নিজস্ব প্রতিবেদক : গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিকে ‘অযৌক্তিক ও গণবিরোধী’ অভিহিত করে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এজন্য শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণকে উজ্জীবিত করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সামনে বিএনপি আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব এ কথা বলেন। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আজ সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত দুই ঘন্টার এই কর্মসূচিতে অংশ নেন দলের নেতাকর্মীরা।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গ্যাসের দাম দুই দফায় বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, যা ১ মার্চ থেকে প্রথম দফায় দাম বেড়েছে।
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদের আগামী ১ মার্চ থেকে এক চুলার জন্য মাসে ৭৫০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৮০০ টাকা দিতে হবে, যা এতদিন ছিল যথাক্রমে ৬০০ টাকা ও ৬৫০ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে ১ জুন থেকে এক চুলার জন্য মাসিক বিল ৯০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৯৫০ টাকা হবে।
এদিকে মঙ্গলবার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি বেআইনি ঘোষণায় দায়ের করা এক রিট মামলায় হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ দ্বিতীয় দফায় গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ওপর ছয় মাসের জন্য স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকে বলতে চাই, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা যাবে না, গ্যাসের মূল্য কমাতে হবে- এটা সবার দাবি।’
‘এ ধরনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে গিয়ে তাদের উজ্জীবিত করতে হবে, সরকারের গণতন্ত্রবিরোধী ও রাষ্ট্রবিরোধী সব পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে’, বলেন বিএনপির এই নেতা।
শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য সরকারকে বাধ্য করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এখন সময় হয়েছে আমাদের জেগে ওঠার, এখন সময় হয়েছে আমাদের প্রতিবাদ করার, সোচ্চার হওয়ার। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে এই সরকারকে আমরা বাধ্য করব একটি নিরপেক্ষ, নির্দলীয় সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণের নির্বাচন দিতে; যার মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী এবং একদলীয় শাসনকে পাকাপোক্ত করার জন্য একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে। সর্বশেষ গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা সম্পূর্ণভাবে একটা অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত।’
‘যেখানে গ্যাস কোম্পানিগুলো মুনাফা করছে, এমন কোনো অবস্থা সৃষ্টি হয়নি যাতে করে গ্যাসের দাম বাড়াতে হবে’, বলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিশিষ্টজনরাও বলেছেন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধিতে দেশের অর্থনীতির বিরূপ প্রভাব পড়বে। এই সরকারকে জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহি করতে হয় না, সে কারণে তারা একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত চলেছে। এই সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে জনগণের জীবনকে দুঃসহ করে তুলেছে।’ একই সঙ্গে বিএনপি ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দূরে রেখে সরকার নির্বাচন করার চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করার ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে বাদ দিয়ে, দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হবে- এদেশের মানুষ কোনোদিনই তা মেনে নেবে না।’ সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই সরকার জনগণের সরকার নয়, এই সরকার বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে শক্তি নয়। তারা আজকে নতজানু হয়ে বিভিন্ন চুক্তি করছে, সেসব চুক্তি বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে যাচ্ছে।’
স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আজ গণতন্ত্র আওয়ামী লীগের বাক্সে বন্দি, মানুষের ভোটাধিকার আওয়ামী লীগের বাক্সে বন্দি। এই সরকার নির্বাচন নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র করছে।’
‘আমরা বলতে চাই, যদি আবার এই সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো গায়ের জোরে নির্বাচনের নামে তামাশা করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়, তাহলে জনগণ আর কখনো বরদাশত করবে না।’
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে রাস্তায় নেমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণের নির্বাচনের দাবি আদায় করা হবে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপি রাজপথে নামতে প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘অনেক দিন যাবৎ ঘরে বসে কথা বলেছি। আজকে ঘর ছেড়ে আঙিনায় এসেছি। আমরা ইচ্ছা করলে রাজপথে গিয়ে মিছিল করতে পারি। সরকারকে হুশিয়ার করে বলতে চাই, আমরা প্রস্তুত। এ যাত্রা মাফ করলাম। এর পরের থেকে অনুমতি নিয়ে নয়, ঘরে নয়, রাজপথে নামব।’
এ সময় দল-নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা দিয়ে পদত্যাগ করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির এই নীতিনির্ধারক। অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে দুই পৃষ্ঠার একটি লিফলেট বিতরণ করা হয়, যার শিরোনাম ছিল- ‘আসুন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির গণবিরোধী সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।’
কর্মসূচিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা সেলিমা রহমান, মীর নাসির, আবদুল আউয়াল মিন্টু, জয়নাল আবেদীন, আবদুল মান্নান, আহমেদ আজম খান, অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ, নিতাই রায় চৌধুরী, হোসেন, কবীর মুরাদ, আতাউর রহমান ঢালী, রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আজিজুল বারী হেলাল, আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, তাইফুল ইসলাম টিপু, শহীদুল ইসলাম বাবুল, শরীফুল আলম, রফিক শিকদার, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, সাইফুল ইসলাম নিরব, মোরতাজুল করীম বাদরু, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, এম এ মালেক, আবুল কালাম আজাদ, সুলতানা আহমেদ, শায়রুল কবির খান, রাজিব আহসান, আকরামুল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

