ঢাকাFriday , 2 September 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আ.লীগের সম্মেলন : প্রস্তুতিতে গতি লেগেছে

Link Copied!

A.Legueনিজস্ব প্রতিবেদক : শোকাবহ আগস্ট মাস শেষে জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুতিতে গতি লেগেছে আওয়ামী লীগে। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ২০তম সম্মেলন আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম দফায় সম্মেলন চলতি বছরের ২৪ মার্চ করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তা দ্বিতীয় দফায় পিছিয়ে ১০ ও ১১ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করা হয়। যা পরবর্তীতে আরেক দফায় পিছিয়ে ২২ ও ২৩ অক্টোবর সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত হয়। সর্বশেষ ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আগস্ট মাস শেষে আওয়ামী লীগের সম্মেলন তৎপরতায় এ চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।
এ লক্ষ্যে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর জাতীয় সম্মেলন কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ যৌথসভার আহ্বান করেছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ এবং সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবদের এক যৌথসভা আগামী ৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে।’ সভায় সবাইকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
অপরদিকে সম্মেলন প্রস্তুতির কার্যক্রম ও তদারকি গ্রহণে সম্মেলন প্রস্তুত বিভিন্ন উপকমিটির সভা আহ্বান করা হয়েছে। গঠনতন্ত্র উপকমিটির সভা আগামী ৪ সেপ্টেম্বর রোববার সকাল সাড়ে এগারটায় আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। পরের দিন আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ১১টায় একই কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা উপকমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করেছেন উভয় উপকমিটির সদস্য সচিবরা।
এ ছাড়া গত ৩০ আগস্ট একই কার্যালয়ে অভ্যর্থনা উপকমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম।
গত ১১ এপ্রিল ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি ও ১১টি উপকমিটি গঠন করা হয়। সেদিন সংবাদ সম্মেলনে এসব কমিটি ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। সে সময় তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের কেউ নেতা হয় না, সম্মেলন নেতা তৈরি করে। আওয়ামী লীগের সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির চেয়ারম্যান হলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এবং সদস্য সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘জাতীয় সম্মেলন সফল করতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর পরামর্শেই এর আগে সম্মেলন প্রস্তুত কমিটি ও উপকমিটিগুলো ঘোষণা করেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তারপর থেকে বিভিন্ন উপকমিটি সম্মেলন প্রস্তুতির কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। কিন্তু মাঝখানে পুনরায় সম্মেলনের তারিখ পেছানো ও শোকের মাস আগস্টে বিভিন্ন কর্মসূচির ব্যস্ততায় প্রস্তুতি ধীরগতি হয়। তাই এখন পুনরায় সম্মেলন প্রস্তুতি গতি পাচ্ছে। এটা তো আমাদের দলীয় ওয়ার্ক।’
এদিকে দলীয় সূত্র জানায়, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা ইন, আউট ও পদোন্নতি ভাবনায় সময় পার করছে। অনেক নেতাই দলীয় কর্মকাণ্ডে নিজের তৎপরতা বৃদ্ধি করেছেন। আগস্টে আওয়ামী লীগ নেতারা দলের বিভিন্ন কর্মসূচিসহ সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও বিভক্ত ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠেয় কর্মসূচিগুলোতে অংশগ্রহণের জোর তৎপরতা চালিয়েছে। অনেকে শোকের মাস আগস্টে নিজ নিজ এলাকায় ছুটে গিয়েও বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।
সূত্র আরো জানায়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার ২০তম সম্মেলনে দলকে ঢেলে সাজিয়ে গতিশীল ও সুসংগঠিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করবে দলের হাইকমাণ্ড। এক্ষেত্রে এবার সম্মেলনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। দলের সকল পর্যায়ের নেতাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডসহ ব্যক্তিগত, সামাজিক ও ব্যবসায়িক অনেক তথ্য সম্পর্কে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা অবগত আছেন। আগামী সম্মেলনে সেসব বিবেচনা করেই পদ মূল্যায়ন করা হবে। এ লক্ষ্যে দলের গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুনদেরকে নেতৃত্বে নিয়ে আসতে শীর্ষ পর্যায়ে বৃদ্ধি পাবে পদের সংখ্য। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সংখ্যা ৭৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১ করা হতে পারে। যেমন-বর্তমান গঠনতন্ত্রে প্রেসিডিয়াম সদস্য আছেন ১৫ জন। এটা বাড়িয়ে ১৭ বা ১৯ করা হতে পারে। সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আছেন ৩২জন। এটা বাড়িয়ে ৩৯ করা হতে পারে। সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ সাতটি থেকে বাড়িয়ে ১০টি করা হতে পারে। কারণ তিনটি নতুন বিভাগ হলে প্রতিটি বিভাগে একজনকে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হবে। আর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক সম্পাদকের সংখ্যাবৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়বে যুগ্মসাধারণ সম্পাদকের পদ। সেক্ষেত্রে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ তিনটি থেকে পাঁচটি করা হতে পারে।
এ ছাড়াও সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েকটি পদ সংযোজন ও বিয়োজন করে নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে বলে দলের একটি সূত্র জানিয়েছেন।