,০০০ মেট্রিক টন বীজআলু সংরক্ষণের সুবিধা তৈরি হবে এবং তা জাতীয় চাহিদার ১০ ভাগ। সূত্র জানায়, মানসম্পন্ন বীজআলু কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করায় দেশের গড় ফলন হেক্টর প্রতি ১২ মেট্রিক টন হতে ২০ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। কৃষক কর্তৃক ব্যবহৃত সমুদয় বীজ মানসম্পন্ন হলে দেশের ফলন হেক্টর প্রতি ২৫ মেট্রিক টনে উন্নীত করা সম্ভব। ফলে ৫ লাখ হেক্টর জমির পরিবর্তে ৪ লাখ হেক্টর জমিতেই ১ কোটি মেট্রিক টন আলু উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে করে ১ লাখ হেক্টর জমি অন্য ফসল উৎপাদনে ব্যবহার করা যাবে।
সূত্রমতে, বিএডিসি’র এ প্রকল্পের মাধ্যমে ১টি সিড হেলথ্ ও মলিকুলার ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। সিড হেলথ্ ল্যাবরেটরিতে আলু ভাইরাস রোগসহ অন্যান্য ফসলের রোগব্যাধি শনাক্তকরণ ও দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে এবং বীজের মান নিশ্চিত হয়ে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা যাবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মলিকুলার ল্যাবরেটরি দ্বারা বিএডিসি নিজস্ব কৌলিসম্পদ বৈশিষ্ট্যকরণ ও সংরক্ষণ কাজ করতে পারবে। জার্মপ্লাজম সংরক্ষণ এবং তা ব্যবহার করে বিভিন্ন ফসলের ভাল জাত উদ্ভাবন করা যাবে। বর্তমানে আলু রপ্তানির ক্ষেত্রে জধষংঃড়হরধ ংড়ষধহধপবধৎঁস রোগ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। নমুনা বীজে রোগের উপস্থিতি আছে কিনা মলিকুলার ল্যাবে তা শনাক্ত করা যাবে। প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত গ্রিন হাউজে অমৌসুমে অর্থাৎ বছরব্যাপী প্লান্টলেট থেকে মিনি টিউবার উৎপাদন করা সম্ভব হবে। অপরদিকে এ্যরোপনিক্স পদ্ধতিতেও মিনি টিউবার তৈরি করা যাবে। গ্রিন হাউজে অর্কিড, কলা, জারবেরা ইত্যাদি রেয়ারআপ করা যাবে। শীত মৌসুমে ফসলের বীজ বিতরণের আগে তার মান পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এছাড়াও বিভিন্ন ফসলের হাইব্রিড প্যারেন্ট লাইন উদ্ভাবন করা যাবে বলে জানা গেছে।

