ঢাকাSunday , 19 June 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যুব সমাজের অবক্ষয় রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন

Link Copied!

কর্মশালায় বক্তব্য দিচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমদ; (তার বামে) যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিম এবং আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ

কর্মশালায় বক্তব্য দিচ্ছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমদ; (তার বামে) যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিম এবং আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের যুব সমাজকে উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তির ধারায় আনতে হলে তাদের নৈতিক অবক্ষয় রোধ করতে হবে। এ লক্ষ্যে সচেতনতা সৃষ্টিসহ যুবদের আত্মকর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আজ রোববার সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক আয়োজিত ‘দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে যুব সমাজের অবক্ষয় ও বিপথগামিতা রোধকল্পে আমাদের করণীয়’ এবং ‘যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যুগোপযোগীকরণ, চ্যালেঞ্জ ও সমাধান’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মশালার উদ্বোধন করেন। কর্মশালায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিমও উপস্থিত ছিলেন।
কাজী আখতার উদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের বিশাল যুব সমাজের উল্লেখযোগ্য একটি অংশকে উন্নয়নের ধারায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। দেশের একজন যুবক বা যুবনারীও যাতে বেকার না থাকে সরকার সেই লক্ষ্যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে; আমাদের সবাইকে এ মহান কর্মযজ্ঞে শামিল হতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি অসচেতন যুবকদের ব্যবহার করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র গঠনসহ দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যাতে নষ্ট না হয় সে লক্ষ্যে যুবসমাজকে সচেতন করে তুলতে হবে। তিনি আরো বলেন, দেশে সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি বা জঙ্গী কর্মকাণ্ড রোধসহ সামাজিক শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় যুব সমাজের বড় ভূমিকা রয়েছে এবং এ লক্ষ্যে তাদের সচেতন করে তুলতে হবে। সচিব বলেন, আমাদের যুব সমাজ ও আত্মকর্মীরা স্বাবলম্বী হচ্ছে; দেশের উন্নয়নে তারা অবদান রাখছে; কোন অপশক্তি যুব সমাজের এ অগ্রগতি যাতে রুখতে না পারে সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। সচিব আরো বলেন, আমাদের সফল আত্মকর্মীরা আজ প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছে; তারা সমাজে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে, অনেকের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। সফল আত্মকর্মীরা অন্যদের অনুপ্রেরণা যোগাবে; একজনের হাত ধরে আরো দশজন উঠে আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশাল এ যুবসমাজকে জনসম্পদে পরিণত করতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ সময় সচিব যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে যথাসম্ভব সৌন্দর্যমণ্ডিত ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিম বলেন, দেশের উন্নয়নে যুব সমাজকে আরো বেশি সম্পৃক্ত করতে হবে। বিশাল যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে পারলে দেশের চেহারা বদলে দেয়া সম্ভব এবং এই লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা কাজ করছি। এ সময় তিনি বলেন, দেশব্যাপী যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে অব্যবহৃত প্রচুর জায়গা রয়েছে; এগুলোকে ব্যবহারের আওতায় নিয়ে এসে মানোন্নয়নসহ সৌন্দর্যবর্ধন করতে হবে। প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সের মাধ্যমে যুগোপযোগী বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে প্রশিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর জোর দেন মহাপরিচালক। এ ছাড়া প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের বাজেট অপ্রতুলতার বিষয় উল্লেখ করে তিনি এ খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির আহ্বান জানান।
কর্মশালায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদা আকন্দ ‘যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম যুগোপযোগীকরণ, চ্যালেঞ্জ ও সমাধান’ বিষয়ে এবং উপ-পরিচালক মো. আতিকুর রহমান ‘দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে যুব সমাজের অবক্ষয় ও বিপথগামিতা রোধকল্পে আমাদের করণীয়’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। কর্মশালায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ জাতীয় যুব পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্যোক্তরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনার পর গ্রুপ ওয়ার্ক অনুষ্ঠিত হয় এবং সুপারিশমালা গৃহীত হয়। এর মধ্যে যুব সমাজের অবক্ষয় রোধে উদ্বুদ্ধকরণ ও সচেতনতা সৃষ্টিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা, যুব সংগঠনের মাধ্যমে যুবদের সংগঠিত করা, তাদের ভাল কাজের স্বীকৃতি প্রদান, রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকাসক্ত যুবদের পুনর্বাসন, জাতীয় যুবনীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে এ্যাকশন প্ল্যান তৈরি, সঠিক ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার করাসহ বিভিন্ন সুপারিশ গ্রহণ করা হয়। এ ছাড়া, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ব্যবহারিক ক্লাস বৃদ্ধি, প্রশিক্ষকদের মানসিকতার পরিবর্তন, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে উত্তম চর্চার বিনিময়, যুব কাউন্সিলরের ব্যবস্থা করা, অধিক সংখ্যক প্রশিক্ষণার্থীদের যুব ঋণের আওতায় নিয়ে আসা, যুব উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার জন্য বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়, এসএমই ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ ও সমন্বয় সাধন, সামাজিক মূল্যবোধ ও দেশাত্মবোধ সৃষ্টি, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সচেতনতা সৃষ্টিসহ বিভিন্ন সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।