
সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের কার্যক্রম, অর্জন ও সমাপনী শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ
নিজস্ব প্রতিবেদক : কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)’র আওতাধীন সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের কার্যক্রম, অর্জন ও সমাপনী শীর্ষক জাতীয় কর্মশালা গতকাল ১৪ মে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ আ.কা.মু গিয়াস উদ্দীন মিলকী অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ মহসীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আযাদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী পরিচালক কৃষিবিদ মো. ফরিদুল হাসান।
মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্ তার বক্তব্যে বলেন, যেদিন থেকে প্রকল্প অনুমোদন হয়, সেদিন থেকে প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ শুরু করতে হবে; যাতে করে সময়মত কাজ শেষ করা যায়। তিনি বলেন, আগামী জুনের মধ্যে এ প্রকল্পের শতকরা ৯৮ ভাগ কার্যক্রম সমাপ্ত হবে; যার মাধ্যমে আমরা একটি প্রকল্পের সফল সমাপ্তি দেখতে পাবো। বোরো ধানের উৎপাদন বিষয়ে সিনিয়র সচিব বলেন, এবার বোরো ধানের ফলন অন্যান্য বছরের তুলানায় ভালো হয়েছে। হাওর এলাকায় শস্য কর্তন এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অন্যান্য এলাকায় শতকরা ৬০ ভাগের বেশি ধান কর্তন হয়েছে। ঝড়, বৃষ্টি ও শিলা না পড়লে এ বছর বোরো ধানের উৎপাদন সর্বোচ্চ রেকর্ড হতো। বোরো ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের সব সময় সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে কৃষিবিদ মোহাম্মদ মহসীন বলেন, আমাদের লেবুজাতীয় ফসলের উৎপাদন দিন দিন বাড়ছে। ইতোমধ্যে ৮শ’ ৫০ টন লেবু বিদেশে রপ্তানি হয়েছে; এর মধ্যে ২শ’ ৫০ মেট্রিক টন জারা লেবু রয়েছে। দেশে লেবুর চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে আরো বেশি রপ্তানি করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, জুলাই-২০১৩ থেকে শুরু হওয়া সাইট্রাস ডেভেলপমেন্ট (১ম সংশোধিত) প্রকল্পটি আগামী জুন মাসে শেষ হচ্ছে। লীড এজেন্সি হিসেবে এটি বাস্তবায়ন করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। ৫ বছর মেয়াদী এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা ছিল ৪৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ৩টি পার্বত্য জেলাসহ ১৭টি জেলার ৬৮টি উপজেলায় প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে।
কৃষিবিদ মো. ফরিদুল হাসান জানান, ৫ বছরে এ প্রকল্পের মাধ্যমে লেবু চাষযোগ্য এলাকা বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ৪২ ভাগ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ২৩ ভাগ; মাল্টার এলাকা বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ২৯৬ ভাগ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ২৭৭ ভাগ; কমলার এলাকা বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ১৩ ভাগ ও উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ১১ ভাগ; বাতাবি লেবুর এলাকা বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ২৭ ভাগ এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে শতকরা ২২ ভাগ। শুধুমাত্র প্রকল্পের মাধ্যমে রোপনকৃত গাছ থেকে প্রতি বছর অতিরিক্ত ৮শ’ ৩৮ মেট্রিক টন কমলা, ৮ হাজার ১শ’ ৫২ মেট্রিক টন মাল্টা, ৬শ’ ২৯ মেট্রিক টন বাতাবি লেবু, ২ হাজার ৮শ’ ৫১ মেট্রিক টন লেবু পাওয়া যাবে; যার বাজার মূল্য ১শ’ ২ কোটি টাকা বলেও জানান তিনি।

