ঢাকাFriday , 15 July 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ক সভা

Link Copied!

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে করণীয় বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার; মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিমসহ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা প্রধানেরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে করণীয় বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার; মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিমসহ বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা প্রধানেরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে আর্টিসান হোটেল ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের সন্নিকটে নৃশংস জঙ্গি হামলা, দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিনষ্টের পাঁয়তারা, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে আজ বৃহস্পতিবার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার। সভায় বক্তব্য দেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিম, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ফাইজুল কবির, যুগ্মসচিব মাশুক মিয়া, যুগ্মসচিব রনজিৎ কুমার দাস, জাতীয় ক্রীড়া পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আবুল হাশেম, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বিশ্বাসসহ আরো অনেকে।
আনোয়ারুল করিম বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে করণীয় বিষয়ে খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। জঙ্গিরা শান্তির ধর্ম ইসলামকে তাদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার ইসলাম ও মুসলমানদের অপমানিত ও কলংকিত করেছে। যেহেতু জঙ্গিবাদের সাথে জড়িতরা যুব শ্রেণীর তাই যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের করণীয়ও অনেক বেশি। তিনি বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ মডিউলে জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা এবং তা নির্মূলে যুব সমাজের করণীয় ও সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ সময় তিনি জেলা পর্যায়ের যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বারোপ করে দিয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় জঙ্গিবাদ বিরোধী প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। এ ছাড়া, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ই-লার্নি কনটেন্টে পবিত্র কোরআন ও হাদিসের জঙ্গিবাদ ও উগ্রতা বিরোধী বিভিন্ন আয়াত ও বাণী তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি। এ সময় দেশের যুব সংগঠনগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার তাগিদ জানিয়ে নিবন্ধনের সময় প্রদত্ত শর্তাবলীর মধ্যে জঙ্গিবাদ নির্মূল ও প্রতিরোধে তাদের অংশগ্রহণ এবং করণীয় বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যে সংগঠনগুলো আছে তাদের সাথে সমন্বয় করে জঙ্গিবাদ বিরোধী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান আনোয়ারুল করিম।
কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ দেশজুড়ে যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও স্টেডিয়ামের গ্যালারিগুলো পরিদর্শনপূর্বক নিরাপত্তা বিষয়ক কোন ত্রুটি থাকলে তা চিহ্নিত করে সমাধানের পরামর্শ দেন। জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। দেশের যুব সংগঠনগুলোকে জঙ্গিবাদ বিরোধী কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি যুবদেরকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ সময় সচিব যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে মডেল ফার্ম হিসেবে গড়ে তোলার পরামর্শ দেন যাতে করে প্রশিক্ষণার্থীরা এখানে এসে বাস্তবধর্মী সকল কার্যক্রম দেখে প্রশিক্ষণ নিয়ে আত্মকর্মে নিয়োজিত হতে উদ্বুদ্ধ হয়। জঙ্গিবাদ বিরোধী যুব সমাবেশ আয়োজনের কথা উল্লেখ করে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যাতে বছরের অধিকাংশ সময় খেলাধুলা ও এ জাতীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পালন করতে পারে সে বিষয়ে ক্রীড়া পরিদপ্তরকে নির্দেশনা প্রদান করেন সচিব। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে  নির্মিত এবং নির্মিতব্য মিনি স্টেডিয়ামগুলোর মাঠ যেখানে যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিবকে নির্দেশ দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার বলেন, পবিত্র ইসলাম ধর্মে জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই। মদিনা সনদে অন্য ধর্মাবলম্বীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জঙ্গিরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার মূলনীতির প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় ধর্মীয় সংস্কৃতি আমাদের গৌরব; কিছু দুস্কৃতিকারীর জন্য তা হারাতে দেয়া যাবে না। এ সময় জঙ্গিবাদ নির্মূল ও প্রতিরোধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের করণীয় বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দেশজুড়ে বিশাল কর্মী বাহিনী আছে মন্তব্য করে তাদের মাধ্যমে জঙ্গিবাদ বিষয়ে যুব সমাজকে সচেতন করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া, যুব প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ প্রদান করেন তিনি। চলতি মাসে ঢাকায় জঙ্গিবাদ বিরোধী যুব সমাবেশ এবং এরপর পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় শহরগুলোতে এ সমাবেশ আয়োজনের ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি টেলিভিশনে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রচারণা; এ জাতীয় লিফলেট, পোস্টার প্রকাশ এবং যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে জঙ্গিবাদ বিরোধী ব্যানার, ফেস্টুন প্রদর্শনের নির্দেশ প্রদান করেন মন্ত্রী। এ ছাড়া, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে অধিক সক্রিয় করার পাশাপাশি অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে বছরজুড়ে খেলাধুলা আয়োজনের পরামর্শ প্রদান করেন তিনি। এ সময় উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।