সুন্দরবনের দুবলার চরের আলোরকোল সমুদ্র সৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া পর্যটকের সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজের দ্বিতীয় দিন শনিবারও তাঁর সন্ধানে সাগর ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালাচ্ছে কোস্টগার্ড ও বনবিভাগ। নিখোঁজ পর্যটক হলো রিয়াজ আহমেদ। তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভার কাঠালী পশ্চিমপাড়ার আবুল বাষার ঢালীর ছেলে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১২টার দিকে সাগরের প্রবল ঢেউ ও স্রোতের টানে তিনি তলিয়ে যান। বনবিভাগ জানায়, রিয়াজ আহমেদ ‘সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম-২’ নামের একটি কাঠের তৈরি ছোট পর্যটকবাহী লঞ্চে সুন্দরবনে বেড়াতে এসেছিলেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিনে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলী স্টেশন থেকে তিন দিনের অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে মান্দারবাড়ী নৌপথ দিয়ে লঞ্চটি সুন্দরবনে প্রবেশ করে। এতে ১৯ জন পর্যটক ছিলেন। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শুক্রবার বেলা ১২টার দিকে লঞ্চটি দুবলার চরের আলোরকোলে পৌঁছায়। পরে পর্যটকেরা ট্রলারে করে চরে নামেন। সেখানে সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নামার একপর্যায়ে সাগরের ঢেউ ও স্রোতের টানে রিয়াজ নিখোঁজ হন। ঘটনার পরপরই আলোরকোল শুঁটকি পল্লির জেলেরা ট্রলার নিয়ে সাগরে তল্লাশি শুরু করেন। খবর পেয়ে কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। এক পর্যায়ে রাতে সাগরে প্রচণ্ড ঢেউ ও অন্ধকার নেমে আসায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হয়। দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়েও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। আলোরকোল শুঁটকি পল্লির রামপাল জেলে সমিতির সভাপতি মোতাসিম ফরাজী ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাকির শেখ জানান, নীলকমলের দিক থেকে পর্যটকবাহী একটি লঞ্চ এসে আলোরকোলের কাছাকাছি সাগরে নোঙর করে। পরে পর্যটকেরা ট্রলারে করে চরে নামেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে সাঁতার কাটছিলেন। ঢেউয়ের তালে উচ্ছ্বাস প্রকাশের একপর্যায়ে তাঁদের একজন সাগরে তলিয়ে যান। বিষয়টি দেখতে পেয়ে শুঁটকি পল্লির জেলেরা দ্রুত ট্রলার নিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। তবে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা) মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট মো. আবুল কাশেম বলেন, পর্যটক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোস্টগার্ডের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজ পর্যটককে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এদিকে সুন্দরবন বিভাগের দুবলা জেলে পল্লী টহল ফাঁড়ির ইনচার্জ ফরেস্ট রেঞ্জার মো. খলিলুর রহমান শনিবার দুপুর ১টায় জানান, নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধানে কোস্টগার্ডের পাশাপাশি বন বিভাগের সদস্যরাও বিভিন্ন এলাকায় টহল ও অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও এখন পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ কর্মকর্তা আরো বলেন, নিখোঁজ পর্যটক যে লঞ্চে ছিলেন, সেটির নাম ‘সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম-২’ বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার তিন দিনের পাস নিয়ে ১৯ জন পর্যটকসহ লঞ্চটি সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিল। নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধান ও উদ্ধারে কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

