ঢাকাFriday , 21 October 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আ.লীগের সম্মেলন: লক্ষ্য নির্বাচন ও ভিশন

Link Copied!

A.Legueনিজস্ব প্রতিবেদক : উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শনি ও রোববার দুদিন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে দলটির ২০তম ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলন।
চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা, ব্যানার, ফেস্টুন, ডিজিটাল ছোঁয়ায় আগামী জাতীয় নির্বাচনী বৈতরণী ও ভিশন টার্গেট বাস্তবায়নে ২০তম সম্মেলনে প্রবীণ-নবীনের সমন্বিত নেতৃত্বে সাজবে আওয়ামী লীগ। সম্মেলন প্রস্তুতি নিয়ে এমন মন্তব্য ও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দলটির নেতারা।
এদিকে বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নতুন নেতৃত্ব আসবে বলে আশা করছেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
১৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে ‘সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির’ বৈঠকে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কাউন্সিল সফলভাবে করব। এর মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। সরকার তো দারিদ্র্য-বিমোচনে কাজ করবেই। দলের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করতে হবে, যাতে আমরা এই কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারি।
প্রধানমন্ত্রী ওই বৈঠকে আরো বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বাধীনতা এসেছে। জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ বৈরী পরিবেশ ও নানা অত্যাচার-নির্যাতন মোকাবিলা করে জনগণের জন্য কাজ করেছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশের উন্নয়ন হয়।
অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জাতীয় সম্মেলন থেকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি একই দিন মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠপুত্র শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন থেকে শুরু হবে আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি। নির্ধারিত সময় শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য নতুন যারা নির্বাচিত হবেন তাদের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন রোজ গার্ডেনে জন্ম আওয়ামী লীগের। ঐতিহ্যবাহী এই দলটির বয়স ৬৭ বছর। এর মাঝে দলটার ১৯টি সম্মেলন হয়েছে। শনিবার দলটির ২০তম সম্মেলন।
ইতিমধ্যে সম্মেলনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়ার মহাচ্যালেঞ্জ নিয়ে ভিশন টার্গেটে কেমন দলটি ‘কেমন নেতৃত্ব সাজছে’- যেটিই এখন গুঞ্জন আগ্রহ ও কৌতূহলে পরিণত হয়েছে।
২০তম সম্মেলন সূচি : শনিবার সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। এ সময় বাজতে থাকবে জাতীয় সংগীত।
একই সময়ে দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সংগঠনের পতাকা এবং দলীয় পতাকা উত্তোলন করবেন জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা। এরপর শান্তির প্রতীক কবুতর উড়াবেন সভাপতিসহ সিনিয়র নেতারা। আর রঙবেরঙের বেলুন উড়াবেন অন্যরা।
উদ্বোধনী সংগীত, দেশাত্মবোধক গান ও গীতিনাট্য পরিবেশনের পর প্রথম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচন করা হবে। চার ধর্মগ্রন্থ থেকে বাণী উচ্চারণের পর শোকপ্রস্তাব গ্রহণ এবং দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে।
এরপর দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণার পর অভ্যর্থনা উপ-কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাসিমের স্বাগত ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে বক্তৃতার পালা।
পর্যায়ক্রমে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন আমন্ত্রিত দেশি-বিদেশি অতিথিরা। বক্তৃতাপর্ব শেষে সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট উপস্থাপনের মাধ্যমে প্রথম অধিবেশন শেষ হবে।
জোহরের নামাজের পর দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জেলার সাংগঠনিক লিখিত রিপোর্ট উপস্থাপন করা হবে। সন্ধ্যায় হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে সকাল ৯টায়। এ অধিবেশনেও সাংগঠনিক জেলাগুলোর লিখিত রিপোর্ট উপস্থাপন করা হবে। জোহরের নামাজ ও মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর শুরু হবে কাউন্সিল অধিবেশন।
বর্ণিল আলোয় সম্মেলন : জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশজুড়ে আলোকসজ্জা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশাল নৌকা আকৃতির মঞ্চ, লেজার শোসহ চোখ ধাঁধানো জমকালো সজ্জায় সম্মলন প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ক্ষমতাসীন দলটি।
সম্মেলনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে উত্তাল সমুদ্রে ভাসমান নৌকা আকৃতির বিশাল মঞ্চ। ভূমি থেকে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন মঞ্চটি দুর্বার ভঙ্গিতে দ-ায়মান। মঞ্চের প্রথম সারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৩ জনের আসন রয়েছে।
