ঢাকাMonday , 17 November 2014
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিয়েতেই কিশোরীদের স্বপ্ন ধ্বংস

Link Copied!

girlনিজস্ব প্রতিবেদক : বিয়ে নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি কিশোরীর থাকে রাজ্যের স্বপ্ন। তারা স্বপ্ন দেখে ঘোড়ায় চড়ে স্বপ্নের সেই রাজকুমার তাকে বউ সাজিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু তাদের স্বপ্ন আর বাস্তবে রূপ নেয় না। তার আগেই দেশের বেশির ভাগ কিশোরী নিজেকে আবিষ্কার করে শ্বশুরবাড়ির চার দেয়ালে মধ্যে। শারীরিক ও মানসিক বিকাশের আগেই যৌনতার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। বলার অপেক্ষা রাখে না এরপর তাদের জীবনে নেমে আসে অন্ধকার; ঘিরে ধরে নানা জটিলতা।
এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের প্রতি তিনজনের দুজন মেয়েকে ১৮ বছরের আগেই বৈবাহিক জীবনে প্রবেশ করতে হচ্ছে। এক কথায় যাকে বলে বাল্যবিবাহ।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের এক জরিপে দেখা গেছে, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটে দক্ষিণ এশিয়ায়। আর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাল্যবিবাহে শীর্ষস্থানে আছে বাংলাদেশ। এখানে ২০০৫ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ৬৫ শতাংশ মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে। অর্থাৎ ১৮ বছর বয়সের আগেই তাদের বিয়ে হয়েছে।
এছাড়া বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, বাংলাদেশের ৬৮ শতাংশ নারী, যাদের ১৮ বছর বয়সের আগেই বিয়ে হয়। নারী নয়, শিশু বয়সেই আরেকটি শিশু জন্ম দেয় তারা। এর মধ্যে ৩৫ শতাংশ মেয়ে ১৯ বছর বয়সেই মা হচ্ছে। আর এর ফলে প্রতিবছর ১৮ থেকে ২০ লাখ মানুষ আমাদের জনসংখ্যার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশ জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে এক-তৃতীয়াংশ কন্যাশিশু ১৫ বছরের আগে এবং দুই-তৃতীয়াংশ কন্যাশিশুর বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগেই তাদের বিয়ে হয়। গ্রামাঞ্চলে এ হার ৭১ শতাংশ এবং শহরে ৫৪ শতাংশ।
গবেষণায়, বাল্যবিবাহের কারণ হিসেবে সচেতনতার অভার, দারিদ্র্য, আনুষ্ঠানিক শিক্ষার অভাব, নিরাপত্তাহীনতা, যৌতুক এসব সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে।
আর দেশের ৬৫ শতাংশ নারী সন্তান উৎপাদনে উৎসাহী না থাকলেও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহারে অনীহা বা জন্মনিয়ন্ত্রন সামগ্রী হাতের কাছে না থাকায় তারা মা হতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে সরকারি -বেসরকারি অনেক কার্যক্রম থাকা সত্ত্বেও দেশের জনসংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। আর জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বাল্যবিবাহকে দায়ী করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বাল্যবিবাহ রোধ না হওয়ার কারণ সম্পর্কে জানা যায়, বাল্যবিবাহের দায়ে রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি সম্পর্কে অধিকাংশের স্বচ্ছ ধারণা নেই। কিন্তু অধিকাংশ আইনজীবী, স্থানীয়সরকার প্রতিনিধিরা বলছেন আইনের দুর্বলতার কথা।
এদিকে সমাজে বাল্য বিবাহের ফলে যে প্রভাব পরিলক্ষিত হয় তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- শারীরিক দুর্বলতা, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যুর হার বৃদ্ধি, দরিদ্রতা বৃদ্ধি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দাম্পত্য কলহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, বহু বিবাহ ইত্যাদি।
বাংলাদেশ সরকার বাল্যবিবাহ বন্ধে সর্বোচ্চ দুবছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে ‘বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ২০১৪’র খসড়া অনুমোদন করেছে। তবে সরকার সম্প্রতি বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে মেয়েদের ১৬ এবং ছেলেদের ১৮ বছর করার একটি প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় আলোচনা করার ফলে নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। এ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মানবধিকার ও নারীবাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ এবং প্রস্তাবটি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারের এ প্রস্তাবটি বাল্যবিবাহকে তরান্বিত করে দেশ ও নারী উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করবে বলেও তারা মনে করছেন।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, বিবাহের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত এ বয়স জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদের (সিআরসি) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সিআরসি সনদে ১৮ বছরের নিচে সবাইকে শিশু উল্লেখ করা হয়েছে। বাংলাদেশ এ সনদে স্বাক্ষরদাতা দেশ। শুধু তাই নয়, শিশু আইন ২০১৩ ও জাতীয় শিশু নীতি ২০১১ অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সীদের শিশু বলা হয়েছে। বিবাহের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত নতুন বয়স বাস্তবায়ন করা হলে তা হবে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ ব্যাপারে সিডিপির সম্মানিত ফেলো ড. রওনক জাহান বলেন, ‘বিয়ের বয়স কমানোর যে প্রস্তাব সরকার দিয়েছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের পদক্ষেপ বাল্যবিবাহকে আরও উৎসাহিত করবে।’
প্রস্তাবিত বিয়ের নতুন বয়স নিয়ে ‘গার্লস নট ব্রাইডস বাংলাদেশ অ্যালায়েন্সের’ আহ্বায়ক শীপা হাফিজা বলেন, ‘এ বয়স আইনে পরিণত হলে নারীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্ষমতায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা, গর্ভধারণ, শিশুর পুষ্টিহীনতা, মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সমস্যাসহ অন্যান্য ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনের জন্য যা হবে হুমকিস্বরূপ।’
‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু বলেন, ‘নারী ও শিশু হলো ব্যারোমিটারের মতো। যে সমাজে নারী ও শিশুকে বাদ দেয়া হয় সে সমাজকে ন্যায্য সমাজ বলা যায় না। বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্ট করে শিশু ও নারীর অধিকারের কথা উল্লেখ আছে। কিন্তু আইনের বাস্তবায়ন হয় না। এর কারণে বাল্যবিবাহের মতো অপরাধগুলো এখনও হচ্ছে।’