ঢাকাMonday , 3 October 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদানে ভাগ্যোন্নয়নের নতুন দিগন্তে জেলেরা

Link Copied!

জেলেদের মধ্যে প্রতীকী পরিচয়পত্র প্রদানের মাধ্যমে পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রমের শুভ সূচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

জেলেদের মধ্যে প্রতীকী পরিচয়পত্র প্রদানের মাধ্যমে পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রমের শুভ সূচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

হাসান রেজা : দেশের প্রকৃত জেলেদের নিবন্ধনের আওতায় এনে পরিচয়পত্র প্রদান করায় ভাগ্যোন্নয়নসহ তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সরকারিভাবে ডিম ছাড়ার ভরা মৌসুমে দেশের যেসব অঞ্চলে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়, সেই এলাকার জেলেদের চাল ও গম বিতরণ, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাসহ বর্তমানে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যেকোনো বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলেরা আর্থিক সুবিধাও পাচ্ছেন। সরকার প্রদত্ত এসব সাহায্য সহযোগিতা যাতে প্রকৃত জেলেদের হাতে পৌঁছায় এ লক্ষ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে মৎস্য অধিদপ্তরের ‘জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান প্রকল্প’টি। প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে এখন পর্যন্ত সারাদেশে পরিচয়পত্র পেয়েছেন ১৩ লাখ ৩০ হাজার জেলে এবং ১৫ লাখ ২৫ হাজার জেলের নিবন্ধন ও তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, আজ থেকে বেশ কয়েক বছর আগে জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের সুযোগ-সুবিধা দিতে কৃষকদের মতো জেলেদের জন্য পরিচয়পত্র প্রণয়নে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীকে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা; এর ধারাবাহিকতায় এ প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। মৎস্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দেশে জেলের সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ। তবে সারা দেশের প্রায় সোয়া কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ পেশায় জড়িত। সূত্র জানায়, সারা দেশে জেলেদের সংখ্যা নির্ণয় করতে তাদের নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। এর মাধ্যমে উপজেলাভিত্তিক প্রকৃত জেলেদের চিহ্নিত করে একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের টেকসই উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে। উপজেলা পর্যায়ে থাকা মৎস্য কার্যালয় এ সমীক্ষা বাস্তবায়ন করেছে।

পরিচয়পত্র প্রদান করছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক

পরিচয়পত্র প্রদান করছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকৃত জেলেদের তালিকা বা স্বীকৃতি না থাকায় অনেক সময় জেলেদের নাম ব্যবহার করে অমৎস্যজীবীরা বিভিন্ন প্রকার সুযোগ সুবিধা ভোগ করে, ফলে প্রকৃত জেলেরা তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হন। ডিম ছাড়ার মৌসুমে যেসব এলাকায় মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, ওই এলাকার জেলেরা তখন মানবেতর জীবনযাপন করেন। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় কেউ কেউ সরকারের নিষেধাজ্ঞা না মেনে কারেন্ট জাল দিয়ে গভীর রাতে জাটকা ধরেন। সরকার এ সময় সহযোগিতা দিলেও শেষ পর্যন্ত তা প্রকৃত জেলেদের হাতে পৌঁছায় না। জেলেদের কোনো সহায়তা দিলে দেখা যায় অন্য পেশার লোকজন সেই সহায়তার জন্য হাত পাতে। এছাড়া, অধিকাংশ জেলেরই নিজস্ব নৌকা এবং জাল না থাকায় নিম্ন মজুরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে থাকেন অথবা উচ্চ সুদে জাল ও নৌকা ভাড়া নিয়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়াতেও মাছ আহরণ করেন। এ ছাড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের নেওয়া ‘জাল যার জলা তার’ কর্মসূচি থেকেও জেলেরা তেমন সুবিধা পাচ্ছিলেন না। এমন প্রেক্ষাপটে জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন, মৎস্য উপ-খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মৎস্য সম্পদের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১২ সালে মোট ৮৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান প্রকল্পটি কার্যক্রম শুরু করে এবং পরবর্তীতে ১ম সংশোধনের মাধ্যমে প্রকল্পটি মোট ৮১ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নের জন্য কার্যক্রম চলমান।
প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রকল্পের কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত জেলেদের শনাক্ত করে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে এবং তাদেরকে পরিচয়পত্র প্রদান করা হচ্ছে। এ ছাড়া, মৎস্য সম্পদের উন্নত ও স্থায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে প্রকৃত জেলেদের ডাটাবেইজ প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি মাছ ধরা অবস্থায় ঝড়, সাইক্লোন, জলোচ্ছ্বাস, জলদস্যুদের হামলায়, বাঘ, কুমির এবং সাপের কামড়ে নিহত জেলেদের পরিবারকে এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে প্রকল্পের মাধ্যমে।
জেলে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা যায়, সারাদেশে গঠিত উপজেলা কমিটি জেলে নিবন্ধনের কাজটি বাস্তবায়ন করছে। এই কমিটি জেলেদের নিবন্ধনের জন্য গণনাকারী নিয়োগ করে। প্রতি গণনাকারী জেলে পল্লীতে গিয়ে ৪শ’ জন করে জেলে গণনা করেন। স্থানীয় মসজিদের ইমাম, ইউনিয়ন পরিষদের কাউন্সিলর, নিকটবর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাদের শনাক্ত করতে সহায়তা করেন। গণনাকারীর তালিকা উপজেলা প্রশাসনের কাছে আসার পর তা আবার পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সেই তালিকা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। কারো কোনো আপত্তি থাকলে আবার তালিকা সংশোধন করা হয়। ভুয়া নিবন্ধন এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলেদের পরিচয়পত্রের নমুনা