মঞ্চে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ৭৩ জন সদস্যের জন্য আসন রাখা হয়েছে। তবে ৭৩ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির দুটি আসন ফাঁকা আছে। মঞ্চের পেছনে ৩৫ ফুট উচ্চতার এলইডি পর্দা স্থাপন করা হয়েছে। মঞ্চের সামনের দিকে স্বচ্ছ কাঁচের খুঁটিবিহীন একটি গ্যালারি নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে সাত হাজার অতিথির আসন থাকবে। ৪০ হাজারের অধিক মানুষের ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন প্যান্ডেলের কাজ বৃহস্পতিবারই শেষ হয়েছে।
প্যান্ডেলে প্রত্যেক জেলার জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। ঢাকাজুড়ে চোখ জুড়ানো আলোকসজ্জা করা হয়েছে। সম্মেলনকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে তিন স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আজ শুক্রবার থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সর্বসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
সম্মেলনের স্লোগান : এবার সম্মেলনের স্লোগান নির্ধারণ হয়েছে, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার।’
জামায়াত ছাড়া গণতান্ত্রিক দলকে আমন্ত্রণ : সম্মেলনে অংশগ্রহণের জন্য জামায়াতে ইসলামি ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।
বৃহস্পতিবার দেশের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
অভ্যর্থনা উপ-কমিটির সদস্যসচিব ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি বলেন, সম্মেলনে ১২টি দেশের ৫৫ জন বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি যোগ দিচ্ছেন।
আশরাফ না কাদের : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছাড়া অন্য কাউকে সভাপতি পদে কাউন্সিলররা মেনে নেবেন না, এটা সর্বজনবিদিত। কিন্তু দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন- এ নিয়ে দলটিতে চলছে চুলচেড়া বিশ্লেষণ। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম কী ওই পদে হ্যাটট্রিক করতে যাচ্ছেন, নাকি সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বা অন্য নতুন কাউকে সাধারণ সম্পাদক পদে এনে প্রধানমন্ত্রী চমক দেখাবেন- এ নিয়েও আলোচনার কমতি নেই। ইতিমধ্যে গুঞ্জন ও আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে কে হচ্ছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
তবে আগামী নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও ভিশন বাস্তবায়নে প্রবীণের অভিজ্ঞতার সঙ্গে নবীনের তারুণ্যের সংমিশ্রণে আগামী তিন বছরের জন্য একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ প্রধানমন্ত্রী উপহার দেবেন, এমনটাই মনে করছেন দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।
আপ্যায়নেরও মহাযজ্ঞ : শুধু বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত করাই নয়, দেশ-বিদেশ থেকে আগত অতিথিদের যথাযথ আপ্যায়ন করতেও চলছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে আপ্যায়নের ব্যবস্থা নিয়েছে দলটি।
নেতারা জানান, প্রথম দিন দুপুরে মোরগ-পোলাও দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে। ওই দিন রাতে থাকছে ভাতের সঙ্গে খাসির রেজালা। আর পরদিন দুপুরের খাবারের তালিকায় রাখা হয়েছে পোলাও ও মুরগির মাংস।
প্রতিবেলা আহারের সঙ্গে থাকবে বোতলজাত পানি, কোমল পানীয়, ফিরনি, পান ইত্যাদি। এর বাইরে চা ও কফির কর্নার থাকছে।
এ ব্যাপারে খাদ্য উপকমিটির আহ্বায়ক ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম জানান, সম্মেলনে নির্দিষ্ট কার্ড গলায় নিয়ে ভেতর প্রবেশ করতে হবে। কার্ড ছাড়া কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেউ যদি কোন ঝামেলা করে সে আওয়ামী লীগের কর্মী হলেও তাকে আটক করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নির্বাচন কমিশন গঠন : জাতীয় সম্মেলনের নতুন কমিটি নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য কমিশন গঠন করা হয়েছে। এ কমিশনে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। নির্বাচন কমিশনের অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. মশিউর রহমান ও প্রাক্তন সচিব রাশিদুল আলম।
কমিটির আকার হবে ৮১ সদস্য ও ৬ হাজার ৭০০ জন কাউন্সিলর।
সম্মেলনকে ঘিরে সংশোধিত গঠনতন্ত্রে কার্যনির্বাহী সংসদের আকার ৭৩ থেকে ৮১ সদস্যবিশিষ্ট করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে প্রেসিডিয়ামের ৪টি, ১টি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ১ সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২ জন সদস্য বাড়ানোর সুপারিশে সম্মতি দেয় কার্যনির্বাহী সংসদ।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের ঘোষণাপত্র। সেটিও কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত সম্মতি লাভ করে। সম্মেলনে কাউন্সিলররা সংশোধিত গঠনতন্ত্র ও ঘোষণাপত্র অনুমোদন করবেন।
৫০ ইউনিটে ৫০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক : সম্মেলনে ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। তারা সম্মেলনস্থল, ৭টি প্রবেশপথসহ আশপাশের এলাকায় ৫০টি ইউনিটে ভাগ হয়ে কাজ করবেন। প্রত্যেক ইউনিটে একজন টিম লিডার থাকবেন, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবেন।