ঢাকাWednesday , 16 March 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিক্ষিত বেকার যুবদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করছে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি

Link Copied!

হাসান রেজা : দেশের শিক্ষিত বেকার যুবদের অস্থায়ী কর্মসংস্থান বা পরবর্তী পর্যায়ে তাদের স্বকর্মসংস্থানে নিয়োজিত করতে কাজ করছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি। দেশে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সৃষ্টিতে এ কর্মসূচি বেশ বড় ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্রে জানা গেছে, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মসূচিগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশের শিক্ষিত বেকার যুব ও যুব মহিলাদের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০৯-১০ অর্থবছরে কর্মসূচির অধীনে একজন শিক্ষিত বেকার যুব/যুবমহিলাকে ৩ মাস প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় এবং প্রশিক্ষণোত্তর তাকে ২ বছর মেয়াদী অস্থায়ী কর্মসংস্থান দেয়া হয়। প্রশিক্ষণকালীন সময়ে প্রশিক্ষণার্থীরা দৈনিক ১শ’ টাকা এবং কর্মকালীন দৈনিক ২শ’ টাকা হারে ভাতা পান; কর্মভাতা হতে প্রত্যেকে ৪ হাজার টাকা করে মাস শেষে পেয়ে থাকেন এবং অবশিষ্ট ২ হাজার টাকা অস্থায়ী কর্মের মেয়াদপূর্তিতে ফেরত প্রদান করা হয়ে থাকে। কর্মসূচির সুবিধাভোগী যুব/যুবমহিলা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদের মতো সম্প্রসারণ বিভাগে নিয়োজিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি পাইলটিং আকারে শুরু হয়ে ২য় ও ৩য় পর্ব শেষে বর্তমানে ৪র্থ পর্বে বাস্তবায়ন হচ্ছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে পাইলট কর্মসূচি হিসেবে কুড়িগ্রাম, বরগুনা ও গোপালগঞ্জে শুরু হয় এবং এ তিন জেলায় ৫৬ হাজার ৫৪ জন উপকারভোগী ছিলেন; এর মধ্যে যুবক ৩৩ হাজার ৬শ’ ৩ জন এবং যুব মহিলা ২২ হাজার ৪শ’ ৫১ জন। এদের মধ্যে থেকে ২ হাজার ৮শ’ ১১ জন সরকারি-বেসরকারি কর্মসংস্থান এবং ২২ হাজার ৪শ’ ২৬ জন আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ করে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
এরপর ২০১১-১২ অর্থবছরে রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম ছাড়া বাকি ৭ জেলার ৮ উপজেলায় কর্মসূচির ২য় পর্ব শুরু হয়। ১ম পর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে এ পর্বে প্রকৃত বেকার যুবদের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তর জন্য বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা ২৪-৩৫ (১ম পর্বে ছিল ১৮-৩৫) এবং উচ্চমাধ্যমিক ও তদূর্ধ্ব (১ম পর্বে ছিল মাধ্যমিক) পুনঃনির্ধারণ করা হয়। এ পর্বে ৮ হাজার ৮শ’ ১৬ জন যুবক এবং ৫ হাজার ৬শ’ ৫১ জন যুবমহিলা মোট ১৪ হাজার ৪শ’ ৬৭ জন অস্থায়ী কর্মে সংযুক্তি লাভ করেন। এ পর্বটি চলতি বছরের ফেব্রæয়ারি মাসে সমাপ্ত হয়েছে।
ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির ৩য় পর্ব দারিদ্র্য ম্যাপ-২০১০ অনুসারে ১৭টি জেলার ১৭ উপজেলায় ময়মনসিংহের নান্দাইল, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ, শেরপুর সদর, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ, শরিয়তপুরের গোসাইরহাট, কুমিল্লা মনোহরগঞ্জ, চাঁদপুরের হাইমচর, বান্দরবানের থানচি, সিরাজগঞ্জের চৌহাটী, নাটোরের সিংড়া, খুলনার তেরখাদা, বাগেরহাটের চিতলমারী, সাতক্ষীরার শ্যামনগর, মাগুরার মোহাম্মদপুর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ, পিরোজপুরের কাউখালী এবং ঝালকাঠির নলছিটিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। থানচি ছাড়া ১৬টি উপজেলায় মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১৭ হাজার ১১ জন; এর মধ্যে ৭ হাজার ৪শ’ ১৬ জন যুবক এবং ৭ হাজার ৩শ’ ২ জন যুবমহিলা অর্থাৎ ১৪ হাজার ৭শ’ ১৮ জন অস্থায়ী সংযুক্তি লাভ করেন। বান্দরবানের থানচিতে কর্মসূচির কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ উপজেলায় নির্বাচিত সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৯৩ জন। এ পর্বের নির্বাচিত সুবিধাভোগীদের ৩ মাস মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দেশের মোট ২৬ জেলার ৪৩টি উপজেলায় এ কর্মসূচির ৩টি পর্বে ৮৭ হাজার ৫শ’ ৭৩ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে এবং ৮৫ হাজার ২শ’ ৩৯ জনকে অস্থায়ী কর্মসংস্থানে সংযুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির ৪র্থ পর্বের কার্যক্রম ২০টি উপজেলা যথা বরিশালের হিজলা, মুলাদী, গৌরনদী, আগৈলঝড়া, উজিরপুর, বাকেরগঞ্জ, বানারীপাড়া ও বাবুগঞ্জ, সিলেটের গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট, ময়মনসিংহের সদর, ফুলপুর, তারাকান্দা, ধোবাউড়া ও ঈশ্বরগঞ্জ, রংপুরের ডাঙ্গাচড়া, শরিয়তপুরের ভেদরগঞ্জ, জামালপুরের মান্দারগঞ্জ ও ইসলামপুর এবং পিরোজপুরের নাজিরপুরে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দুই বছরের অস্থায়ী সংযুক্তি সমাপ্তকারীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ রয়েছে। প্রথমত, তারা তাদের সংযুক্তিকালীন জমা রাখা ৪৮ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। এছাড়া, তাদের জন্য যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম উন্মুক্ত আছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান ব্যাংক হতে ঋণ সুবিধাও পাবেন; যাতে করে তারা আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন। এছাড়া, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের যোগাযোগ ও সভা আয়োজনের মাধ্যমে কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের প্রণোদনা প্রদানের নির্দেশনা দেয়া আছে।
এ বিষয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিম দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য চিন্তার ফসল। কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, দেশের শিক্ষিত যুব যারা বেকার বসে আছেন তাদেরকে প্রশিক্ষণ প্রদান শেষে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে সেবাধর্মী কাজে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োজিত রাখা এবং এ অস্থায়ী সংযুক্তি শেষে তাদের কিছু পুজি দিয়ে দেওয়া যাতে করে তারা আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে স্বাবলম্বিতা অর্জন করতে পারেন; যাতে তারা নিজেরাই কিছু একটা করতে পারেন। এক্ষেত্রে তারা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ঋণ সুবিধাও পেতে পারেন। ফলে আশা করা যায়, এরপর তারা আর বেকার থাকবেন না। কর্মসূচির প্রশিক্ষণ ও অস্থায়ী সংযুক্তির ফলে তাদের মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ সৃষ্টি হবে, আস্থা ও আত্মবিশ্বাস বাড়বে, কাজ করার মানসিকতা ও প্রবণতা সৃষ্টি হবে, কিছু অভিজ্ঞতাও সঞ্চয় করবেন। ফলে তারা আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ভাগ্যোন্নয়নের একটি ধারায় চলে আসবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।