ঢাকাTuesday , 19 August 2025
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গাজীপুর জেলা বিএনপি!

Link Copied!

মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর জেলা বিএনপির বিরুদ্ধে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব মিলে বানরের পিঠা ভাগের মতো ভাগ করে আওয়ামী নেতাদের দিয়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি গঠন করেছেন। তাদের ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। নেতারা সংসদীয় এলাকা অনুযায়ী যার যার ইউনিট ভাগ করে কমিটি গঠন করেছেন। ফলে ঘোষিত কমিটিতে ত্যাগিদের মূল্যায়ন করা হয়নি। স্থানীয় নেতারা জানান, তারা মাই ম্যান কমিটি করেছেন। অর্থাৎ শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানের তথা দলের বিবেচনায় নয় তাদের নিজেদের পছন্দের লোককে কমিটিতে স্থান ও গুরুত্বপূর্ণ পদে বাসিয়েছেন। এমনকি ডান্ডাবেড়ি পড়ে মায়ের জানাযা পড়া আজম খানকেও রাখা হয়নি কমিটিতে। অভিযোগ আছে, কালিয়াকৈর পৌর ও উপজেলা কমিটি করা হয়েছে পাঁচ কোটি টাকার বিনিময়ে। সদস্যও নেওয়া হয়েছে টাকার বিনিময়ে। ৮০ ভাগ নেতাকর্মী ঘোষিত কমিটির বিরুদ্ধে। শ্রীপুর ও গাজীপুর সদরেও ত্যাগীদের বাদ দিয়ে কমিটি দেওয়া হয়েছে। এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা ও অংঙ্গসংগঠনের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইশরাক সিদ্দিকী নিজেই বিএনপির সদস্য হয়েছেন ২০২২ সালে। তিনি পূর্বে কখনও দলের সদস্যও ছিলেন না। তার বড় ভাই ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে দলকে বার বার বেকায়দায় ফেলেছেন। ইশরাক সিদ্দিকী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হয়েই ত্যাগি নেতাকর্মীদের মাইনাস ও আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীদের দলের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ায় ব্যস্ত রয়েছেন। ফলে তার প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন দলের জ্যেষ্ঠ ও তৃণমূল নেতারা। কয়েকমাস ধরে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচীতে দলের বিভাজন আরো স্পস্ট হয়ে উঠেছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তারেক রহমানের কাছেও অভিযোগ দিয়েছে একটি পক্ষ। সে পক্ষের পক্ষে তৃণমূলের ৮০ ভাগ নেতাকর্মী। উপজেলা বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের নতুন কমিটিতে যাদের রাখা হচ্ছে তাদের অনেকেই ফ্যাসিষ্ট সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে চলেছেন। আর কমিটি থেকে বাদ পড়েছেন বিগত সরকারের সময়ে জেল জুলুম খাটা ত্যাগী নেতারা। এমনকি ডান্ডাবেড়ি পড়ে মায়ের জানাযা পড়া সেই আলোচিত আজম খানকে ইউনিয়ন কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপিতে আওয়ামী লীগের প্রায় ৩৫জন নেতাকর্মীকে স্থান দেওয়া হয়েছে। এ নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হেলাল উদ্দিন বহু মামলার আসামী। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তিনবার কারানির্যাতিত হন। তিনি উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক ভিপি-জিএস ছিলেন। ছিলেন ছাত্রদলের উপজেলা সভাপতি। তার স্থলে যাকে আহ্বায়ক করা হয়েছে সেই নুরুল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে উল্লেখ্যোগ্য কোন মামলা নেই। ছিলেন না দলের কোন কর্মসূচিতে। ছিলেন আওয়ামী লীগের সাথে মিলে মিশে। তার ভাই কামাল সিকদার থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি হাসিনা সরকারের পতনের পর দলে সক্রিয় হয়েছেন। স্থানীয় নেতারা জানান, অর্থনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি উপজেলা আহ্বায়কের পদ বাগিয়ে নিয়েছেন। পারভেজ আহমেদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। ছিলেন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি। বিগত সরকারের সময়ে তিনিও একাধিকবার জেল খেটেছেন। তার নামেও ২০টির অধিক মামলা রয়েছে। তাকে বাদ দিয়ে যাকে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব করা হয়েছে তিনি জেলা সদস্য সচিব ইশরাক সিদ্দিকীর ব্যক্তিগত কর্মচারী এবং জুট ব্যবসায়ী। উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, গত ১৪ মে কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌরসভাসহ জেলার আটটি ইউনিটের কমিটি বাতিল করে গাজীপুর জেলা বিএনপি। এরপর তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বৈঠক করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি। ঠিক এক মাস পর ১৪ জুন বিকালে কালিয়াকৈর উপজেলা ও পৌরসভার কমিটি ঘোষণা করা হয়। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে মৌচাক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম সিকদারকে, সদস্য সচিব করা হয়েছে এম আনোয়ার হোসেনকে। কালিয়াকৈর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়েছে মামুদ সরকার ও সদস্য সচিব করা হয়েছে মহসিনউজ্জামানকে। তারা কেউই বিগত আন্দোলনে মাঠে ছিলেন না। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তারা পদ ভাগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মামুদ সরকার বিগত ১৬ বছর সাবেক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল সিকদারকে ম্যানেজ করে ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করছেন। তার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মানুষের জমি দখলের অভিযোগ থাকলেও দল কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিগত ৫ আগষ্টের পর হাসিনা সরকার পালিয়ে গেলে তিনি ইশরাক সিদ্দিকীর ছত্রছায়ায় মানুষের জায়গা জমি দখল করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সদস্য সচিবও বিগত সরকারের সুবিধাভোগী। বিগত ১৬ বছর তার বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি।
পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন বিগত সরকারের সময়ে আন্দোলনের জন্য জেল খেটেছেন। তার জায়গা হয়নি আহ্বায়ক কমিটিতে। উপজেলা ও পৌর আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে ১৫ জুন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী পারভেজ আহমেদের পক্ষ নিয়ে আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। একই সময়ে নতুন কমিটির পক্ষ থেকে আরেকটি মিছিল বের হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। এরপরও দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্র ভঙ্গ করে দেয়। দুপুর ১২টার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ওইদিন কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহমেদকে গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব চৌধুরী ইশরাক আহমেদ প্রভাব খাটিয়ে গ্রেফতার করিয়ে দেন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।