জেলেদের পরিচয়পত্রের নমুনা

দেখা যায়, জেলেদের দেওয়া পরিচয়পত্রে আছে বাংলা ও ইংরেজিতে তাদের নাম ও ঠিকানা। পরিচয়পত্র বহনকারী যে বাংলাদেশের জেলে, সেটি ইংরেজিতে উল্লেখ আছে পরিচয়পত্রের সামনের অংশে। পেছনের অংশে জেলেদের জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বরটির পাশাপাশি জেলে হিসেবে তাদের নিবন্ধন নম্বরটি দেওয়া আছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রামের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রভাতি দেব দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে এমন কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে, আগের চেয়ে জেলের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে প্রকৃত জেলেদের সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে এবং যেকোন সরকারি সাহায্য সহযোগিতা তাদের হাতে তুলে দেয়া যাচ্ছে। এতে করে তাদের জীবনমানের যেমন উন্নয়ন ঘটছে তেমনি সরকারের মৎস্য উৎপাদন কর্মসূচিও সঠিকভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানান তিনি।
পরিচয়পত্রপ্রাপ্ত জেলেরা প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন কারণে যেমন জলদস্যু অথবা হিংস্র প্রাণির আক্রমণে নিহত জেলে পরিবার পুণর্বাসনের জন্য প্রকল্প থেকে এককালীন ৫০ হাজার টাকা অনুদান পেয়ে থাকেন। এছাড়া, জাটকা রক্ষাকালীন সময়ে ইলিশ আহরণকারী জেলে, কাপ্তাই লেক এবং হালদা নদীতে মাছ ধরা বিরতিকালীন সময়ে ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা পেয়ে থাকেন। মৎস্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্প হতে সেলাই মেশিন ক্রয়, ভ্যান গাড়ি ক্রয়, খাঁচায় মাছ চাষ, হাঁস মুরগি ও গবাদিপশু পালন, জাল ও নৌকা বিতরণ ইত্যাদি অনুদান পেয়ে থাকেন। এছাড়া, জলমহাল ব্যবস্থাপনায় প্রকৃত জেলেরা অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলেও জানায় প্রকল্প অফিস।
প্রকল্প সূত্র জানায়, গণনাকারী নিয়োজিতকরণের মাধ্যমে জেলেদের তালিকা প্রস্তুতের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪৮৮টি উপজেলার ১৫ লাখ ২০ হাজার জেলের নিবন্ধন ও তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া, ৬৪টি উপজেলার ১৩ লাখ ৩০ হাজার জেলের মধ্যে পরিচয়পত্র প্রস্তুত ও বিতরণ করা হয়েছে। পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, চিফ হুইপ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি, স্থানীয় সংসদ সদস্য, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসন কর্র্তৃক বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানায় প্রকল্প অফিস। এখন পর্যন্ত সারাদেশে উপজেলা পর্যায়ে দিনব্যাপি ৪৮২টি উপজেলায় এবং ইউনিয়ন/পৌরসভা পর্যায়ে ৪,৭৬৭টি উদ্বুদ্ধকরণ সভা আয়োজন করা হয়েছে। প্রকল্পের কার্যক্রম শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ অন্যান্য কারণে নিহত ৪৮৭ জন জেলের পরিবারকে ২ কোটি ৩৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদান হিসেবে প্রদান করা হয়েছে। জেলে পরিবারের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নকালীন সময়ে ১ হাজার ২শ’ পরিবারের মধ্যে ৬ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা আছে বলে জানিয়েছে প্রকল্প অফিস।

পরিচয়পত্র প্রদান করছেন জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র প্রদান প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আরিফুর রহমান তরফদার

