নিজস্ব প্রতিবেদক : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন হবে আগামীকাল ৪ মার্চ। সম্মেলনে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
২০০৩ সালের ১২ জুলাই সর্বশেষ সম্মেলনে আশরাফুন নেসা মোশাররফকে সভাপতি ও ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরাকে মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ২০০৯ সালে ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক হলে পিনু খান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন।
দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে মহিলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি। সাংগঠনিক স্থবিরতায় আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড হতাশ হয়ে সহযোগী সংগঠনটির সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে টার্গেট করে ঘর গোছানোর অংশ হিসেবে সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনগুলোকে চাঙ্গা করতে চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সে লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ চার সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করে। আগামীকাল ৪ মার্চ মহিলা লীগ, ১১ মার্চ যুব মহিলা লীগ, ১৯ মার্চ তাঁতী লীগ এবং ২৯ এপ্রিল আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সম্মেলন হবে।
সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে মহিলা আওয়ামী লীগ সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যে সম্মেলনের সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি বার্ধক্যজনিত কারণে সম্মেলন প্রস্তুতিতে কোনো সরব ভূমিকা পালন না করতে পারছেন না। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পিনু খানও সম্মেলন প্রস্তুতিতে একেবারেই নিষ্ক্রিয় রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানায়, সংগঠনের এই দুই শীর্ষ নেতা পুনরায় পদে আসতে পারবেন না, এটা আঁচ করতে পেরে তারা সম্মেলন প্রস্তুতিতে ভূমিকা রাখছেন না।
সংগঠনের একম কর্মী বলেন, সম্মেলন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আমরা ইতিমধ্যে প্রায় সব প্রস্তুতি নিয়েছি। বাকি কাজগুলোও নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হবে। এ লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আমাদের সাথে ঘরোয়া বৈঠক করে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আজ বৃহস্পতিবার সম্মেলন নিয়ে সর্বশেষ প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আমরা ওনাকে আমাদের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেছি।
আজ ৩ মার্চ শুক্রবার সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন হবে। এতে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার মহিলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক কামরুন্নেছা মান্নান সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মহিলা আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি সাফিয়া খাতুনসহ আরো অনেকে সভাপতি পদপ্রত্যাশী। আর সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা বেগম ও প্রচার সম্পাদক শিরিন রোখসানা সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী।
এ বিষয়ে মহিলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি এবং অভ্যর্থনা কমিটির আহ্বায়ক সাফিয়া খাতুন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে কে বা কারা প্রার্থী এটা আমি বলতে পারব না। আমি নিজে সভাপতি পদপ্রার্থী, এটা বলতে পারি। আমরা নেত্রীর সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছি। তিনি যাকে যোগ্য মনে করে নেতৃত্বে দেবেন, আমরা মেনে নেব। তবে আমরা চাই, নেত্রী এমন নেতাই নির্বাচন করবেন, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে আওযামী লীগের ভিশন বাস্তবায়নে পরিশ্রমী ও যোগ্য হবে এবং যারা অতীতে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন।’
দলীয় সূত্র জানায়, সম্মেলনের জন্য সাড়ে ৩ হাজার কাউন্সিলর চূড়ান্ত করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর থেকে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কাউন্সিলর কার্ড বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে ডেলিগেট কার্ড বিতরণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর সম্মেলন হওয়ায় কাউন্সিলর ও ডেলিগেটদের মধ্যে উৎসাহ, উদ্দীপনা ও প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের তত্ত্বাবধানে সম্মেলনের কাউন্সিলর ও ডেলিগেট কার্ড তৈরি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা আক্তার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপের সঙ্গে সম্মেলন প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন।
মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা আক্তার রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমরা সম্মেলন প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছি। ঝামেলাপূর্ণ জেলা বাদে সব জায়গায় সম্মেলন করা হয়েছে। সম্মেলনে মোট সাড়ে ৩ হাজার কাউন্সিলর থাকবেন। ডেলিগেটও একই পরিমাণ থাকবেন। রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন হবে। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আশরাফুন নেসা মোশাররফ।’

