ঢাকাWednesday , 6 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আমার জন্য আমি একাই যথেষ্ট

Link Copied!

kajolনিজস্ব প্রতিবেদক : তখন রাত সাড়ে ১২টা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের শত শত মানুষের ভিড়ে দাঁড়িয়ে আছেন কাজলরেখা। চোখের নিচে কাজল ছাড়াই হালকা কালো দাগ। মুখে মৃদু ঘাম। তবুও যেন ক্লান্তি নেই এই মাঝবয়সী নারীর। বাজারের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বৃদ্ধা মা ও ছোট ছেলে-মেয়ের দু’বেলা নির্ভর করে তার এই ছুটে চলার ওপরই।
রাতের এই আলো-আঁধারিতে তার মতো ও তার বয়সের অনেক নারীই উপার্জনে ব্যস্ত, তখন ছেলেদের ভিড়ে সমানতালে পথচলা এই সংগ্রামী নারীকে খুঁজে পাওয়া গেল। সারারাতের ঘাম ঝরানো সামান্য এই উপার্জনে জীবনের সর্বোচ্চ চাওয়া, তিনবেলা ভাত, কাপড় ও আর মাথা গোঁজার মতো ঠাঁই।
সোমবার দিনগত রাতে রাজধানীর এই বৃহত্তম কাঁচামালের এই পাইকারি বাজারের এক কোণায় দেখা হলো ধামরাই থেকে আসা কাজলরেখার সঙ্গে। সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পর কিছুটা জড়তা নিয়েই জানালেন, তার সংগ্রামে ভরা রাতের কাহিনি। সেই রাতে কথা হয় তার মতো আরও কিছু সংগ্রামী নারীর সাথে।
এত রাতে দাঁড়িয়ে কী করেন, জানতে চাইলে কাজলরেখা বলেন, ‘যে সব ট্রাকে মাল (কাঁচামাল) আইতাছে, হেইগুলারে ফলো করতাচি। এর মধ্যে যদি গাঁজর থাহে, তইলে কিইনা রাহি। এরপর এগুলো আবার আড়ৎদারদের কাছে বিক্রি করি।’
এরপর তিনি নিজেই জানালেন, সারারাত এইভাবে দৌড়ের ওপরই কাজ করতে হয় তাকে। এতে প্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হয় তার। আর তা দিয়েই সংসার চালাতে হয় তাকে। সংসার জীবনে একবৃদ্ধ মা ও ছেলে-মেয়ে আছে। অনেক স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে সংসারের হাল তাকেই ধরতে হয়েছে। তার মতো আরও আট থেকে ১০ জন নারী এ ব্যবসায় নিয়োজিত বলে জানালেন তিনি।
একটু হাঁটার পর দেখা যায়, দূর থেকে আনা কাঁচামাল ট্রাক থেকে নিচে ফেলে দেয়া হচ্ছে। আর সেগুলো বাছাই করছেন কয়েকজন নারী। তাদেরই একজন হেনা আক্তার জানান, এসব কাঁচামাল বাছাই করার বিনিময়ে কোনো টাকা পান না। কাজের বিনিময় হিসেবে পান অচল কিছু কাঁচামাল। পরবর্তীতে সেগুলো আবার ব্যবসায়ীদের কাছে কেউ বা খুচরা বিক্রি করেন। আর সেই টাকাই তাদের মূল উপার্জন।
এখানে কত রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়, জানতে চাইলে উত্তরে হেনা আক্তার বলেন, সন্ধ্যার দিকে আসি। সারারাত কাজ করার পর যেসব কাঁচামাল পাই, তা আবার বিক্রি করে যেতে হয়। কখনো বিক্রি করতে দেরি হলে সকাল পর্যন্তও থাকতে হয়। এভাবে প্রতিরাতে দুই থেকে তিনশ টাকা থাকে।
পরিবারে কে কে আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জন্য আমি একাই যথেষ্ট। স্বামী অনেক আগেই চলে গেছেন। সন্তানরা বড় হওয়ায়, তাদের গ্রামের বাড়িতে রেখে এসেছি। এখানে যা পাই, তা দিয়েই আমার চলে যায়।
এক হাজার থেকে এক হাজার দুইশ নারী কাওরান বাজারের আলো-আঁধারিতে সারারাত জেগে কাজ করে বলে জানান তিনি। তাদের এই সামান্য উপার্জনেই চলে একেকটি সংসার ও অনেকগুলো মুখ।