
বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই)’র বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা গত ১৬ মে অনুষ্ঠিত হয়। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন; কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্ এবং বিজেআরআই’র মহাপরিচালক ড. মো. মনজুরুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই)’র বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৬ মে সংস্থাটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্। কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পূর্বে কৃষিমন্ত্রী বিজেআরআই’র ডিজিটাল হাজিরা এবং সিসিটিভি নিরাপত্তা ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন।
বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিচালক (কারিগরি) ড. মো. আসাদুজ্জামান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন মহাপরিচালক ড. মো. মনজুরুল আলম। উপস্থাপনায় তিনি এ দেশের পাটের গুরুত্ব, জলবায়ু উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবন, পাট গবেষণার অতীত, বর্তমান এবং অর্জনসহ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী পাট গবেষণার অর্জন এবং গবেষণা কার্যক্রম উল্লেখ করে বিজ্ঞানীদের অধিকতর বিজ্ঞান চর্চায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান। তিনি বিখ্যাত বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মাকসুদুল আলমের স্মৃতিচারণ করে তার অবদান এবং তোষা ও দেশি পাটের জীবন রহস্য উন্মোচনের কথা স্মরণ করে বিজ্ঞানীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞচিত্তে পাট গবেষণার উন্নয়নে বিশেষভাবে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ সময় তিনি বলেন, পাটের জীবন রহস্য উন্মোচনের পর স্বল্প দিন দৈর্ঘের ও নিম্ন তাপমাত্রা সহিষ্ণু তোষা পাটের দু’টি এবং দেশি পাটের দু’টি উদ্ভাবিত লাইনের আঁশের মান উন্নত এবং এর ফলন প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি; অচিরেই এই চারটি লাইন পাটের উন্নয়নে অবদান রাখবে। তিনি অটো পাওয়ার রিবনারের উপযোগিতা এবং অধিকতর উন্নতকরণের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বিজেআরআই উদ্ভাবিত শিল্প প্রযুক্তির প্রশংসা করে এর বাণিজ্যিক উৎপাদনের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাটের ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য পাটকে টেক্সটাইল পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করতে হবে এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় গুণাগুণসমৃদ্ধ পাটের জাত উদ্ভাবন করতে হবে। তিনি বিজেআরআই’র বিজ্ঞানী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারিদের প্রশংসা করে পাটের গবেষণা ও উন্নয়নে আরো মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে সিনিয়র সচিব বলেন, কৃষিমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় পাটের গবেষণা ও উন্নয়নে যুগান্তকারী সাফল্য অর্জন করেছেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। পাটের জীবন রহস্য উন্মোচনের পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনগণের উপকার হয় এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং গবেষণার মাধ্যমে পাটের বহুমুখি ব্যবহার উপযোগী পণ্য তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) ড. এস, এম, মাহাবুব আলী। অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সেক্টর ও নার্সভুক্ত প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