পরিচয়পত্র প্রদান করছেন প্রকল্প পরিচালক মো. আরিফুর রহমান তরফদার

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আলেকউজ্জামান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের চিহ্নিত করে পরিচয়পত্র প্রদান করা হচ্ছে। প্রকৃত মৎস্যজীবীরা সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাওয়ায় তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা উন্নয়ন ঘটছে। পরিচয়পত্র না থাকার কারণে আগে অমৎস্যজীবীরা জলমহাল, সরকারি জলাশয় লিজ নিয়ে নিতো; প্রকৃত মৎস্যজীবীরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতো। পরিচয়পত্র দেয়ার ফলে এসব সুবিধা এখন প্রকৃত মৎস্যজীবীরা ভোগ করতে পারছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চুয়াডাঙ্গার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. মাহবুবুর রহমান দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, প্রকৃত জেলেদের চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন সুবিধাধি প্রদান করে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পরিচয়পত্র প্রদানের মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। তিনি বলেন, অনেক জেলে সাগরে মাছ ধরতে যেয়ে নিখোঁজ হন, অনেক সময় ঝড়ের কবলে পড়ে অথবা জলদস্যুদের হাতে প্রাণ হারান। পরিচয়পত্রধারী জেলেরা এসব ক্ষেত্রে প্রকল্পের মাধ্যমে এককালীন ৫০ হাজার করে অর্থ সহায়তাসহ অন্যান্য সুবিধাদি পেয়ে থাকেন।
সাতক্ষীরার মৎস্য কর্মকর্তা মো. রমজান আলী দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে পরিচয়পত্র বিতরণের ফলে আমাদের দেশের দারিদ্র্যপীড়িত জেলেরা পেশাগত পরিচয়ের স্বীকৃতি লাভ করেছে এবং সরকারি বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা তাদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সাতক্ষীরা ও যশোর অঞ্চলের প্রচুর সংখ্যক জেলে সাগরে মাছ ধরতে যায়। পরিচয়পত্রধারী জেলেরা যেকোন দুর্যোগে পতিত হলে বা সাগরে গিয়ে নিখোঁজ হলে তার পরিবারকে এককালীন ৫০ হাজার টাকার অর্থ সহায়তা দেয়া হয়। এ সময় তিনি বলেন, পূর্বে পরিচয় গোপন করে বা প্রভাব খাটিয়ে অমৎস্যজীবীরা সরকারি জলমহাল ইজারা নেয়ার তৎপরতা চালাতো। এখন পরিচয়পত্র থাকার ফলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা জলমহাল ইজারা নিতে পারছে। এছাড়া, মা ইলিশ রক্ষা ও জাটকা নিধন বন্ধের ৪ মাস পরিচয়পত্রধারী জেলেরা সরকারি বিভিন্ন সহায়তা পেয়ে থাকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সুনামগঞ্জের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শংকর রঞ্জন দাস দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, হাওর অধ্যুষিত এই জেলায় অনেক জেলের বসবাস, তাদের জীবনমান উন্নয়নে হাওরে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা বেশকিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। এই কার্যক্রমগুলোর সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য জেলেদেরকে নিবন্ধনের আওতায় এনে পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। পরিচয়পত্রের মাধ্যমে আমরা প্রকৃত মৎস্যজীবীদের চিহ্নিত করে তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করছি, জেলেদের বিলে বিল নার্সারি স্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, হাওরে বৈশাখ থেকে শ্রাবণ মাস পর্যন্ত মা মাছ ডিম ছাড়ে। আগামী মৌসুমে এই ৪ মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকবে এবং এই সময়ে পরিচয়পত্রধারী ও নিবন্ধনের আওতায় আসা জেলেদের বিভিন্ন রকম সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানান তিনি।
কলাপাড়ার (পটুয়াখালী) সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, জেলেদের পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রম বর্তমান সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। বাংলাদেশে জেলেদের সঠিক সংখ্যা নিরূপণ এবং তাদের পেশাগত পরিচয় নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পরিচয়পত্র প্রদান করা হচ্ছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রকৃত জেলেদের রাষ্ট্র প্রদত্ত অর্থনৈতিক সাহায্য সহযোগিতা, পুনর্বাসন, আইনি সহায়তা প্রদান। পরিচয়পত্র প্রদানের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের হাজার হাজার জেলে ট্রলার নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায়; পরিচয়পত্রধারী কোন জেলে যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জলদস্যুদের দ্বারা আক্রান্ত হয় তাহলে তার পরিবার অর্থ সহায়তা পাবে; যদি কখোনো কোনো জেলে ভারতের অংশে ঢুকে পড়ে পরিচয়পত্র থাকার কারণে সে আইনি সুরক্ষা পাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া, পরিচয়পত্রের মাধ্যমে সাগরে টহলরত কোস্টগার্ড জেলেদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারে এবং জলদস্যুদের চিহ্নিত করে সহজেই ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. আরিফুর রহমান তরফদার দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, পরিচয়পত্র প্রদানের ফলে মৎস্য আহরণে জেলেদের অধিকার নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি জলমহাল ব্যবস্থাপনায় তাদের অংশগ্রহণ শতভাগ সম্ভব হচ্ছে। পরিচয়পত্রের মাধ্যমে জেলেরা পৃথকভাবে তাদের পেশাগত পরিচয় লাভ করছেন এবং সরকারঘোষিত পুণর্বাসন, আয়বর্ধক কর্মসূচি, খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জেলেদের জীবযাত্রার মানোন্নয়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এই প্রকল্পটি গৃহীত হয়েছিল। প্রকল্পের কার্যক্রম সারাদেশে সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হলে প্রকৃত জেলেদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বিধান অনেকাংশে নিশ্চিত হবে। উন্মুক্ত জলাশয়ে প্রকৃত জেলেদের মাধ্যমে জৈবিক ব্যবস্থাপনা প্রবর্তনের পাশাপাশি পারিবারিক পুষ্টি চাহিদাও বহুলাংশে পূরণ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।