নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন নির্বাচন কমিশনের সদস্য বাছাইয়ের জন্য গঠিত সার্চ কমিটির দ্বারা সৎ, যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নাম সুপারিশ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছে বিএনপি।
শুক্রবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এমন সব ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত সার্চ কমিটিকে নির্দলীয় কিংবা নিরপেক্ষ বিবেচনা করার কোনোই অবকাশ নেই। আর এমন একটি সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ, সৎ, সাহসী ও যোগ্য ব্যক্তিগণ আগামী নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান কিংবা সদস্য হবেন-এমনটা আশা করাও বাতুলতা(পাগলামি)।’
গঠিত সার্চ কমিটি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই কমিটিতে ক্ষমতাসীন সরকারের ইচ্ছাপূরণে সহযোগিতা করে পুরস্কৃত এবং আওয়ামী পরিবারের বিশ্বস্ত সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি সার্চ কমিটিকে শুধু বিতর্কিত করেনি-এর মাধ্যমে জনমতকে অগ্রাহ্য করার আরেকটি অগণতান্ত্রিক দৃষ্টান্ত স্থাপান করা হয়েছে।’
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ওই সংবাদ সম্মেলন হয়।
জনগণের কাছে দায়বদ্ধ সরকার গঠনের জন্য অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, এজন্য যোগ্য, নিরপেক্ষ সাহসী এবং বিতর্কিত নন-এমন ব্যক্তিদের অনুসন্ধান করে তাদের নাম প্রস্তাব করার জন্য গঠিত সার্চ কমিটি যদি ক্ষমতাসীন সরকারের অনুগ্রহপুষ্ট এবং দলীয় সমর্থকদের দ্বারা গঠিত হয়, তাহলে এই কমিটি গঠন শুধু লোক দেখানো এবং প্রতারণার শামিল।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন ইসি গঠনের যে প্রস্তাব দিয়েছিলেন তার উদ্দেশ্য ছিলো, সার্চ কমিটির কোনো সদস্য সরকারের অধীনস্থ হবেন না, দায়বদ্ধ থাকবেন না, অনুগ্রহভাজন হবেন না এবং স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
অথচ ঘোষিত সার্চ কমিটিতে আপিল বিভাগে কর্মরত একজন বিচারপতির নেতৃত্বে হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত একজন বিচারপতি, অবসরগ্রহণের পর সরকারি কর্মকমিশনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত একজন প্রাক্তন সচিব এবং সরকারি দলের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত একজন নারী শিক্ষককে সদস্য করা হয়েছে। অর্থাৎ খালেদা জিয়া এবং অন্যান্য অনেক রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে যে যুক্তিসঙ্গত; প্রস্তাব করা হয়েছিলো-তা অগ্রাহ্য করা হয়েছে।’
সার্চ কমিটির সদস্যদের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কমিটির প্রধান হিসেবে আপিল বিভাগের যে মাননীয় বিচারপতিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তিনি গত সার্চ কমিটিরও প্রধান ছিলেন। অর্থাৎ সরকার রকিব উদ্দিন কমিশনের মতই আরকেটা অনুগত ও অযোগ্য কমিশনার নিয়োগ করতে চায়। কমিটির আরেক সদস্য-যিনি হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি তিনি ছাত্রলীগের প্রাক্তন কেন্দ্রীয় নেতা। তার ছোট ভাই প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে কর্মরত আছেন। অপর সদস্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের সময়ে ইসি সচিব ছিলেন। পুরস্কার হিসেবে অবসরের পর সরকার তাকে পিএসসিতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। কমিটির একমাত্র নারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষক নেত্রী হিসেবে ২০১৪ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন। কক্সবাজার মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রী ছিলেন তিনি। সার্চ কমিটির অপর সদস্য মহা হিসাব নিরীক্ষক সরকারের অধীনস্থ একজন কর্মকর্তা হিসেবে সরকারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাধা হতে পারেন না।’
আগামী নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে সরকার ‘ষড়যন্ত্র করছে’ অভিযোগ করে এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনে বাধ্য করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।
সার্চ কমিটি বিএনপি প্রত্যাখ্যান করবে কি না-এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রত্যাখ্যান করা না করা বিষয় নয়। নির্বাচন কমিশন গঠনের পর এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।’

