নিজস্ব প্রতিবেদক : চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফরকালীন জাতীয় পার্টির সঙ্গে বৈঠক না করে একটি পরিষ্কার ‘বার্তা ও ইশারা’ দিয়ে গেছেন বলে মনে করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর ভূ-আঞ্চলিক রাজনীতির নতুন বার্তা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। আলোচনা সভার আয়োজন করে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা।
মোশাররফ বলেন, কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট দেশে এলে সরকারপ্রধান, রাষ্ট্রপতি, বিরোধী দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বিরোধী দল, যারা পার্লামেন্টে আছে। তিনি পরিষ্কারভাবে একটি মেসেজ দিয়ে গেলেন।
‘যেহেতু বাংলাদেশের নির্বাচিত পার্লামেন্ট নয়, প্রকৃত জনগণের প্রতিনিধি বা বিরোধী দল নেই; সেই জন্য বিরোধী দলকে কোনো গুরুত্ব দিলেন না। ১৬ কোটি মানুষের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এতে আমরা মনে করি, শি জিনপিং বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটা বার্তা ও ইশারা দিয়ে গেছেন’, বলেন বিএনপির এই নীতিনির্ধারক।
শুক্রবার দুই দিনের সফরে বাংলাদেশে এসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গে কোনো বৈঠক করেননি। শনিবার তিনি ভারতের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘চীন সব সময় বিশ্বাস করে জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক। চীন মনে করে সরকার আসে সরকার যায়, তাই জনগণই তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’
ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে পাশে চেয়ে শি জিনপিং যে ইঙ্গিত দিয়েছেন সেটিকে অর্থবহ মনে করছেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, ‘উপমহাদেশে নানা রকম অশান্তি ও ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারার চেষ্টা চলছে, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কে গুরুত্ব দিয়েছেন। তার এই সফর রাষ্ট্রীয়ভাবে সীমাবদ্ধ ছিল না।’
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘হংকং চীনের সঙ্গে জয়েন্ট করেছে কারণ চীন সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। তাইওয়ানও চীনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে চীনকে আরো শক্তিশালী করবে। আমরা চাই না কোনো আধিপত্যবাদ বিস্তার করুক, চীনও তা চায় না।’
জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের সভাপতিত্বে দলের সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমানসহ দলের নেতা-কর্মীরা ছিলেন।

