
জাতীয় ফল প্রদর্শনী-২০১৮ উপলক্ষে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীর হাতে ক্রেস্ট তুলে দিচ্ছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্, এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ উইং) সৈয়দ আহম্মদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অমিতাভ দাস, হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. নাসিরুজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর খামারবাড়িতে গত ২২ থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত আয়োজিত জাতীয় ফল প্রদর্শনীতে ৫০ লাখ টাকার অধিক বিকিকিনি হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় ৮০ টনের অধিক বিভিন্ন ধরণের ফল বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছে আয়োজক সূত্র।
‘অপ্রতিরোধ্য দেশের অগ্রযাত্রা, ফলের পুষ্টি দেবে নতুন মাত্রা’ এ প্রতিপাদ্যে রোববার (২৪ জুন ২০১৮) খামারবাড়িস্থ আ.কা. মু গিয়াস উদ্দিন মিলকী অডিটরিয়ামে পুরস্কার বিতরণের মাধমে মেলার সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্। বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ উইং) সৈয়দ আহম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ অমিতাভ দাস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. নাসিরুজ্জামান।
ফল প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী স্টল, ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী উপলক্ষে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, প্রগতিশীল কৃষক, প্রতিষ্ঠান পর্যায় ও সর্বোচ্চ ফলদ বৃক্ষ রোপনকারী জেলাকে পুরস্কৃত করা হয়। জাতীয় ফল প্রদর্শনীতে আম, কাঁঠাল, কলাসহ দেশি বিদেশি বিভিন্ন বাহারি ফল প্রদর্শনের জন্য সরকারি স্টল হিসেবে প্রথম স্থান অর্জনকারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে যৌথভাবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি)। কৃষি তথ্য সার্ভিস, কৃষি বিপনন অধিদপ্তর ও হর্টেক্স ফাউন্ডেশন সম্মিলিতভাবে ৩য় স্থান অর্জন করে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে যথাক্রমে সুপার চেইন শপ আগোরা, মায়ের দোয়া নার্সারি ও ভাই ভাই ফল বিতান (রিপন)। ব্যক্তিপর্যায়ে খুলনার শেখ শাখাওয়াত হোসেন, চট্টগ্রামের মো. কামাল উদ্দিন ও রংপুরের মথুর চন্দ্র বর্মন যথাক্রমে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জন করেন। ঢাকা নগরীতে বাড়ির ছাদে ফল বাগান সৃজনে বিশেষ সফলতার জন্য পুরস্কার পান কদমতলীর মনি মালা মন্ডল, আদাবরের আব্দুল গণি তালুকদার এবং আফরোজা আক্তার, শাহবাগের মো. আনোয়ার হোসেন ও তেজগাঁয়ের সিদ্দিকা বেগম। প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে খাগড়াছড়ির এডহক ফরমেশন রিক্রুট ট্রেনিং সেন্টার (এএফআরটিসি) ও খুরনার জনতা বহুমুখী সমবায় সমিতিকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। সর্বোচ্চ ফলদ বৃক্ষ রোপনকারী জেলা হিসেবে কুমিল্লা, যশোর ও চুয়াডাঙ্গা যথাক্রমে ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অর্জন করে। ফলদ বৃক্ষ রোপণ পক্ষ ও জাতীয় ফল প্রদর্শনী উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাঝে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।
এবারের ফল প্রদর্শনীতে ৯টি সরকারি ও ৫১টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মোট ৮১টি স্টল ছিলো। আমের ১০২টি জাতসহ ৯৯ প্রজাতির ফল প্রদর্শিত হয়। এর মধ্যে ছিলো প্রচলিত ৫৪, অপ্রচলিত ৩৬ ও বিদেশি ফলের ৯টি জাত। প্রদর্শনীতে জাতীয় ফল কাঁঠালের একটি বিশেষ কর্ণারে কাঁঠাল দিয়ে তৈরি ১২৩ রকমের মুখরোচক খাবার প্রদর্শন করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুন আ. কা. মু. গিয়াস উদ্দিন মিল্কী অডিটরিয়াম চত্বরে এ মেলা উদ্বোধন করেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক। ঐদিন বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী।

