ঢাকাSaturday , 7 November 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

লালমনিরহাটে স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কার করলো গ্রামবাসী

Link Copied!

প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের তালুক হরিদাস গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা। জনপ্রতিনিধি ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেও কার্যকর উদ্যোগ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেদের স্বেচ্ছা শ্রমে রাস্তা সংস্কারে নেমেছেন গ্রামবাসী। সোমবার (৭ নভেম্বর) সকাল থেকে গ্রামের প্রায় ৫০জন বাসিন্দা স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেন। গ্রামবাসী কোদাল হাতে রাস্তার পাশের জমি থেকে মাটি কেটে রাস্তাটি চলাচল উপযোগী করার উদ্যোগ নেয়। স্থানীয়রা জানান, সারপুকুর ইউনিয়নের তালুক হরিদাস গ্রামের রাস্তাটি এলাকার মানুষের যাতায়াত, শিক্ষা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কাদা ও পানিতে তলিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জরুরি চিকিৎসার জন্য রোগী হাসপাতালে নেওয়াও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানানো হলেও আশ্বাস ছাড়া বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে গ্রামের মানুষ নিজেরাই উদ্যোগ নেন। স্থানীয় বাসিন্দা পুনম চন্দ্র বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় টেকসই অবকাঠামো হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের গ্রামে বছরের পর বছর কোনো উন্নয়ন হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে নিজেরা অন্তত চলাচলের মতো একটি রাস্তা তৈরি করছি। স্থানীয় তরুণ যুবক জিয়াউল ইসলাম বললেন, এলাকার তরুণদের স্বেচ্ছাশ্রম ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে সাময়িক চলাচলের একটা পথ তৈরি হয়েছে। অন্তত বৃষ্টিতে কাদা থেকে এখন কিছুটা স্বস্তি মিলবে। অনেক দপ্তরে বার বার গিয়েও কোনো সুফল মিলেনি। তাই স্বেচ্ছায় শ্রমে রাস্তাটি চলাচলে উপযোগী করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাড. মফিজুল ইসলাম সরকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এই তালুক হরিদাস এলাকার রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। বর্ষাকালে কাদা আর শুকনো মৌসুমে ধুলোবালির কারণে আমাদের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতে যে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো, তা আমি নিজে উপলব্ধি করেছি। সরকারি বরাদ্দের আশায় হাত গুটিয়ে বসে না থেকে, আমরা এলাকার সবাই মিলে কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে আজ এই রাস্তাটির সংস্কার কাজ শুরু করেছি আমি বিশ্বাস করি, উন্নয়ন শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; আমাদেরও সমাজের প্রতি, এলাকার প্রতি কিছু দায়বদ্ধতা রয়েছে। আজকের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিগত প্রচার বা বাহবা নেওয়া নয়। আমার উদ্দেশ্য একটাই—আমাদের যাতায়াতের কষ্ট দূর করা এবং এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সচল রাখা। তবে এটি একটি সাময়িক বা প্রাথমিক সংস্কার। একটি টেকসই ও স্থায়ী পাকা রাস্তার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং দ্রুত সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে এটিকে স্থায়ীভাবে পাকা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব। আসুন, আমরা আমাদের এলাকার যেকোনো সমস্যায় এভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে আসি। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তবে কোনো বাধাই আমাদের আটকাতে পারবে না।