ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার বগুড়া মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে নগর জামায়াতের আলেঅচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখেন নব নির্বাচিত আমীর অধ্যাপক আ স ম আব্দুল মালেক। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হালিম বেগ, সহকারী সেক্রেটারী অধ্যাপক রফিকুল আলম, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হালিম বেগ,অধ্যাপক রফিকুল আলম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বগুড়া মহানগরীর সভাপতি আজগার আলী, অ্যাডভোকেট রিয়াজউদ্দিন, মাওলানা আব্দুল হামিদ বিগ, অধ্যাপক হাবিবুর রহমান আকন্দ প্রমুখ। আলোচনা সভায় অধ্যাপক আ স ম আব্দুল মালেক বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশের সাধারণ মানুষ, দেশপ্রেমিক জনতা এবং সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষার এক অনন্য ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। ট্যাংকারের উপর উঠে মুক্তিকামী মানুষ নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার শ্লোগান দিয়েছিলো। বাকশালের মাধ্যমে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল। দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে চক্রান্তকারীরা বাংলাদেশকে একটি করদ রাজ্যে পরিণত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। ঠিক সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে এ দেশের সাধারণ সিপাহি এবং আপামর জনসাধারণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে আসে। তারা আধিপত্যবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও অভ্যন্তরীণ সকল স্বৈরাচারী চক্রান্তের জাল ছিন্নভিন্ন করে দেয়। সিপাহি-জনতার সেই ঐতিহাসিক বিপ্লব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে কেবল সুরক্ষা দেয়নি, বরং জাতির মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছিল। তিনি ৭ নভেম্বরের চেতনাকে বুকে ধারণ করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাই কে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একটি সুখী, সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কার্যকর ভূমিকা পালনের শপথ গ্রহণ করতে হবে। অপর দিকে, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব সংহতি দিবস উপলক্ষে বগুড়ার কলোনীস্থ বগুড়া শাহওয়ালী উল্লাহ মিলনায়তনে জেলা জামায়াতের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি গোলাম রাব্বানী। আরো বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুন্সী আব্দুল বাসেত, মাওলানা বেলাল হোসেন, মাওলানা সিদ্দিক আমিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি গোলাম রব্বানী বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি কীভাবে ফ্যাসিবাদের দোসররা দেশের মানুষের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে, গণতন্ত্রকে ভুলুণ্ঠিত করেছে এবং দেশের অর্থনীতি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ দ্বিতীয়বারের মতো ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের আপসহীন মনোভাব প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, আজকের ৭ নভেম্বরের শিক্ষা হলো আমাদের এই অর্জিত স্বাধীনতাকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। জনগণের মৌলিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি বৈষম্যহীন মানবিক সমাজ গঠনে আমাদের সকলকে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সব সময়ই এ দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে কোনো নাগরিক তার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না, যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ বা আধিপত্যবাদের কালোছায়া।

