নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের কয়েকটি উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।রিজভী বলেন, ‘নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও সমর্থকদের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলা, হুমকি-ধমকি ও অস্ত্রবাজিতে এখন নির্বাচনী এলাকাগুলোতে এক ভয়াবহ ও ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদেরকে জীবননাশের হুমকিসহ নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে বেপরোয়া হামলা চালানো হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির পথসভায় শাসক দলের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়ে প্রায় ৫০ জন নেতা-কর্মীকে আহত করেছে। এ ছাড়া রাঙ্গাবালী থানার ওসি সামছুল আরেফিনের নেতৃত্বে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশির নামে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর করা হচ্ছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) বাসভবন রাঙ্গাবালী উপজেলা থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নিজ এলাকায় যেখানে নির্বাচনী সহিংসতা বন্ধে সিইসি ব্যর্থ সেখানে কীভাবে সারা দেশের নির্বাচন তিনি বা তার কমিশন কন্ট্রোল করবেন সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।’
এ ছাড়া বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা, পাবনার সুজানগরে উপজেলা, কুমিল্লা আদর্শ উপজেলা, কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করেন দলের এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
সরকার গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থাটাই ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘কে এম নুরুল হুদার ন্যায় সিইসির নেতৃত্বে নির্বাচন যে দলীয় প্রভাবমুক্ত হবে না সেটি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হতে শুরু করেছে। সেই একই রক্তঝরা নির্বাচন, শাসক দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধাসহ আওয়ামী অনাচারের নির্বাচনের চিত্র আগামীকাল দেশব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য ১৮টি উপজেলা নির্বাচনের প্রাক্কালেই ফুটে উঠতে শুরু করেছে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে বর্তমান নির্বাচন কমিশন শুধু সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থই নয়, বরং হাসিনা মার্কা নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্যই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে কমিশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সহিংস সন্ত্রাস আশকারা পাচ্ছে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততার কারণে। অতএব এই আজ্ঞাবহ প্রধান নির্বাচন কমিশনার দিয়ে শাসক দলের প্রভাবমুক্ত, অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন কখনোই সম্ভব নয়।’

