নিজস্ব প্রতিবেদক : বাল্যবিবাহ দূর না হলে নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তি ঘটবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে দ্বাদশ শিশু পার্লামেন্ট অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। সেভ দ্যা চিলড্রেন ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের যৌথ উদ্যোগে এ অধিবেশন শুরু হয়।
তিনি বলেন, ‘অশিক্ষা, আর্থিক অসচ্ছলতা ও ইভটিজিং বাল্যবিবাহের জন্য অনেকাংশে দায়ী। নারীদের শিক্ষিত করে তুলতে হলে সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ দূর করতে হবে। না হলে নারীমুক্তি যেমন ঘটবে না, তেমনি তাদের ক্ষমতায়নও হবে না।’
ইভটিজিং বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রশাসনকে আরো বেশি কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান ডেপুটি স্পিকার।
শিশুদের উদ্দেশে ফজলে রাব্বী বলেন, ‘জাতীয় নেতাদের তুলনায় শিশু সদস্যদের আজকের অধিবেশনে বক্তৃতার ক্ষুরধার কোনো অংশে কম নয়। বাল্যবিবাহ রোধ ও শিশু সুরক্ষার বিষয়ে শিশুরা যে বক্তব্য রেখেছে তা বাংলাদেশের শিশু নেতৃত্ব বিকাশে মাইলফলক হয়ে থাকবে। সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তোমাদের মতো সোনার ছেলে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে। সরকারও চায় তোমাদের মেধা ও মননের বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক সব দিক দিয়ে এগিয়ে যাক।’
তিনি আরো বলেন, ‘শিশুদের যদি আমরা সঠিকভাবে গড়ে তুলতে না পারি তাহলে কোনভাবেই সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়তে পারবো না। প্রত্যন্ত অঞ্চলে ও বস্তিতে যৌতুক ব্যাধি ও বাল্যবিবাহ রোধ করতে স্থানীয় প্রতিনিধি ও সিটি করপোরশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’
দেশের প্রতিটি জেলা থেকে দুজন করে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দুজন করে মোট ১৬০ সদস্য বিশিষ্ট শিশু সংসদ গঠিত হয়েছে। সরকারি ও বিরোধীদলের অংশগ্রহণে জাতীয় সংসদের আদলে একটি অধিবেশন পরিচালনা করা হয়। এবারের অধিবেশনে সদস্যদের মধ্য থেকে সর্বসম্মতিক্রমে বাল্যবিবাহ রোধ ও শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি উঠে আসে।

